পরমাণু অস্ত্র মুক্ত বিশ্ব গড়তে রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা প্রয়োজন: রুশ বিশেষজ্ঞ

পরমাণু অস্ত্র
পরমাণু অস্ত্র

নিউজ ডেস্ক:   রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে যথাক্রমে ৬৩৭৫ টি এবং ৫৮০০ টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, যা রীতিমতো উদ্বেগের বিষয়

বিশ্বে শান্তির বার্তা বয়ে বেড়ানোর মতো সংস্থা ও রাষ্ট্রের সংখ্যা অনেক হলেও, এখনও উদ্বেগজনক ভাবে রয়ে গিয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ। শুধুমাত্র রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণেই বর্তমানে যথাক্রমে ৬৩৭৫ টি এবং ৫৮০০ টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।

এমন অবস্থায় পারমাণবিক অস্ত্র মুক্ত বিশ্ব গড়তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পরাশক্তি গুলোর রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা। এমনটিই মনে করেন, ‘স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ এর পারমাণবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং অপসারন কর্মসূচির প্রবীণ গবেষক ডক্টর পেটর টপিকচানভ।

ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্কের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি বলেন, “রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্রের উপর পরীক্ষা নিরিক্ষা নিষিদ্ধ করেছে। অন্যান্য রাষ্ট্র চাইলে রাশিয়ার সঙ্গী হিসেবে এমন কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারে। যেসব দেশ আর্ত-মানবতার স্বার্থে পারমাণবিক অস্ত্র মুক্ত সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়তে চায়, তাঁরা এখানে যুক্ত হতে পারে। আরও অনেক উপায়ই রয়েছে পারমানবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের। তবে, এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা।”

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের মধ্যে হওয়া সাম্প্রতিক বৈঠকেও পারমানবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিও উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে, যার নাম ‘নিউ স্টার্ট’ বা স্ট্র্যাটেজিক আর্মস রিডাকশন ট্রীটি। এর ফলে উভয় দেশই আক্রমণাত্মক অস্ত্রের সংখ্যা আরও হ্রাস করতে পদক্ষেপ নিবে এবং মজুদ ভান্ডার কমিয়ে আনবে। চুক্তিটি ঐতিহাসিক প্রাগ শহরে ২০১০ সালের ৮ এপ্রিল স্বাক্ষরিত হয় এবং সরকারী অনুমোদনের পর ২০১১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী থেকে কার্যকর হয়। চুক্তিটির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হবার কথা থাকলেও উভয় পক্ষের সম্মতিতে তা ২০২৬ পর্যন্ত বর্ধন করা হয়েছে।

চুক্তিটির মেয়াদ সম্প্রসারণের পর এক যৌথ বার্তায় রুশ এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, “‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তিটির সাম্প্রতিক বর্ধন স্পষ্ট বার্তা দেয় যে আমরা পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং নিরস্ত্রীকরণে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, পারমাণবিক অস্ত্র কখনো যুদ্ধ জয়ের হাতিয়ার হতে পারেনা। এটি ব্যবহার করাও উচিত নয়। আমরা ভবিষ্যতে যেকোনো কৌশলগত দ্বিপক্ষীয় বিষয় সংলাপের মাধ্যমে সমাধানে সচেষ্ট হবো। এর মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকি হ্রাসে সমর্থ হবো।”

এ প্রসঙ্গে ডক্টর পেটর টপিকানকভ বলেন, “নিউ স্টার্ট চুক্তিটি পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া নিয়েছে, তা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য একটি সময়সীমা তৈরী করেছে। উভয় নেতৃত্ব তাঁদের রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। আরও ব্যপক মাত্রায় ফল অর্জনের জন্য আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে। তাছাড়া, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নিউ স্টার্ট চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, “প্রাপ্ত তথ্য মতে, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র যথাক্রমে ১৬২৫ টি এবং ১৮০০ টি পারমাণবিক অস্ত্র সম্মুখ সমরে ব্যবহারের জন্য মোতায়েন করে রেখেছিলো। বলা বাহুল্য যে, এই স্বল্প সংখ্যাও পুরো পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রকে উলটপালট করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। এই দুটো দেশ মিলে অসংখ্য নতুন নতুন প্রযুক্তি, নিত্য নতুন অস্ত্র প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো অনেক কিছু পৃথিবীকে উপহার দিয়েছে। কিন্তু সামরিক খাতের উন্নয়নে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।”

প্রবীণ এই বিশেষজ্ঞ বলেন, “রাশিয়া নিজেদের অস্ত্রাগার আধুনিকীকরণের পর্যায়ে রয়েছে। ৮০ শতাংশ অস্ত্রাগারকে আধুনিক করা হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের অস্ত্রাগারকে আধুনিক করে গড়ে তুলবে। তাছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রেও কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে পারলে সামনে এর সুফল অপেক্ষা করছে।”

তবে পরাশক্তি দেশগুলো যখন পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বা কমাতে সচেষ্ট, সেখানে উলটো রাস্তায় হাঁটছে চীন। পরমাণু অস্ত্রের মজুদ বাড়িয়েই চলেছে তাঁরা। এ প্রসঙ্গে টপিকচানভ বলেন, “চীন ইতোমধ্যে প্রথমে ব্যবহার নয় পলিসি গ্রহণ করেছে এবং ব্যক্ত করেছে। আর তাঁরা কেনোই বা পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ বাড়াচ্ছে, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ধারণা পাওয়াটা কঠিন, কেননা তাঁদের বর্তমান বিদেশ নীতি বেল্ড এন্ড রোড উদ্যোগকে কেন্দ্র করেই। তবে বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে চীনের ভূমিকা রহস্যজনক।”

সূত্র: ইন্ডিয়ান নিউজ নেটওয়ার্ক