টিকা উৎপাদনেই আগ্রহী বাংলাদেশ

টিকা উৎপাদনেই আগ্রহী বাংলাদেশ
টিকা উৎপাদনেই আগ্রহী বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক:    চাহিদার বাইরে রাশিয়া ও চীন থেকে টিকা কিনবে না সরকার। আপৎকালীন সংকট মোকাবিলায় এই দুটি দেশের টিকা কেনা হবে। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বে গঠিত টিকার জোট কোভ্যাক্সকে কেন্দ্র করেই দেশের টিকাদান কর্মসূচি চলবে। কারণ এ দুটি উৎস থেকে পাওয়া টিকার মূল্য অনেক কম।

রাশিয়া ও চীনের টিকার মূল্য সেরাম ইনস্টিটিউট ও কোভ্যাক্সের টিকার তুলনায় যথাক্রমে আড়াই গুণ ও চার গুণ বেশি পড়বে। এ কারণে সরকার এ দুই দেশ থেকে বেশি টিকা কিনতে আগ্রহী নয়। তবে রাশিয়া ও চীন প্রযুক্তি সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনে সায় দিলে সরকার তাতে আগ্রহী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, চীন ও রাশিয়ার টিকা বেশি কেনা হলে চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি অর্থ ব্যয় হবে। এ ব্যয় বহন করা বাংলাদেশের জন্য কঠিন। আবার চুক্তি অনুযায়ী ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছে এখনও দুই কোটি ৩০ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া যাবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জুলাই থেকে সেই টিকা আসতে পারে। ভারত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে সেরাম থেকে কোভ্যাক্সও টিকা পাবে। কোভ্যাক্স থেকে প্রথমে বাংলাদেশকে এক কোটি ৯ লাখ ডোজের কিছু বেশি টিকা দেওয়ার কথা ছিল; কিন্তু ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে এ টিকা পাওয়া যায়নি।

রাশিয়া ও চীনের টিকা উৎপাদনে আগ্রহের কথা তুলে ধরে ওই কর্মকর্তা বলেন, দুটি দেশই বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশও তাতে সম্মতি দিয়েছে। কারণ চীন ও রাশিয়ার টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দুটির নিজের দেশের চাহিদা পূরণ করে অন্যদের চাহিদা অনুযায়ী টিকা সরবরাহ করার সক্ষমতা কম। সে কারণে তারা বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছে।

বাংলাদেশে তিনটি ওষুধ কোম্পানির টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। চীন ও রাশিয়া চাইলে এই তিনটি কোম্পানি উৎপাদনে যেতে প্রস্তুত রয়েছে। বাংলাদেশি এ তিনটি কোম্পানির বছরে এক কোটি ডোজের ওপরে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এতে বাংলাদেশের চাহিদা মিটিয়ে অন্যদেরও টিকা সরবরাহ করা যাবে। চীন ও রাশিয়া চাইলে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনায় বাড়তি টিকা রপ্তানি করতে পারবে।