শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিন, করোনা নিয়ে চলতে শিখুন

চীনে নতুন করে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ
চীনে নতুন করে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ

সুমন দত্ত

দীর্ঘদিন দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ বন্ধ। অথচ দেশের সবকিছুই স্বাভাবিক গতিতে চলছে। সরকারি অফিস আগের মতোই চলছে। করোনার শুরুতে মার্কেট শপিংমল ইত্যাদি বন্ধ ছিল। এখন খোলা। গণ পরিবহনও কিছুদিন বন্ধ থেকে আবার চালু হয়েছে। দেশের পুঁজি বাজারের কেন্দ্রস্থল মতিঝিল শেয়ার মার্কেটও চালু রয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো এসব স্থানে কি জনসমাগম হচ্ছে না? উত্তর হচ্ছে। তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে কোন যুক্তিতে।

দেশের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি গুলোতে প্রতিদিন কয়েক হাজার লোক মিছিলের মতো ঢোকে, আর মিছিলের মতো বাহির হয়। কাজ করে একটি বিশাল হল ঘরের মতো আবদ্ধ পরিবেশে। গার্মেন্টস মালিকরা সরকারকে করোনার কোনো বিধি নিষেধ তাদের ফ্যাক্টরিগুলোর ওপর আরোপ করতে দেয়নি। এজন্য তারা সরকারকে দেশের অর্থনীতির লাভ ক্ষতি দেখায়। সরকারও চাপে পড়ে তাদের ছাড় দেয়। গার্মেন্টস খোলা রাখার কারণে করোনা ছড়িয়ে পড়ছে এমন নেতিবাচক প্রতিবেদন কোনো দৈনিক করেনি।

তাহলে দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ খুলে দিলে করোনা কি ছড়িয়ে পড়বে? ২৪ ঘণ্টা খোলা রেখে গার্মেন্টস যদি করোনা না ছড়ায় তাহলে দিনের ৮-৯ ঘণ্টা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখলে কি সর্বনাশ হবে? সেটা কারো কাছে বোধগম্য হচ্ছে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পিছনের সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য আছে। এমন ধারণা অনেকের। ছাত্রদের নিয়ে যারা রাজনীতি করেন তাদের ধারণা ছাত্র আন্দোলনের ভয়ে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে না। অথচ দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দাপট সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের।

তাহলে বন্ধ রাখছে কোনো যুক্তিতে? বলা হচ্ছে, শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। অথচ করোনায় শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার খবর নেই। আর আক্রান্ত হলেও শিশুদের সহজেই রোগমুক্তি হচ্ছে। তাদের ওপর প্রয়োগ হচ্ছে না কোনো ওষুধ। তাহলে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে এই মেকি আতঙ্ক কেন? কিন্ডার গার্ডেন স্কুলগুলো বন্ধ থাকার কারণে দেশের শিশুরা ঝুঁকে পড়ছে ভিডিও গেমসের মতো খেলায়। এতে তাদের চোখের ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। মন মানসিকতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আরেক শ্রেণির তরুণ সিগারেটের মতো নেশায় ডুবে যাচ্ছে। এভাবে লেখা পড়া বাদ দিয়ে স্কুলের ছেলে মেয়েরা বখে যাচ্ছে। স্কুল কলেজ খোলা থাকলে শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। কোচিং গিয়ে তাদের পড়তে হতো। সময়ই পেত না ভিডিও গেমস ও সিগারেট ফুকতে। করোনার অজুহাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ছাত্র জীবন ধ্বংস করে দিচ্ছে এদেশের সরকার।

এক কালে প্রধানমন্ত্রীকে সবজি সাপ্লাই দেয়া ব্যক্তি আজকের দিনের শিক্ষা মন্ত্রী। গণমাধ্যমে বলে বেড়ান বেশিরভাগ অভিভাবক স্কুল কলেজ বন্ধ রাখার পক্ষে। অথচ মাঠ পর্যায়ে যতজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা হয়েছে সবাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য নিজেদের বিরক্তি জানিয়েছেন। অভিভাবকরা মনে করেন সরকার স্বাস্থ্য বিধি মেনে স্কুল কলেজ খুলে দিতে পারে। যার জ্বর হবে সে স্কুলে আসবে না। এটা আগেও ছিল। যে সুস্থ সে কেন স্কুলে যাবে না? গার্মেন্টসের মতো স্কুলও খুলে দিতে পারে সরকার। কিংবা ক্লাস কমিয়েও স্কুল খোলা রাখতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় গুলো খুলে দিয়ে ছাত্রদের শিক্ষা জীবন ফের চালু করতে পারে।

করোনার ভয়ে যে বাসা থেকে বের হবে না। সে বাসায় থাকুক। আরা যারা বাইরে যেতে চায় তারা কোনো যুক্তিতে বাসায় বসে থাকবে। করোনা ছোঁয়াচে রোগ হলে রাস্তায় ঘুমানো লোকজন কীভাবে বেচে আছে? আর কেন ঘর-বন্দি মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন? শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় জেলা ও গ্রামের স্কুল গুলোর মাঠে গড়ে উঠেছে সবজি ক্ষেত। অথচ স্কুল খোলা থাকলে সেখানে খেলাধুলা হতো। এতে তরুণ তরুণীদের শরীরে শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠতো। যা করোনার বিরুদ্ধে যথেষ্ট কার্যকর। এখন ঘরে বসে কি শক্তিশালী অ্যান্টিবডি উৎপাদন করা যায়?

তাই অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হোক। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা করা উচিৎ না। সবাই লেখা পড়া শেষ করে বিসিএসের জন্য বসে থাকে না। অনেকে বিদেশে যেতে চায়। সেখানে সেটেল হতে চায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে এসব সম্ভব নয়। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে ভাত দেয়ার ক্ষমতা নাই, কিল মারার গোসাই। সরকার শিক্ষার্থীদের ছাত্র জীবন আটকে দিয়ে ওই কাজটাই করছে। তারা না পারছে তরুণদের চাকরি দিতে,না পারছে বাইরে চাকরির সন্ধান করার সুযোগ তৈরি করে দিতে।

সবশেষে বলতে চাই, করোনা নিয়ে আতঙ্ক নয়। করোনা আছে এবং ভবিষ্যতে থাকবে। করোনা নিয়ে চলতে হবে আমাদের। অন্যসব রোগের মতো করোনাও একটা রোগ। করোনার চাইতেও ভয়াবহ অনেক রোগ আছে। সেগুলোতে মৃত্যুর হার করোনার চাইতেও বেশি। সবকিছু বন্ধ করে দেয়া সমাধান নয়। সবকিছু খুলে দিন জীবন যাত্রা স্বাভাবিক করুন। সবাইকে বাঁচতে দিন।

লেখক: সাংবাদিক   তারিখ: ১৭ জুন ২০২১