বাজেট ২০২১-২০২২: বিআইএসআর-এর প্রতিক্রিয়া

উদ্যোক্তা বান্ধব বাজেট প্রয়োজন
উদ্যোক্তা বান্ধব বাজেট প্রয়োজন

ড. খুরশিদ আলম

আগামী অর্থবছরে সরকারের আয় করা কঠিন হবে নাকি ব্যয় করা কঠিন হবে? যারা আয়ের দায়িত্বে থাকবেন তারা বলবেন, আয় করা কঠিন হবে আর যারা ব্যয়ের দায়িত্বে থাকবেন তারা বলবেন ব্যয় করা কঠিন হবে। তবে তুলনা করলে বলতে হবে বরাদ্দের টাকা ব্যয় করা কঠিন, কারণ এখানে অনেক অনিশ্চিত বিষয় থাকে। ব্যয় করার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সরকার বিগত বছরগুলোতে কিছু কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন যেমন মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা, টেন্ডার প্রক্রিয়াকে সহজ করা, টেন্ডারের সময় কমিয়ে আনা, প্রকল্পের সংখ্যা বাড়িয়ে প্রকল্পের আকার ছোট করা, ফাস্ট ট্রেক প্রকল্পের বিশেষ মনিটরিং করা, ভূমি অধিগ্রহণের জন্য জমির দাম তিনগুণ করা, ইত্যাদি।

এ ছাড়া সরকারের আয় করার যে জনবল, তার চেয়ে বহুগুন বেশি দরকার হয় সরকারের ব্যয় করার জনবল। তারপর যোগ্য কর্মকর্তার অভাবতো রয়েছেই। এ ছাড়া প্রকল্প ভিত্তিক জনবল নিয়োগ দেয়ার সমস্যা থাকেই, বিদেশী বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সমস্যা ইত্যাদি রয়েছেই। তবে যে সব প্রকল্পের মনিটরিং শক্ত হাতে করা হয় সেগুলোর বাস্তবায়ন অপেক্ষাকৃত দ্রুত হয় কিন্তু তারপরও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি অব্যাহত রয়েছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো কিছু অবাস্তব পরিকল্পনা। যেমন, প্রকল্প পরিকল্পনা করার সময় কোনো একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে দরকার যদি হয় ৫ বছর সেখানে শুরুতে রাখা হয় ৩ বছর। সম্ভাব্য ঝুঁকি বা অনিশ্চয়তা কি কি থাকতে পারে সেগুলো বিবেচনায় না নিয়ে তা ৩ বছর করা হয়। ফলে তা এমনকি কোনোভাবে ৩ বছরে শেষ হয় না। তখন তার জন্য দ্বিতীয় বা তৃতীয় দফায় সংশোধনী তৈরী করতে হয়।

সরকার আয় করে ব্যয় করেনা, সরকার যতটা ব্যয় করতে পারবে মনে করে তার সাথে মিল রেখে আয় করার চেষ্টা করে। অনুন্নত দেশের বাজেটে সরকার সব সময় ঘাটতি বাজেট করে যাতে সেখানে অনেক বেশি টাকা অর্থনীতিতে প্রবেশ করানো যায় এবং তা থেকে বেশি প্রবৃদ্ধি করা যায়। তা না হলে সে সব দেশে সাধারণ মানুষের আয়ের ওপর একটি বাড়তি চাপ তৈরী হয় এবং এক ধরনের মন্দের চক্র (ভিশাস সার্কেল) তৈরী হয়।

এ বছরের বাজেটকে ‘জীবন জীবিকার বাজেট’ আখ্যা দিয়ে সরকার সর্বমোট ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার একটি বাজেট ৩ জুন ঘোষণা করেন যা মোট জিডিপির ১৭.৫%। আর এ বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। বছরটির জন্য রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকা বা জিডিপির ১১.৩%। বর্তমান বছরে ব্যক্তি শ্রেণীর মোট করদাতা হচ্ছে ২৫ লাখ ৪৩ হাজার যা সম্ভাব্য করদাতার হিসাবে খুবই কম।

