পুরান ঢাকার ইফতারি বাজার এখনো জমেনি

পুরান ঢাকার ইফতারি বাজার এখনো জমেনি
পুরান ঢাকার ইফতারি বাজার এখনো জমেনি

নিউজ ডেস্ক:  লকডাউনে রাজধানীর চকবাজারের শাহী মসজিদের সামনের রাস্তায় পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ইফতারির বাজারে হাঁকডাক এবার নেই। সীমিত পরিসরে ইফতারির আইটেম নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছে।

রমজানে সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ভোজন রসিক হিসেবে পুরান ঢাকার মানুষের আলাদা একটা সুনাম থাকলেও এলাকার অলিগলির হোটেল ও রেস্তোরাঁ থেকেই ইফতারি কিনতে হচ্ছে।

সরেজমিনে চকবাজারসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঐতিহ্যবাহী ইফতারির বাজার চকবাজারে তেমন কোন আয়োজন নেই। পুরান ঢাকার ইফতারির অন্যতম আয়োজন বা আইটেমগুলোও এবার চোখে পড়েনি । বিশেষত ‘বড় বাপের পোলায় খাই’ এর পসরা । শাহী জিলাপিতে একটা জিলাপির ওজনই যেখানে ২৫ কেজি পর্যন্ত হয়, তার জায়গা দখল করেছে ছোট চিকন জিলাপি। এছাড়া বিভিন্ন মুরগি ও কোয়েলের রোস্টসহ বিভিন্ন শাহী পরটা, শাহী কাবাব এবং সুতি কাবাবের আয়োজনও  সীমিত পরিসরে। একই রকম ছিল পানীয় জাতীয় খাবারও।

‘বড় বাপের পোলাই খায়’ এর একজন বিক্রেতা বলেন, প্রতিবছর আমাদের তিনটি দোকান থাকে ইফতারি বিক্রি হতো এবার একটা জায়গাতেই পসরা সাজাতে হয়েছে। বিক্রিও খুব সামান্য। মানুষ আসছে না, ফলে সেভাবে বিক্রি নেই।

                                               

স্থানীয় বাসিন্দা জানান, পুরান ঢাকায় ইফতারি বিক্রির জন্য আলাদা একটা জায়গা থাকে। তবে এবার তা হচ্ছে না। তাই ফল অথবা অন্যকিছু দিয়েই ইফতারের প্রস্তুতি সারতে হচ্ছে। পুরান ঢাকার ইফতারি মানেই ঐতিহ্য, যা আমরা করোনার এ দুই বছর ধরে হারাতে বসেছি। এমনিতেই পুরান ঢাকার ঐতিহ্য হারানোর পথে।  সরকারের উচিত, থানা ভিত্তিক প্রত্যেক এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইফতারির দোকানের জন্য অনুমোদন দেয়া। 

তাদের মতে, হাতেগোনা কয়েকটি খাবারের দোকান ছাড়া এলাকার সব দোকান বন্ধ। ফলে একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, তেমনি ঐতিহ্যবাহী বিখ্যাত ইফতার সামগ্রীর স্বাদ না পাওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে পুরান ঢাকাবাসীর মধ্যেও।

প্রতি বছর রমজানে পুরান ঢাকার বাহারি ইফতার সামগ্রীর স্বাদ নিতে রাজধানীর পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করতো। হরেক রকমের মুখরোচক খাবার নিয়ে বিক্রেতাদের হাঁকডাকে দুপুর থেকে সন্ধ্যার পরও মেতে থাকতো । এতে পুরান ঢাকার ইফতারির বাজারের যে সুনাম ছিল, সেটি এখন হারাতে বসেছে ।