বিজয়নগরে ভূমিদস্যুর কবলে বিধবার বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাট

বিজয়নগরে ভূমিদস্যুর কবলে বিধবার বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাট
বিজয়নগরে ভূমিদস্যুর কবলে বিধবার বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাট

মোঃ মনিরুজ্জামান মনির, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকায় মৃত রেনু মিয়ার স্ত্রী রফিয়া বেগমের (৪৯) উপর হামলা, বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, একই গ্রামের প্রতিবেশী আব্দুল গণি মিয়ার ছেলে ধন মিয়া (৫১) গত ১৫ নভে’২০ইং তারিখে রফিয়া বেগমের কাছ থেকে সি.এন.জি ক্রয়ের কথা বলে ৩ মাসের মধ্যে ফেরত দেয়ার শর্তে ২,৭০,০০০ টাকা হাওলাত হিসেবে নেয় ২০০ টাকার ষ্ট্যাম্পে অঙ্গিকারনামা করে।

কিন্তু ৩ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর ভূমিদস্যু পর সম্পদ লোভী ধন মিয়া টাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করলে কথা কাটাকাটির একপর্যায় অসহায় রফিয়া বেগম ও তার মা ফুলবানু বেগম (৭০) এর উপর চড়াও হয়ে ধন মিয়া, কবির মিয়া, সেলিম মিয়া, আল-আমীন, জিয়াসমিন গংরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে রফিয়া বেগমের বসতঘর ভাংচুর করে ঘরে থাকা নগদ ৪০,০০০ টাকা, চাউলের ড্রাম, গ্যাস সিলিন্ডার, গ্যাসের চুলা, ৪টি এন.আই.ডি কার্ড, একটি বিধবা ভাতার পাশ বই, ১টি বয়স্ক ভাতার পাশ বই, রফিয়ার মেয়ের বিবাহের কাবিন নামার কাগজসহ ঘরে থাকা সব মালামাল লুটতরাজ করে নিয়ে যায়।

টিনের ঘরসহ লুটপাটকৃত মালামালের বর্তমান মূল্য প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা। ধন মিয়ার মেয়ের স্বামী সন্ত্রাসী সেলিম শ্বশুরের সকল অন্যায়, অপকর্মের সহযোগীতা করে থাকে বলে এলকাবাসী জানায়। রফিয়া বেগম ধন মিয়ার আপন ভাই আবুল বশর মিয়ার কাছ থেকে দেড় শতক জমি ক্রয় করে তার বৃদ্ধ মাকে নিয়ে বসবাস করার জন্য। সেই জমির উপরও ধন মিয়ার কু-নজর পরে এবং দেড় শতক জমি দখলের জন্য পায়তারা করছে।

সন্ত্রাসীদের আক্রমণ থেকে বাঁচার আশায় রফিয়া বেগম গত ১২/০৫/২০২১ইং তারিখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ১৬৯/২১ইং। মামলা করেও চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে রফিয়া বেগমের। ধন মিয়া গংরা প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।

এ অবস্থায় অসহায় বিধবা রফিয়া বেগম ন্যায় বিচার পেয়ে নিরাপদ জীবন-যাপন করার প্রত্যাশায় স্থানীয় আইন প্রনয়নকারী উর্দ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পি.বি.আইয়ের পুলিশ পরির্দশক মোঃ মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলার কাগজ-পত্র আছে, সঠিকভাবে তদন্ত ও যাচাই বাছাই করে প্রতিবেদন দেয়া হবে।