আড়াই কোটি দরিদ্র মানুষের কথা বাজেটে নেই: মেনন

আড়াই কোটি দরিদ্র মানুষের কথা বাজেটে নেই: মেনন
আড়াই কোটি দরিদ্র মানুষের কথা বাজেটে নেই: মেনন

নিউজ ডেস্ক:  সংসদে প্রস্তাবিত (২০২১-২২) অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন স্বাস্থ্যখাতের কঠোর সমালোচনা করেছেন। দেশে করোনা টিকা আসার অনিশ্চয়তার কথাও বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়িত না হওয়ার অভিযোগ তোলেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি হেফাজত ইসলামেরও কঠোর সমালোচনা করেন। এর আগে সকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

আমলাগোষ্ঠীর চক্রে প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াস নিস্ফল:  রাশেদ খান মেনন বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী যে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তা বিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছে। কিন্তু দেশে অতি ধনী সামরিক-বেসামরিক আমলাগোষ্ঠী ও দুর্নীতিবাজদের চক্রে প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রয়াস অনেকখানিই নিস্ফল হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষের জীবন রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা স্বাস্থ্যখাতের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, আমলাতান্ত্রিক খবরদারিত্বে বাস্তবে রূপ নিতে পারেনি। করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যখাত বিশেষজ্ঞদের পরিবর্তে আমলাতান্ত্রিক নির্দেশে পরিচালিত হওয়ায় কি ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল তা সকলেই জানেন। চোখের সামনে মাস্ক, পিপিই, করোনা টেস্ট নিয়ে জাল-জালিয়াতি ঘটেছে। একজন শাহেদ, একজন সাবরিনা গ্রেপ্তার হয়েছে, কিন্তু যারা সচিত্র চুক্তি স্বাক্ষর করল, কাজ দিল তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে।

টিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি:  রাশেদ খান মেনন বলেন, বাংলাদেশ প্রথমেই টিকা সংগ্রহ করে সফলভাবে গণটিকা কার্যক্রম শুরু করেছিল। কিন্তু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে টিকা সরবরাহের পরিণতি সবাই দেখেছে। টিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি। আগামী মাসগুলোতে টিকা আসবে তার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। দেশের ১২ কোটি মানুষের জন্য টিকা ব্যবস্থা করতে না পারলে করোনা সংক্রমণ রোধ হবে না। এই টিকা সরকারকেই সংগ্রহ করতে হবে। কোন মধ্যস্বত্বভোগী অথবা বানিজীকরণের জায়গা নাই। দেশে টিকা উৎপাদনের যে সক্ষমতা আছে তাকে কাজে লাগাতে হবে। অর্থমন্ত্রী বাজেটে টিকাদানের কোনো রোডম্যাপ দেননি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আড়াই কোটি দরিদ্র মানুষের কথা নেই বাজেটে:  তিনি বলেন, করোনাকালে আড়াই কোটি মানুষ যারা দরিদ্র হয়ে গেলেন বাজেটে তাদের জন্য কিছু নেই। করোনায় প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা প্রস্তাবে ৩৫ ভাগ অর্থ বিতরণ হয়নি। যে গরিব মানুষের জন্য দুই দফায় ২৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে তার এক তৃতীয়াংশ অব্যয়িত, তারা পায়নি।