তাই আগামী অর্থ বছরে মোট ঘাটতি বাজেট হচ্ছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা যা জিডিপির ৬.২%। ঘাটতি মোকাবেলায় বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। আবার অভ্যন্তরীণ এ ঋণ নেয়া হবে ব্যাংক থেকে এবং সঞ্চয় পত্রের মাধ্যমে। এতে ব্যাংকের আয় যেমন বাড়বে তেমনি ব্যক্তির ক্ষেত্রে আয় নিরাপত্তাও বাড়বে যা পরোক্ষভাবে বিনিয়োগের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা বাড়াবে। আগামী বছরের জন্য এ সিদ্ধান্তের কিছু অনুকুল দিক রয়েছে যেমন, ব্যক্তির খাতে ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ কম হবে, ফলে ব্যাংক থেকে সরকার বেশি ঋণ নিবে এবং সেকারণে ব্যাংকের আয় থাকবে। আর তার ফলে ব্যাংকে ন্যূনতম একটি সুদের হার ধরে রাখা সম্ভব হবে। ফলে ব্যাংকে ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা। তবে এটি সরকারের ব্যয় বাড়াবে এবং পরোক্ষভাবে সরকারের বিনিয়োগ করার ক্ষমতাকে কমিয়ে দেবে। তাই সরকারকে একটি কঠিন হিসাবের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, অর্থাৎ একদিকে সস্তা বিদেশী বিনিয়োগ আবার অন্যদিকে বেশি সুদে দেশী বিনিয়োগ করার বিষয়।

আগামী অর্থবছরে সরকারী ব্যয় ধরা হয়েছে জিডিপির ১৭.৫% আর দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলো তা করে ২৪-২৫%। এমনকি ভিয়েতনামও তাদের জিডিপির ২৩% মতো বাজেটে বরাদ্দ রাখে। বর্তমানে ভিয়েতনামের ঘাটতি মোট জিডিপির ৫%-এর কাছাকাছি হলেও তারা ২০২৬ সালে মধ্যে তা জিডিপির ৩% নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছে। অর্থাৎ এখানে আমাদের বাজেট তৈরীর মান উন্নয়নের অনেক সুযোগ আছে এবং অনেক কিছু করণীয় আছে।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ইমেজ বিল্ডিং করা খুব দরকার। আর এর প্রধান দুটি দিক হচ্ছে খেলা-ধুলা এবং জ্ঞান চর্চা। কিন্তু আমরা উল্টো পথে হাটছি বলে মনে হচ্ছে। আগামী বছরের বাজেটে ক্রীড়া উন্নয়ন খাতে মাত্র ২৭৯ কোটি টাকা রাখা হয়েছে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে বাজেট অত্যন্ত হতাশাজনক। এখানে কেবল কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ থাকলেও যেমন বারি, ব্রি, সার্বিকভাবে গবেষণার বরাদ্দ কিন্তু বাড়ানো হয়নি। একথা ধারণা করার কোনো কারণ নেই যে, আমাদের জন্য বিদেশীরা গবেষণা করে রেখে দেবে আর আমরা তা এনে ব্যবহার করবো। কৃষিসহ আর্থ-সামাজিক খাতে তাদের গবেষণা আমাদের খুব একটা কাজে লাগবে বলে মনে হয়না। কারণ আমাদের ধান, পাট, মাছ, মাংস, চা, চামড়া থেকে শুরু করে দারিদ্র, বেকারত্ব, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসৃজন, ব্যবসা, বিনিয়োগ ইত্যাদি বিষয়ে আমাদের গবেষণা করতে হবে। স্বল্প মূল্যে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের কৌশল আমাদের আবিষ্কার করতে হবে। চীন যেভাবে সারা পৃথিবীর পুরনো ধনী দেশগুলোকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে গেছে তেমনি বিভিন্ন রকমের গবেষণা এবং উদ্ভাবনী কৌশল দিয়ে আমাদের তা করতে হবে।

