পরিযায়ী পাখি রক্ষায় সকলের সহযোগিতা চাই : পরিবেশমন্ত্রী

পরিযায়ী পাখি রক্ষায় সকলের সহযোগিতা চাই : পরিবেশমন্ত্রী
পরিযায়ী পাখি রক্ষায় সকলের সহযোগিতা চাই : পরিবেশমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন বলেছেন, প্রতিবছর শীতমৌসুমে সুদূর সাইবেরিয়া এবং ইউরোপ থেকে বাঁচার তাগিদে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখি এসে আমাদের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করছে। এসকল পরিযায়ী পাখিসংরক্ষণে সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপগ্রহণের ফলে পাখিনিধন কমেছে। 

বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস-২০২১ উপলক্ষ্যে “Sing, Fly, Soar – Like a bird!” (‘পাখির মতো গান গাই, উড়ে যাই সুউচ্চ দিগন্তে!) প্রতিপাদ্যে বন অধিদপ্তর আয়োজিত অনলাইন আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পাখি সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের উল্লেখ করে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আবাসিক ও পরিযায়ী পাখিসহ প্রায় ৭১০ প্রজাতির পাখির মধ্যে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসীলে ৬৫০ প্রজাতির পাখি রক্ষিত প্রাণী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পরিযায়ী পাখিশিকার হত্যার জন্য সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

পরিযায়ী পাখিসংরক্ষণে বাংলাদেশের সোনাদিয়া, নিঝুম দ্বীপ, টাংগুয়ার হাওর, হাকালুকি হাওর, হাইল হাওর এবং গাঙগুইরার চর ইস্ট এশিয়ান অস্ট্রেলেশিয়ান ফ্লাইওয়ে সাইট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, পরিযায়ী জলচর পাখির পরিযায়ন পথবিষয়ক গবেষণার উদ্দেশ্যে পাখিশুমারি ও পাখির গায়ে রিং পরানো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিপিএস স্যাটেলাইট ট্যাগিং করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে পরিযায়ী পাখির পরিযায়ন সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী অবৈধভাবে পাখিশিকার ও বাণিজ্য বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধীকে হাতনাতে ধৃত ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড করা হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে বর্তমানে এ সংক্রান্ত অপরাধ বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। পরিযায়ী পাখিসংরক্ষণে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন পথসভা, র্যা লি, আলোচনাসভা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে।

বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, সচিব জিয়াউল হাসান এনডিসি, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক এবং বাংলাদেশ বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন ফেডারেশন এর সভাপতি ড. এস এম ইকবাল প্রমুখ।

২০২০-২১ অর্থবছরে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার শামুকখোল পাখির কলোনীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পরিবারের মাঝে ৩ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে। পাখিসহ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সরকার পুরস্কার ও প্রণোদনা প্রদান করে থাকে।