বুড়ির মাথায় পাখির বিষ্ঠা

বুড়ির মাথায় পাখির বিষ্ঠা
বুড়ির মাথায় পাখির বিষ্ঠা

অধ্যাপক মুর্শেদ আলম খান 

বুড়ির মাথায় পাখির বিষ্ঠা বুড়ির মাথায় পাখির বিষ্ঠা খেলাটি খেলতে অংশগ্রহনকারী ছেলেমেয়েদের মধ্য থেকে প্রথমে একজনকে বুড়ি হিসেবে বাছাই করা হয়। এ ক্ষেত্রে নির্বাচনের বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। বুড়ি বুড়িহাতে একটি ছোট লাঠি নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে থাকে। ছেলেমেয়েরা বুড়িকে উদ্দেশ্য করে ছড়া কেটে বলতে থাকে– বুড়ির মাথায় পাখির বিষ্ঠা।

উত্তরে বুড়ি বলতে থাকে, তোদের মুখে উয়াক্ থু। সাথে সাথে বুড়ি তখন লাঠি উচিয়ে সবাইকে তাড়া করতে থাকে। অংশগ্রহনকারী ছেলেমেয়েরা তখন বুড়ির হাত থেকে রক্ষা পেতে এদিক সেদিক দৌড়াতে থাকে। সবারই চেষ্টা থাকে বুড়ি যেন তাদের কাউকে ছুঁয়ে দিতে না পারে। এভাবে বারবার বুড়ির কাছাকাছি এসে ছড়া কাটে ও নানা বিরক্তিসূচক মন্তব্য করে বুড়িকে ক্ষেপাতে থাকে। এভাবে বুড়ি কাউকে ছুঁয়ে দিতে পারলেই ছুঁয়ে দেয়া খেলোয়াড় নতুন করে বুড়ি হবে এবং পূর্ববর্কী বুড়ি তা থেকে মুক্তি পেয়ে খেলোয়াড়দের সাথে মিশে যাবে।

সাথে সাথে নতুন করে পূর্ব নিয়মে আবার খেলা শুরু হবে। তখন সবাই বুড়িকে উদ্দেশ্য করে ছড়া কাটতে থাকে– রাজার বিবির কি বা নাম, সবাই তারে দেই সালাম। বুড়ির মাথায় পাখির বিষ্ঠা। এ খেলায় এলাকা ভেদে ভিন্নতা রয়েছে। কোথাও ছড়া কাটার সময় সকলে মিলে বুড়িকে দাঁত দেখাতে বলে। বুড়ি দাঁত দেখালেই সবাই সমস্বরে বলে ওঠে বুড়ি তোর দাঁতে বিষ্ঠা। বুড়ি তখন সবাইকে তাড়া করে।

সূত্র: মুর্শেদ আলম খান ও এম ইদ্রিস আলীর লেখা গ্রামিণ খেলাধূলা বই থেকে