ঢাকা ১৪ আসন এবার কার হাতে উঠছে

ঢাকা ১৪ আসন এবার কার হাতে উঠছে
ঢাকা ১৪ আসন এবার কার হাতে উঠছে

ইয়াসিন আহমেদ : জাতীয় সংসদ ১৮৭ ও ঢাকা ১৪ আসনের নির্বাচিত সাংসদ আলহাজ্ব আসলামুল হক করোনায় হঠাৎ করে মৃত্যু বরণ করায় এ আসনটিকে ঘিরে চলছে নানা আলোচনা।

কার হাতে উঠছে নৌকা প্রতীক এই নিয়েই আলোচনা চলছে ঢাকা ১৪ আসনে। আসলামুল হকের মূল প্রতিদ্বন্ধী ছিল যুব মহিলা লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মাজহারুল আনাম। কিন্তু, বিভিন্ন বিকর্তিত কর্মকান্ডে জড়ানোর কারণে দুইজনেরই এবার মনোনয়ন না পাওয়ার সম্ভবনা সব দিক থেকেই বেশী।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এ মান্নান কচিও ঢাকা ১৪ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। কিন্তু, এস এ মান্নান কচি বরাবরই ঢাকা ১৬ আসনের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ফলে, স্থানীয় জন সমর্থনের দিক থেকে এস এ মান্নান কচি পিছিয়ে রয়েছে।

এই আসনে এবার নৌকার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনার দিক থেকে সবচেয়ে উজ্বল হাজী মোঃ লুৎফর রহমান (সিআইপি)। স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৪ সালে বৃহত্তর মিরপুর থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী হাজী মোঃ লুৎফর রহমান জন সমর্থনের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে।

হাজী লুৎফর রহমানের পিতা মরহুম নুরুল ইসলাম জমিদার মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সৈনিক হিসাবে আওয়ামী মুসলিম লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনকের আদর্শের সৈনিক হওয়ার কারনে আলবদর-রাজাকাররা তার বাড়ীঘর পুড়িয়ে দেয়। শুধু পুড়িয়ে দিয়েই ক্ষান্ত না হয়ে তার বড়ভাই নুরুল হক ও চাচাতো ভাই শামসুদ্দোহাকে নির্মমভাবে হত্যা করে শহীদ করে। সেদিন লুৎফর রহমান নিজেকে একজন মুক্তির সৈনিক হিসাবে মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের একজন সহযোদ্ধা হিসাবে কাজ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে দেশ স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৪ সালে লুৎফর রহমান সরাসরি রাজনীতির সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। যোগ দেন আওয়ামীলীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগে। দায়িত্ব পালন করেন মিরপুরের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসাবে।

১৯৭৪ সালে বৃহত্তর মীরপুর আওয়ামী যুবলীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগে। ৭৫ ‘র ১৫ আগষ্ট কিছু বিপথগামী সেনা সদস্য কর্তৃক জাতির জনক স্বপরিবারের হত্যার পর থেকে বৃহত্তর মীরপুর আওয়ামীলীগকে পূর্নগঠনে দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করেছেন হাজী লুৎফর রহমান।

দলগঠনের পাশাপাশি করেছেন সামাজিক উন্নয়ন, নিয়েছেন দারিদ্র বিমোচন বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা। স্থানীয় মসজিদ মাদ্রাসার উন্নয়নসহ মাদক নিয়ন্ত্রনে সবসময় তিনি অগ্রনী ভুমিকা পালন করছেন।

পেশায় একজন ব্যবসায়ী হাজী লুৎফর রহমান। বেশ কয়েকবার ঢাকা জেলার শ্রেষ্ট করদাতা হিসাবে তার বেশ সুনাম রয়েছে সরকারী আয়কর বিভাগে। জন্মসূত্রে বাগবাড়ি জমিদারগনের অধস্তন পুরুষ। মিরপুর বাগবাড়ি জমিদার বাড়ির উর্দ্ধতন পুরুষ আমার পিতা- মরহুম নরুল ইসলাম জমিদার, পিতামহ-মরহুম আব্দুল করিম বেপারী জমিদার।

করোনায় কয়েক হাজার মানুষকে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দান করা ছাড়াও, সাধারণ মানুষের সাথে হাজী মোঃ লুৎফর রহমানের রয়েছে ঘনিষ্ট যোগাযোগ। আওয়ামীলীগের তাই সু-দৃষ্টি হাজী মোঃ লুৎফর রহমানের দিকে।

এখন অপেক্ষা করতে হবে মনোনয় নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত। এ পর্যন্ত এগিয়ে হাজী মোঃ লুৎফর রহমান।