বীর মুক্তিযোদ্ধার চূড়ান্ত তালিকা স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত

বীর মুক্তিযোদ্ধার চূড়ান্ত তালিকা স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত
বীর মুক্তিযোদ্ধার চূড়ান্ত তালিকা স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত

নিউজ ডেস্ক : জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) বীর মুক্তিযোদ্ধার চূড়ান্ত তালিকায় ১৬ হাজার সাতজনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেআইনিভাবে তারা সবাই ২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গেজেটভুক্ত হয়েছিলেন। এবার আইনের আওতায় পুনঃযাচাই-বাছাইয়ের পর কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তাদের বীর মুক্তিযোদ্ধার চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ সিদ্ধান্ত বুধবার রাজধানীর স্কাউট ভবনে জামুকার ৭৪তম সভায় নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। জানা যায়, ‘প্রায় সাড়ে ৩৬ হাজার ব্যক্তিকে উপজেলা ও মহানগরে পুনঃযাচাই-বাছাই করা হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে আমরা ১৬ হাজার ব্যক্তিকে বীর মুক্তিযোদ্ধার চূড়ান্ত তালিকায় স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারা মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ অন্যান্য সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘যাদের ব্যাপারে উপজেলা ও মহানগর যাচাই-বাছাই কমিটি সুপারিশ করেনি তাদের আপিল করার সুযোগ দেওয়া হবে। সেখানে তারা বাদ পড়লে তাদের গেজেট চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়ে যাবে।’

জামুকার মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা ৪৯১টি উপজেলা ও মহানগর কমিটির মধ্যে ৪৮৪টি কমিটির সুপারিশ পেয়েছি। সুপারিশ অনুযায়ী ১৬ হাজার ৭ জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া ৮৮টি উপজেলায় যাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের পুনঃযাচাই-বাছাই করে সংশ্নিষ্ট কমিটিগুলোকে প্রতিবেদন দিতে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা ও মহানগর কমিটি সাত হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে সুপারিশ করেনি। যাদের মধ্যে অনেক পরিচিত এবং স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধাও রয়েছেন। অনেকে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় ও জামুকায় যোগাযোগ করেছেন। এপ্রেক্ষাপটে ৮৮টি উপজেলা ও মহানগরে পুনঃযাচাই-বাছাইয়ের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জামুকা জানায়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০০২ অনুযায়ী কোনো মুক্তিযোদ্ধা প্রার্থীর তথ্যসংবলিত আবেদন প্রথমে নিজ উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে যাচাই হয়। উপজেলা কমিটির সুপারিশে প্রাথমিকভাবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হলে ওই তালিকা জামুকায় পাঠানো হয়। জামুকার সভায় তদন্ত ও অনুমোদনের পর সংশ্নিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করে মন্ত্রণালয়।

কিন্তু ২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে আইন ও বিধিবহির্ভূতভাবে ৩৬ হাজার ৬৯৭ জন মুক্তিযোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জামুকার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ৩০ জানুয়ারি ও ৬ ফেব্রুয়ারি দেশের ৪৯১টি উপজেলায় বেআইনিভাবে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত সাড়ে ৩৬ হাজার ব্যক্তির যাচাই-বাছাই হয়।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, দেশে গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা দুই লাখ ৩৮ হাজার ৩৮৭ জন। বর্তমানে চূড়ান্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। এজন্য প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার নথিপত্র এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

গত ২৫ মার্চ এবং ৯ মে দুই ধাপে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫২৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ করা হয়। জামুকার সভায় যে ১৬ হাজার ৭ জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাদেরও এই চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।