একটা অর্থনীতিতে ধনীরা গরীব হয়ে যাচ্ছে এমন তথ্য যত ভয়ংকর হতে পারে তেমনি গরীবরা আরো গরীব হচ্ছে তাও ততটা ভয়ংকর হতে পারে। আমাদের এখানে কভিড উচ্চ মধ্যবিত্তকে অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে যেমন ঢাকার বাড়ীগুলোর ফ্লাটগুলো অনেক খালি পড়ে আছে। যারা ২০-৪০ হাজার টাকায় ভাড়া থাকতো তারা তা ছেড়ে দেয়ার ফলে সে সব ফ্লাট বাসা এখন খালি। আবার এ সব পরিবারের ড্রাইভার থেকে শুরু করে মহিলা গৃহকর্মীরা চাকুরি হারা হয়েছে। তাদের আয় একেবারে কমে গেছে। সুতরাং এ সব বিষয়ে কোনো গবেষণা হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। কর কমানোর সাথে সাথে রাজস্ব কতটা হারাবে তার কোনো হিসাব বাজেটে থাকেনা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ও তেমন কোনো গবেষণা করেনা। কিন্তু এ সব তথ্য দিলে প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতি মানুষের অনেক বেশি সমর্থন থাকতো, আস্থা অনেক বেড়ে যেতো।

একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি সহজে বুঝা যাবে। দেশে চালের দামের সাথে জমির দামের কোনো সম্পর্ক নেই। চালের দাম বাড়া ভালো তাতে জমির ব্যবহার এবং কৃষিতে বিনিয়োগের উপর একটি প্রভাব থাকবে। জমি খালি পড়ে থাকবেনা। আবার যেহেতু এই চাল গরীবকেও কিনে খেতে হয়, তাহলে তার জীবনযাত্রার উপর এই মূল্যের প্রভাব পড়বে। আবার কৃষি থেকে কৃষি শ্রমিকের প্রাপ্তি কতটা যোগ হচ্ছে তারও সঠিক ব্যাখ্যা থাকতে হবে। তাই চালের দাম কতটা হলে ভালো এবং কতটা হলে খারাপ তা কিন্তু নির্ণয় করা হয়নি। আর যদি চালের মূল্য উচ্চ রাখতে হয় তাহলে গরীবদের বিশেষ দামে রেশনের মাধ্যমে চাল দেয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ বিষয়ে পরিষ্কার গবেষণা থাকা দরকার। এর ভিত্তিতে সরকারের বাজেট তৈরী হওয়া দরকার।

কৃষি খাতের দ্রæত যান্ত্রীকীকরণ কৃষি শ্রমিকদের বেকারত্ব বৃদ্ধি করবে কিনা এটি একটি বড় প্রশ্ন। বর্তমানে অতিমারীর কারণে কৃষিতে অকৃষি শ্রমিকের সাময়িক কর্মসংস্থান দেখা যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এরা আবার অকৃষিখাতে ফিরে যাবে। তাই কৃষি যান্ত্রীকরণ অব্যাহত রাখা দরকার। সরকারের এ বাজেটে এ বিষয়ে চাহিদা এবং যোগানের বিষয়টি সংখ্যাতাত্তি¡কভাবে তুলে ধরা হয়নি। ফলে এটি কতটুকু বিচার-বিশ্লেষণ করে করা হয়েছে তা নাগরিকদের কাছে প্রশ্ন হিসাবে রয়ে গেছে।

দেশের মানুষের বিশেষ করে কর দাতাদের একটি বড় হতাশার জায়গা হচ্ছে ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়মের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া। আগের বছরের বাজেট প্রদানকালে মাননীয় অর্থমন্ত্রী ব্যাংক কমিশন গঠন করার কথা বলেছিলেন কিন্তু এখনো সে বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। আগামী বছরের বাজেট দেখে মনে হচ্ছে নতুন কোনো বিকল্প ভাবছেন। আর্থিকখাতে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ইত্যাদির ব্যাপারে দেশের মানুষ আরো বেশি জোরালো পদক্ষেপ আশা করে। বিআইএসআর থেকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি দেশে চাহিদা ভিত্তিক বাজেট তৈরী করার জন্য। তাহলে তাতে অপচয় কমে যাবে এবং সাথে সাথে দুর্নীতির সুযোগও কমে যাবে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থার কথা এই বাজেটে নেই বা তার কি বিকল্প হতে পারে সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য আমরা দেখিনা।

জননিরাপত্তা বিষয়ে এবারও বাজেটে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে পুলিশের অপরাধ কমানোর কোনো টার্গেট দেয়া নেই। বর্তমানে আরো নিত্য-নতুন অপরাধ যেমন কিশোর গ্যাংসহ নানাবিধ সমস্যা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

