দুই ডোজ টিকা ও স্বাস্থ্য বিধি মেনেও করোনায় আক্রান্ত নটর ডেমের শিক্ষক

চীনে নতুন করে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ
চীনে নতুন করে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ

সুমন দত্ত: করোনার কঠোর বিধি নিষেধ মেনে ও দুই ডোজ টিকা নেওয়া একমাস আগে সম্পন্ন করেও আক্রান্ত হচ্ছেন লোকজন। আর এক ডোজ টিকা নিয়ে মৃত্যু হচ্ছে দেশের ভিআইপি থেকে সাধারণ লোকজনের।

মাঠ পর্যায়ে করোনার এই ভয়াবহ চিত্রটা জানা গেলেও দেশের মূল ধারার গণমাধ্যমে এসব তথ্য উঠে আসছে না। প্রতিদিন করোনার ব্রিফিং দেয়া আইইডিসিআর কর্তৃপক্ষ সচেতন ভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে করোনার টিকা গ্রহণকারী লোকজনের মৃত্যুর সংখ্যা।

সম্প্রতি ঢাকার নটর ডেম কলেজের রসায়নের সাবেক বিভাগীয় প্রধান করোনা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন স্কয়ার হাসপাতালে। তবে তিনি স্ট্রোকের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ ফল আসে। অথচ উনার করোনার কোনো উপসর্গ চিকিৎসকরা খুঁজে পাননি। পরিবারের লোকজনরাও জানতে পারেননি তিনি করোনা আক্রান্ত।

স্কয়ারে তার কলেজ থেকে পাশ করা ছাত্ররাই এখন সেখানকার চিকিৎসক। স্যারের চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি রাখছেন না তারা। স্যারের দ্বিতীয়বার করোনা পরীক্ষা হলেও ফল পজিটিভ আসে। এরপর পরিবারের অন্য সদস্যদের করোনা পরীক্ষা করতে বলা হয়। শান্তিনগর পপুলারে পরিবারের বাকী সদস্যরা করোনা পরীক্ষা করেন। তাতে ফল নেগেটিভ আসে।

পরিবার ও আক্রান্ত শিক্ষকের আশপাশের লোকজন জানান, যে মানুষটা ঘরের এক কোণায় বসে কাটিয়ে দিচ্ছেন বছরের পর বছর, লোকজনের সঙ্গে যার নেই কোনো মেলা মেশা, নিজের স্ত্রী ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে কথা বলেন না। তিনি কীভাবে করোনা আক্রান্ত হলেন? তার স্ত্রী আক্রান্ত হলে বিষয়টা মেনে নেওয়া যেত। স্যারের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মেয়ে ও কানাডা প্রবাসী ছেলেও বাবার এই খবর শুনে হতবাক। সবার কাছে বাবার রোগমুক্তির দোয়া ও প্রার্থনা চেয়েছেন।

সম্প্রতি দেশের সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। তার আগে বাংলা একাডেমীর সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান মারা গেলেন। ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায় উভয়ই করোনার এক ডোজ টিকা নিয়েছিলেন। তারপরও তারা কীভাবে মারা গেলেন সেটা অবাক করেছে অনেককে।

এছাড়া চিকিৎসকদের প্রথম দিকেই করোনার টিকা দেয়া হয়েছে। তারপরও বেশ কয়েকজন চিকিৎসক করোনায় মারা গেছেন। তাদের মৃত্যুর খবর প্রকাশ হলেও তারা টিকা নিয়েছিল কিনা সেই খবর সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

এর আগে দেশে টিকা ছাড়াও করোনায় আক্রান্ত হয়ে বেচে গেছে বহু লোকজন। শতাংশের বিচারে যা ছিল ৮০ উর্ধ্বে।

এখন টিকা দেয়া লোকজনের মৃত্যু ও আক্রান্ত হওয়ার খবরে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে আসলে এই টিকা দেহে কত পারসেন্ট কার্যকর?

মাঝে মধ্যে কয়েকটি সংস্থা গণমাধ্যমে খবর দিচ্ছে টিকা কাজ করছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র উল্টো। টিকা নিয়েও মারা যাচ্ছে করোনায়। অথচ সরকার ও গণমাধ্যমে সেই খবর উঠে আসছে না।

বাংলাদেশে এক ডোজ টিকা গত ফেব্রুয়ারির থেকে শুরু হয়েছে। সেই টিকা দুই তিন মাস কার্যকর থাকছে না। এটা অবাক করছে অনেক কে। এসব প্রশ্নের উত্তর কে দেবে?

এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিজ্ঞানীগণ করোনা প্রকৃত সৃষ্ট, না ল্যাবে সৃষ্ট সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তাহলে করোনার প্রতিকার হবে কি করে? সরকার স্বাস্থ্য বিধির ওপর জোর দিলেও নটর ডেম কলেজের ওই শিক্ষক কীভাবে আক্রান্ত হলেন তার ব্যাখ্যা কি?