ফাইজারের টিকায় কুয়েত ফিরতে চায় প্রবাসী শ্রমিকরা

বক্তব্য রাখছেন আটকে পড়া কুয়েত প্রবাসী ফোরামের সদস্যরা
বক্তব্য রাখছেন আটকে পড়া কুয়েত প্রবাসী ফোরামের সদস্যরা

সুমন দত্ত: ফাইজারের টিকা দিয়ে কুয়েতে ঢোকার সুযোগ করে দিতে বলেছেন বাংলাদেশে আটকে পড়া কুয়েতি প্রবাসীরা। রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে এ দাবি জানায় তারা। এদিন আটকে পড়া কুয়েতি প্রবাসী ফোরামের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য সাইফুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম মারুফ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে খোলা চিঠি পড়েন মারুফ।

মারুফ বলেন, বাংলাদেশে কুয়েতি প্রবাসীরা করোনার কারণে দেশে এসে আটকে গেছে। তাদেরকে ফেরত নিচ্ছে না কুয়েত সরকার। কুয়েতে ফিরতে তাদের ওপর কিছু শর্ত আরোপ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে করোনার ভ্যাকসিন নেয়ার শর্ত।
সম্প্রতি কুয়েত সরকার তার দেশে তিন ধরনের টিকার অনুমোদন দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ফাইজার, অক্সফোর্ড-অস্ট্রাজেনকা ও জনসন। এই তিন টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করলেই কুয়েতে ফিরতে পারবে প্রবাসী শ্রমিকরা। এজন্য তারা সরকারের কাছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব টিকার যেকোনো একটি দেবার অনুরোধ করেছেন।

সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন বাংলাদেশে অবস্থানের কারণে অনেক প্রবাসী শ্রমিকের আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। অনেকের আকামার মেয়াদ আছে। টিকা না নেয়ার কারণে তারা কুয়েতে ফিরতে পারছেন না।

এছাড়া টিকা নিতে জাতীয় পরিচয় পত্র লাগে। কুয়েত প্রবাসী অনেকের জাতীয় পরিচয় পত্র নেই। সেক্ষেত্রে পাসপোর্টকে বিকল্প হিসেবে আমলে নিয়ে টিকা প্রদান করতে সরকারকে অনুরোধ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাইফুল ইসলাম বলেন, যারা কুয়েতে ফিরতে পারছে না তাদের সংখ্যা ১২ থেকে ১৪ হাজার হবে। তবে প্রকৃত সংখ্যা কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস বলতে পারবে। তাদের কাছে ৭০০ মতো শ্রমিকের তালিকা আছে যাদের আকামার মেয়াদ আছে। টিকা নিলে কুয়েতে ফিরতে পারে।

মারুফ বলেন, কুয়েতের নাগরিকরা ফাইজারের টিকা নিচ্ছেন। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ ফাইজারের টিকা যেন তাদেরকে দেয়া হয়। তবে চীনের টিকা কুয়েত সরকার অনুমোদন দেয়নি। এজন্য চীনের টিকার বিষয়ে তাদের কোনো দাবি নাই। সংবাদ সম্মেলনে আটকে পড়া কুয়েত প্রবাসী শতাধিক শ্রমিক উপস্থিত ছিল। এদের অনেকেই গত ১৫ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কুয়েত ফিরে যেতে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিল। 

ঢাকানিউজ২৪ডটকম