‘কালো টাকা সাদা’ না বলে ‘কর অপরিশোধিত টাকা’ অর্থ বললে এর ইতিবাচক শব্দ প্রয়োগ হবে। বর্তমানে ‘কালো টাকা সাদা’ বলার ফলে প্রায় সকল মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে অসৎ হিসাবে চিহ্নিত হওয়ার একটি ঝুঁকিতে পড়তে হয়। আর যারা সত্যি সত্যি কালো টাকার বা অ-উপার্জিত টাকার মালিক তাকে এটি সাদা করার সুযোগ দেয়াতো হচ্ছেনা। কোনো চোরাকারবারি, মাদক কারবারি কিংবা দুর্নীতিবাজকে এ সুযোগ দেয়া হচ্ছেনা। এটি একটি ‘অপবাদসূচক’ শব্দ।

গ্রাম এলাকাতে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা যেমন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ইত্যাদি দেয়ার ফলে মানুষের মধ্যে এ ধারণা জন্মেছে যে, দেশ উন্নত হচ্ছে। আবার দেখা যায় যে, কোনো কোনো ইউনিয়নের কোনো কোনো ওয়ার্ডে এ ধরনের ভাতা নেয়ার মতো পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক নেই। সে-সব জায়গায় কোটা নির্দিষ্ট না রেখে অন্য ওয়ার্ডে দেয়া যেতে পারে। তবে সমস্যা হচ্ছে এটি উম্মুক্ত করলে স্থানীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে স্বেচ্ছাচারিতা তৈরী হতে পারে। তাই এর একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা দরকার।

শিক্ষার ক্ষেত্রে বাজেট বাড়লেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর কর একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। শিক্ষার উপর কোভিডের প্রভাব কতটা হয়েছে তার কোনো সংখ্যা এবং গুনগত আলোচনা করা হয়নি। কত শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে, কত স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে তার উপর জরিপ চালিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার ছিল।

প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিটি বিষয়ে মান উন্নয়নের সুযোগ আছে। তাই এখানে উদাহরণ হিসাবে কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হল। বিষয়টি সহজ করার জন্য সংক্ষেপে এই বাজেটের কিছু সবল এবং দুর্বল দিক তুলে ধরা হল।

এ বাজেটের সবল দিকগুলো হলো যেমন, পূর্বের বছরের তুলনায় বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব, ব্যবসা এবং বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা, প্রধান প্রধান বিষয় যেমন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয়ে বরাদ্দ বাড়ানো, গৃহহীনদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা, অনেক খুঁটিনাটি বিষয় যেমন স্যানিটারী ন্যাপকিনের বিষয় বিবেচনায় নেয়া, কভিডের জন্য বিশেষ বরাদ্দ, টিআইএন-এর ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধির চেষ্ঠা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

আর এর দুর্বল দিকগুলো হলো নতুন দরিদ্রদের জন্য কী পদক্ষেপ থাকবে, কর্মসৃজন নিয়ে চাহিদার বিপরীতে পরিকল্পনা না থাকা, ফিরে আসা প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনার অভাব, ব্যয় করতে না পারার ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার অভাব, কিছু কিছু ক্ষেত্রে সীমিত বরাদ্দ রাখা যেমন গবেষণা, বায়ু এবং শব্দ দুষণ রোধে যথাযথ পরিকল্পনা না থাকা, চাহিদা ভিত্তিক বাজেট তৈরী না করা, দারিদ্র নিরসন এবং কর্মসংস্থান সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা না থাকা ইত্যাদি।

অর্থনীতির টেক-অফ হলে বাম্পিং-এ পড়তে হতে পারে। সুতরাং তার জন্য অর্থনীতির কাঠামোকে এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে তা যে কোনো বাম্পিং মোকাবিলা করে উড়ে যেতে পারে। গতি থামবেনা, অগ্রগতি কমতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতির পাইলটকে তা মাথায় রেখে বাজেট তৈরী করতে হবে।

যোগাযোগঃ ড. খুরশিদ আলম, চেয়ারম্যান, বাংলাদশে ইনস্টটিউিট অব সোশ্যাল রিসার্চ (বিআইএসআর) ট্রাস্ট, ৬/১৪, ব্লক-এ, লালমাটিয়া, ঢাকা। ই-মেইলঃ bisr@agnionline.com;