বিশ্ব ‘মা’ দিবস ‘মা’ পৃধিবীর শ্রেষ্ঠ

বিশ্ব ‘মা’ দিবস ‘মা’ পৃধিবীর শ্রেষ্ঠ
বিশ্ব ‘মা’ দিবস ‘মা’ পৃধিবীর শ্রেষ্ঠ

শাহাদাত আনসারী :

৯ মে বিশ্ব ‘মা’ দিবস। মায়ের প্রতি ভালবাসা আর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রতি বছর বিশ্বব্যাপি বেশ উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে পালিত হয় মা দিবস। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এ দিবসটি পালিত হয় বেশ মর্যাদার সাথে। পৃথিবীতে মায়ের চেয়ে প্রিয় আর কেউ নেই। ‘মা’ শব্দটি খুব ছোট হলেও এর তাৎপর্য অনেক। আজকের এই দিনে বিশ্বের সকল মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানাচ্ছি।

‘মা’! মা শব্দটি উচ্চারণ করলে কেন যেন গা শিহরিত হয়। সন্তানের প্রতি ভালবাসার কারণেই হয়তো এটা হয়ে থাকে। পৃথিবীতে মায়ের মর্যাদা সবচেয়ে বেশি। এ শব্দটির মাঝে লুকিয়ে রয়েছে অসীম ভালবাসা আর প্রশান্তি। নেপোলিয়ান বলেছেন ‘আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও আমি একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেবো।’ নেপোলিয়ানের এ উক্তি থেকে সহজেই উপলব্ধি করা যায় শিক্ষিত জাতি গঠনে আমাদের মা জননীর একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। আবার ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত।’ মা বেঁচে থাকতে মায়ের সম্মান ও মর্যাদার মূল্য বোঝা যায় না।

করোনায় মানুষের মধ্যে এক হতাশা বিরাজ করছে। আপনজন কর্মের সন্ধানে বা রোজগারের আশায় একে অপরকে ভুলে যাচ্ছে। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত বা মৃত ব্যক্তির সেবা বা জানাজায় আত্মীয় স্বজনও কাছে আসছে না। কিন্তু সন্তানের যেকোন বিপদে আজ কেবল মা কাছে থাকছে সর্বদা। 

একটি পরিবারে মায়ের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। ‘মা’ শব্দটির সাথে কেমন যেন একটা মায়া-মমতা এবং মধু জড়িয়ে আছে। 

হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর কাছে এক ব্যক্তি পিতা-মাতার সেবা সম্বন্ধে জানতে চাইলে তিনি বলেন- ‘প্রথমে তুমি তোমার মায়ের সেবা করবে’ এমন বক্তব্য তিনবার বলার পরে বাবার সেবা করতে বলেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে মায়ের মর্যাদাকে পরিবারের সবার উর্ধ্বে স্থান দেয়া হয়েছে।

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। আর মানুষের কাজ হবে সব প্রাণীর চেয়ে ভালো। কিন্তু মানুষ এমন কাজ করে যা সমাজে তাদের মর্যাদাকে পশুর চেয়েও নিচে নিয়ে যায়। আর এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য একটি পরিবারে মা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখেন।

দীর্ঘ দশ মাস দশদিন পেটে ধারণ করে মা যখন সন্তান জন্মের জন্য ধাত্রী কিংবা প্রসূতি বিশেষজ্ঞের কাছে যান তখন মায়ের মনে অনেক ভয় অনুভূত হয়। শত কষ্ট হবে জেনেও মা এটি করেন। সন্তান প্রসবের সময় পৃথিবীতে সবচেয়ে কষ্ট অনুভব করেন মা। সন্তান প্রসবের পর মা যখন ভূমিষ্ঠ শিশুর মুখ দেখেন তখন অতীতের সব ব্যথা-বেদনা ভুলে যান। 

মা সন্তানকে সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য কত কষ্ট করে তা কেবল আমাদের মায়েরাই বোঝেন। সংসারের সকল আরাম-আয়েশ পরিহার করে শিশুকে ভালভাবে বেড়ে উঠার জন্য মা সুন্দর পরিবেশ তৈরি করেন।নিজের খাবার সন্তানকে দিয়ে মা তৃপ্তি অনুভব করেন। মা তার নিজের ভাগটা সন্তানদের দিয়ে নিজে না খেয়ে থাকেন। আর এতেই তিনি আনন্দ পান। বাড়িতে ভালো কিছু রান্না করলে মা সর্বপ্রথম সন্তানদেরকে খাওয়ান। সন্তানদেরকে খাওয়াতে পারলেই মায়ের ক্ষুধা দূর হয়। আসলে মায়ের মতো আপন পৃথিবীতে নেই।

মা সন্তানের বন্ধু, অভিভাবক, পরিচালক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। সকালে ব্রাশ করা থেকে শুরু করে রাত্রে ঘুমানো পর্যন্ত সর্বদা মায়ের যে ভুমিকা তা অপরিশোধযোগ্য। মা না হলে আমাদের পৃথিবীতে আসা কল্পনা করা যায় না। 

আজকের এই শুভ দিনে নিজের মাকে নিয়ে কিছু না লিখলে তার প্রতি অসম্মান হয়ে যাবে। এই দিনে ‘মা’ তোমার কল্যাণ কামনা করছি। মা তুমি সুখে থেকো। আমি যেন কখনো তোমার অবাধ্য না থাকি আল্লাহর কাছে তা প্রার্থনা করছি।
মা দিবসের এ দিনে আমাদের মায়েদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। যিনি আমাদেরকে গর্ভে ধারণ করে খেয়ে না খেয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। একদিকে রান্না-বান্নার কাজ অন্যদিকে সংসার দেখাশোনার সাথেও যিনি তার সন্তানকে বুকের মধ্যে কষ্ট করে ধারণ করেছেন সে মা’ই পৃথিবীতে সবচেয়ে সম্মানের দাবিদার। 

মা হারিয়ে গেলে সে ঘাটতি কখনো পূরণ হয় না। মায়ের আদর এবং স্নেহ পেয়ে পিতার ভালবাসার কথা মনে থাকে না। বড় ধরনের বিপদেও মা যখন কাছে নিয়ে উৎসাহ দেন তখন সকল বাধা ও জীর্ণতা সন্তানের কাছে পরাজিত হয়। আমরা শপথ নেবো শুধু মা দিবসেই নয় প্রতিটি দিনে, প্রতিটি সময়ে তিনি যেন আমাদের সেবা-পরিচর্যা ও ভালবাসা পান। 

সর্বোপরি আল্লাহ যেন আমাদের মাকে সুস্থ রাখেন তার জন্য দোয়া করবো। গাঢ় হোক মায়ের সাথে ভালবাসার বন্ধন আর আর খুশিতে থাকুক আমাদের মায়েরা তা হোক আজকের প্রত্যাশা।

লেখক : ব্যাংক কর্মকর্তা ও কলাম লেখক