করোনায় কেমন আছেন খালেদা জিয়া

করোনায় কেমন আছেন খালেদা জিয়া
করোনায় কেমন আছেন খালেদা জিয়া

নিউজ ডেস্ক:   করোনা রোগী খালেদা জিয়া কেমন আছেন। ঈদের দিন কেমন কাটলো খালেদা জিয়ার । এমনি নানান প্রশ্ন সচেতন পাঠক ভক্ত অনুসারীদের মাঝে । চিকিৎসক ও দলীয় নেতাদের মতামত ও বক্তব্য পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো ।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে করোনারী কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে, তবে খুব ‘ধীরে ধীরে’। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে একই তথ্য জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গত ১০ এপ্রিল করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হন খালেদা জিয়া। তিনি গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিমের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন । পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ২৭ এপ্রিল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ৩ মে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে চিকিৎসকরা তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করে। পোস্ট কোভিড জটিলতায় খালেদা জিয়ার পুরনো রোগ আর্থারাইটিস, ডায়াবেটিকের পাশাপাশি হৃদযন্ত্র ও কিডনি জটিলতহায় ভুগছেন।

এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধায়নে তার চিকিৎসা চলছে।

চিকিৎসক জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুব ধীরে উন্নতি ঘটছে। তবে তার বয়স ও অন্যান্য জটিল রোগের কারণে শঙ্কা এখনো কাটেনি। তার ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে তারা চিন্তিত। শরীরে প্রোটিনের অভাব এবং অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে চিকিৎসায় ধীরে এগুতে হচ্ছে।

এদিকে শুক্রবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‌আলহামদুলিল্লাহ ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) অতি ধীরে ধীরে হলেও তিনি ইম্প্রুভ করছেন। বেশ ইম্প্রুভ করেছেন ইতিমধ্যে। তবুও তার ডাক্তাররা বৃহস্পতিবার বলেছেন যে, ‘স্টিল হার কনডিশন ইজ ক্রিটিক্যাল’, এখনো ক্রিটিক্যাল রয়েছে। তবে অনেকগুলো বিষয়ে তার উন্নতি হয়েছে এবং তারা (ডাক্তাররা) খুব আশাবাদী অতি শিগগিরই তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।

এদিকে খালেদা জিয়া সিসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকায় চিকিৎসকরা হাসপাতালে কাউকে না আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। ফলে ঈদের দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত খালেদা জিয়ার স্বজনরাও কেউ আসেননি। গুলশানে ‘ফিরোজায়’ থাকাকালে গতবছরের দুই ঈদে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও এবার হচ্ছে না বলে সাংবাদিকদের জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, এবার আমাদের দেখা করার সম্ভাবনা কম। কারণ ডাক্তারদের নিষেধ আছে।

শুক্রবার দুপুরে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-বিএসএমএমইউ’র কর্মচারীরা এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে ঈদ শুভেচ্ছা জানাতে ফুলের তোড়া নিয়ে আসেন। এ সময় তারা বিএনপি চেয়ারপারসনের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে প্লাকার্ড বহন করেন। কিন্তু এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ভেতরে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় বাইরে থেকে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। বিকেল সাড়ে তিনটায় খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার, তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ও ছেলে অভিক এস্কান্দার হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে ঈদ শুভেচ্ছা জানাতে প্রবেশ করেন।

২০১৮ সালে কারাগারে যান ৭৬ বছর বয়েসী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে দুইটি এবং পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কেবিনে ২ ঈদ উদযাপন করেন তিনি। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত বছর দুটি ঈদই করেছেন গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য়। আত্মীয়-স্বজন ছাড়া শুধুমাত্র দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দুই ঈদে সাক্ষাৎ করতে পেরেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।