অভ্র’ যাত্রায় ভৈরবী

অভ্র' যাত্রায় ভৈরবী
অভ্র' যাত্রায় ভৈরবী

 

নিউজ ডেস্ক : এক বছর পদার্পন করলো ভৈরবী। এটি একটি দেশীয় সংস্কৃতি গবেষণা এবং গীতরঙ্গ পরিবেশনা কেন্দ্র। তারা কাজ করছে দেশের সংস্কৃতিকে তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার লক্ষ্যে।

ভৈরবীর প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস নবী ফয়সাল। যিনি একজন সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিসেবে আছেন শাহীদুজ্জামান খান শাহী। তাদের হাত ধরে এগিয়ে চলছে ভৈরবী। তাদের উদ্দেশ্য দেশের হারিয়ে যেতে চলা সংস্কৃতি গুলোকে এই তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে টিকিয়ে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করা। সেই লক্ষ্যে বর্তমানে দেশের ৮২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠানটি তরুণদের মাঝে দেশীয় সংস্কৃতি নিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে। তারা বিগত বছর ধরে দেশের লোকজ সংস্কৃতির উপাদানগুলো নিয়ে গবেষণা করে চলেছে। যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য দারুণ একটি বিষয় হতে যাচ্ছে।

তাদের প্রথম বর্ষপূর্তিতে বাংলা বর্ণমালার প্রথম অক্ষরের সাথে মিল রেখে বর্ষপূর্তি উৎসবের নামকরণ করেছে “অভ্র’যাত্রায় ভৈরবী” । লোকসংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যকে এবারের আয়োজন তারা উৎসর্গ করছেন।
তাদের বর্ষপূর্তি গুলোকে সামনে রেখে একটি চমৎকার উদ্যোগ তারা নিয়েছে। প্রতি বছর তারা দেশের নির্দিষ্ট কোনো জেলার বিখ্যাত এবং হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি, রীতি-রেওয়াজ, নাচ, গান, খাবার, পোশাক-পরিচ্ছেদ সহ নানান বিষয় তুলে ধরবেন। তারই ধারাবাহিকতায় তাদের প্রথম বর্ষপূর্তির সকল আয়োজন হতে চলেছে বৃহত্তর “সিলেট” জেলাকে কেন্দ্র করে।

দেশীয় সংস্কৃতি সমৃদ্ধ সিলেট জেলায় আছে অনেক ঐতিহাসিক রসদ। আঞ্চলিক ছড়া, ধাধা, ধামাইল গান, রাধা রমনের গান, হাছন রাজার গান, শাহ আব্দুল করিমের গান, মণিপুরী নৃত্য, শুনাভানের পুথি, শীতলপাটি, বেতের কারুশিল্প সহ আরো অসংখ্য ইতিহাসের সাক্ষী এই সিলেট জেলা। ভৈরবীর আয়োজনে উঠে আসবে এর অনেকটুকুই।

করোনা পরিস্থিতির জন্য এ বছর অনলাইনেই তারা তাদের এই বর্ষপূর্তি আয়োজন করবে। তাদের আয়োজন শুরু হবে কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যকে স্মরণ করে এবং তার বিষয়ে প্রামাণ্যচিত্র পরিবেশনের মাধ্যমে। এবারের আয়োজনের বিশেষ বক্তব্য ও শুভেচ্ছা বার্তায় থাকবেন বাংলাদেশের একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত।

তথ্যবহুল আলোচনা হবে সিলেট জেলা নিয়ে। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন অংশে তাদের এই আয়োজনটিকে বিভাজিত করা হয়েছে। যেখানে সিলেট জেলাকে কেন্দ্র করে নানান ভিডিও চিত্র, গান, গল্প ও ইতিহাস নিয়ে ভিন্ন রকম্ আয়োজন করা হবে। যা তাদের প্রতিষ্ঠা দিবস তথা ১২ই জুন নিজস্ব ফেইসবুক পেইজ (https://www.facebook.com/bhoirobee) থেকে সম্প্রচারিত হবে।
এগিয়ে চলুক ভৈরবী। তাদের হাত ধরে আবারো পুনরুজ্জীবিত হোক দেশীয় সংস্কৃতি।