১৪ দিন শাটডাউনের পরামর্শ জাতীয় কমিটির

১৪ দিন শাটডাউনের পরামর্শ জাতীয় কমিটির

নিউজ ডেস্ক: করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ দিন শাটডাউনের পরামর্শ দিয়েছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে আরও ৬ হাজার ৫৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, যা গত আড়াই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

গত বুধবার রাতে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভা শেষে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে তাদের পরামর্শের কথা জানান।

কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ও জনগণের জীবনের ক্ষতি প্রতিরোধ করার জন্য কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে সারা দেশে কমপক্ষে ১৪ দিন সম্পূর্ন শাটডাউন দেওয়ার সুপারিশ করছে।

এ সময়ে জরুরি সেবা ছাড়া যানবাহন, অফিস-আদালত সবকিছু বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে কমিটির সদস্যরা।

তারা বলেছেন, ‘এ ব্যবস্থা কঠোরভখাবে পালন করতে না পারলে আমাদের যত প্রস্তুতিই থাকুক না কেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অপ্রতুল হয়ে পড়বে।’

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ইতোমধ্যে মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর, গাজীপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ জেলায় কঠোর লকডাউন আরোপ করেছে সরকার। সড়ক, নৌ ও রেলপথে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছে।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাতেও কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

চলতি বছরের ৮ মে বাংলাদেশে প্রথম ডেলটা ভেরিয়েন্ট প্রথম শনাক্ত হয়। প্রথমে ভারতীয় সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলায় ধরা পড়লেও বর্তমানে এ ভেরিয়েন্ট সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা থেকে ৮০ শতাংশ ভাইরাস ডেলটা ভেরিয়েন্ট বলে চিহ্নিত হয়েছে।

এতে আশঙ্কা প্রকাশ করে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি বলছে, ‘কোভিড রোগের বিশেষ ডেলটা প্রজাতির সামাজিক সংক্রমণ চিহ্নিত হয়েছে ও দেশে ইতোমধ্যেই রোগের প্রকোপ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রজাতির জীবাণুর সংক্রমণ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। স্বাস্থ্য অধিদ্প্তরের তথ্য বিশ্লেষণে সারা দেশেই উচ্চ সংক্রমণ, পঞ্চাশোর্ধ্ব জেলায় অতি উচ্চ সংক্রমণ লক্ষ্য করা যায়।’

এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের নানা কর্মসূচি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মনে করছেন কমিটির সদস্যরা।

তারা বলছে, ‘রোগ প্রতিরোধের জন্য খণ্ড খণ্ড ভাবে গৃহীত কর্মসূচির উপযোগিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অন্যান্য দেশ বিশেষত পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের অভিজ্ঞতা কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া এর বিস্তৃতি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। তাদের মতামত অনুযায়ী যেসব স্থানে পূর্ণ শাটডাউন করা হয়েছে সেখানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ হয়েছে।’

কমিটি বলেছে, করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য ৮০ শতাংশের বেশি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া প্রয়োজন।

বিদেশ থেকে টিকা সংগ্রহ, লাইসেন্সের মাধ্যমে দেশে টিকা উৎপাদন ও নিজস্ব টিকা তৈরির জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে গবেষণা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টার প্রতি কমিটি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।