প্রধান বিচারপতির কাছে বিশিষ্ট নাগরিকের চিঠি ও সংবাদ সম্মেলন

প্রধান বিচারপতির কাছে বিশিষ্ট নাগরিকের চিঠি ও সংবাদ সম্মেলন
প্রধান বিচারপতির কাছে বিশিষ্ট নাগরিকের চিঠি ও সংবাদ সম্মেলন

সুমন আহমেদ :   সম্প্রতি প্রধান বিচারপতির কাছে ঈদের আগে গ্রেফতার হওয়া ছাত্রদের জামিনে মুক্তি চেয়ে ১৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক চিঠি দিয়েছেন। ওই চিঠি প্রসঙ্গে ধানমন্ডি গণস্বাস্থ কেন্দ্রের বীর উত্তম মেজর হায়দার মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বেলা ১২ টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে চিঠি পাঠ এবং মূল বক্তব্য তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল। সংবাদ সম্মেলনে র্ভাচুয়ালি বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। এ সময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারি জোনায়েদ সাকি। উপস্থিত ছিলেন লেখক-নৃবিজ্ঞানী রেহনুমা আহমেদ, বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহীদুল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, ইসতিয়াক আজিজ উলফাত ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জামিন পাওয়া সাংবিধানিক অধিকার হলেও বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে নানা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাধা তৈরি করে এই অধিকার ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। প্রধান বিচারপতির কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে তার সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে প্রয়ােজনীয় ভূমিকা গ্রহণের জন্য নাগরিকদের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।

উল্লেখ্য, প্রধান বিচারপতির কাছে গত মঙ্গলবার দেশের ১৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ঈদের আগে গ্রেফতার হওয়া ছাত্রদের জামিনে মুক্তির ক্ষেত্রে বাধা দূর করতে পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেন।

ওই ১৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি হলেন- ড. কামাল হোসেন, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন খান, আ. স. ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, অধ্যাপক পারভীন হাসান, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, নারী নেত্রী শিরিন হক, লেখক-নৃবিজ্ঞানী রেহনুমা আহমেদ, অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু এবং জোনায়েদ সাকি।

চিঠিতে তারা তিনটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো-

১. গত দুইমাসে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার হওয়া ছাত্রদের আগামী রোজার ঈদের আগে জামিন প্রাপ্তির ব্যবস্থা গ্রহণ।

২. রিমান্ডে এবং করোনাকালীন সময়ে তাদের প্রতি কোনো নিপীড়ন হচ্ছে কিনা তা তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ।

৩. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যার বিরুদ্ধে কটুক্তি বা মানহানি করা হয়েছে বলে বলা হচ্ছে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ সংক্ষুদ্ধ হয়ে মামলা করতে পারবেন না এ ধরনের নির্দেশনা প্রদান।