কুমিল্লায় গরু মোটাতাজাকরণ বিষ বানিজ্যে শংকিত মানুষ

কুমিল্লায় কোরবানি গরু মোটাতাজাকরণ বিষ বানিজ্যে শংকিত মানুষ
কুমিল্লায় কোরবানি গরু মোটাতাজাকরণ বিষ বানিজ্যে শংকিত মানুষ

মশিউর রহমান সেলিম, লাকসাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উপজেলায় আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে গবাদী পশু মোটাতাজাকরনের নামে অবৈধ বিষ বানিজ্য চলছে। এতে বাড়ছে এ অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং চলমান মহামারী করোনার আতংকে শংকিত মানুষগুলো। 

একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলা গুলোর কতিপয় গরু খামারী অবৈধ বিষ বানিজ্যে মোটা অংকের টাকার লাভবান হবার টার্গেট নিয়ে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। এলাকার গৃহস্থ, খামারী ও ব্যবসায়ী এবং ছোট বড় খামারীরা গরু মোটা তাজাকরন করতে ব্যবহার করেছেন দেশী-বিদেশী কোম্পানীর হরেক রকম ইনজেকশন, ট্যাবলেট ও পাউডার। ওইসব গবাদীপশু মোটাতাজাকরনে মারাত্মক ক্ষতিকর বিভিন্ন ঔষধ প্রয়োগ যেন লোকজনের রুটিন ওয়ার্কে পরিনত হয়েছে।

অথচ ওইসব মোটাতাজাকরন ঔষধ ব্যবহার কিংবা প্রয়োগে বৈজ্ঞানিক ধারনা ও প্রচলিত নিয়মকানুনের সাথে কোন মিল নেই। চলমান বর্ষাকালের শুরুতে এ অঞ্চলের বেশীর ভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা ফলে সবুজ ঘাস পাওয়া যায় না। তার উপর গো-খাদ্যোর মূল্য বৃদ্ধি, ভেজাল খাদ্য ও সংকট তীব্রভাবে দেখা দেয়। ক্যাটেল কেয়ার, ইনজ্যাইভিট, এনোরা, সেটরন, ক্যাটাপস, বার্নাফেট, বায়োমিক্স, ভারমিক, ফেরিয়াক্টনিট ট্যাবলেট, কৃমিনাশক ঔষধ ও এডি-৩সহ বিভিন্ন ঔষধ ব্যবহার করতে দেখা যায়। অথচ উপজেলা মানবসম্পদ দপ্তর কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অতিমূখ্য হলেও এ ব্যাপারে রহস্যজনক কারনে তারা নিরব দর্শক।

আরও জানায়, এছাড়া চলামান মহামারী করোনায় ভারত আক্রান্ত হলেও সীমান্তের প্রায় অর্ধশতাধিক চোরা পথ দিয়ে আসা গরুগুলো বিভিন্ন রোগবহনকারী জীবানু নিয়ে এলাকার লোকজন মারাত্মক আতংকে আছে। করোনা এবং অ্যানথাক্স এমন একটি রোগ এ রোগের জীবানু দীর্ঘদিন পরও আবার নতুন করে বিস্তার ঘটাতে পারে। গরু মোটাতাজাকরনে ষ্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ সাধারনতঃ হাঁফানী রোগে চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

অথচ ডেক্সমেথাসন, ডেকাসন, বেটামেথাসন ও প্যারিয়্যাকটিন জাতীয় ভিটামিন অতিমাত্রা ব্যবহারেই গরু মোটা ও তাজায় পরিনত হয়ে উঠে বলে ওইসব পন্য ব্যবহারে ধুম পড়েছে এলাকার গরু খামারী ও ব্যবসায়ীদের মাঝে। 

স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, আসন্ন কোরবানী ঈদে বিভিন্ন হাটবাজারে এ সব গরু স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে বেচাকেনা করে থাকেন বড় বড় গরু ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন গরু বাজার গুলোতে শান্তিপূর্ন ও নিরাপত্তা বিধানে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার্থে সকল প্রস্তুতি নিচ্ছে। উপজেলা দুটোর বিভিন্ন হাট-বাজারে যাতে দেশী-বিদেশী গরু ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে গবাদীপশু বেচাকেনা করতে পারে।