জামালপুরে ছাই(ফ্লাইএ্যাস), জনজীবন অতিষ্ঠ

সুমন আদিত্য, জামালপুর জেলা প্রতিনিধি:  জামালপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে স্কার্ফ এগ্রো (প্রা:) লি: রাইচ মিলের ফ্লাইএ্যাস(ছাই) ক্ষতিগ্রস্থ বেশকয়েকটি এলাকা। জামালপুর শহর ১৫০ বছরের পুরোন একটি ১ম শ্রেণীর পৌরসভা শহর। এই শহর মিল কারখানা খুব একটা নেই বললেই চলে। তবে বিসিক বাদে এরই মধ্যেই গড়ে উঠেছে কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিল করখানা। মিল কারখানাগুলি অপরিকল্পিত ভাবেই শহরের প্রাণকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। স্কার্ফ এগ্রো (প্রা:) লি: নামে এই রাইচ মিলটি জামালপুর শহরের ৬ নং ওয়ার্ডের পালপাড়া এলাকায় প্রতিষ্ঠিত। এই মিলটির ফ্লাইএ্যাস(ছাই) শহরের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু এলকায় নোংড়া পরিবেশ ও  জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে।

যা বাড়ীঘরগুলি কাপড়চোপর থেকে শুরু করে আসবাবপত্র বাড়ীর চাল ও ছাদে ছাই পরে অল্প সময়ের মধ্যে নোংরা বা নষ্ট করে দিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে ৫নং ওয়ার্ডের বসাকপাড়া, চালাপাড়া, মেথরপট্টি মোড় এলাকা এবং ৬ নং ওয়ার্ডের যেখানে মিলটি অবস্থিত পালপাড়া, বানিয়াবাজার, বজ্রাপুর। এলাকার জনসাধারনের সাথে আলোচনা করে জানা যায় যখন মিলটি চালু করে কখন বেশি ছাই পরে বন্ধ অবস্থায়ও ছাই আসে তবে পরিমানে কম। এতে এলাকার লোকজনের থালা বাসন
খাবারদাবার, আসবাবপত্র মুহুর্তের মধ্যে নষ্ট করে দিচ্ছে।

এলাকার জনসাধারণ বেশ কয়েকবার মিলটির মালিক ও ম্যানেজারকে বিষয়টি অবগত করেছেন। কিন্তু ম্যানেজারকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাস করলে বলে, আমরা রাইচ মিল এর চুল্লি উপরে বাড়িয়েছি এবং নেট লাগিয়ে দিয়েছি অতএব, ছাই যাওয়ার প্রশ্নই উঠেনা। মিলটি যেখানে অবস্থিত তার আসেপাশে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), গণপূর্ত, উপজেলা পরিষদ, সড়ক ও জনপথসহ বেশ কয়েকটি সরকারি অফিস রয়েছে এছাড়া এটি একটি জনবহুল আবাসিক এলাকা। পালপাড়ার সাধারণ মানুষের অভিযোগ এই মিলের কালো ছাই, শব্দ আমাদের খুব ক্ষতি করছে কিন্তু আমরা কিছু বলতে পারছি না।

এলাকার মানুষের প্রশ্ন এই মিলটি শহরের প্রাণকেন্দ্রে অপরিকল্পিতভাবে করার অনুমতি পেল কিভাবে? পরিবেশ অধিদপ্তর মিলটি করার জন্য ছাড়পত্রই বা দিল কিভাবে? এক চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করে জানাযায় এই ছাই বসবাস করি জনসাধারণ ও শিশুদের শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ভিতরে প্রবেশ করে এতে ফুসফুস এবং ত্বকের অনেক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের জনগন এর দ্রুত সামাধান এবং প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কামনা করে।