প্রধানমন্ত্রীকে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর খোলা চিঠি

প্রধানমন্ত্রীকে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর খোলা চিঠি
প্রধানমন্ত্রীকে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর খোলা চিঠি

নিউজ ডেস্ক:   করোনা সংকটে সরকারের করণীয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খোলা চিঠি দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। চিঠিতে তিনি চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর সব ধরনের কর প্রত্যাহার, কারাবন্দিদের জামিন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিশেষ দূত করা, দেশে টিকা উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দরিদ্রদের রেশন দেওয়াসহ ১১টি দাবি জানিয়েছেন। ডা. জাফরুল্লাহ অবশ্য এগুলোকে ‘সরকারের কর্তব্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।

সোমবার সকাল ১১টার দিকে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর চিঠির একটি কপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছে দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু।

চিঠিতে অক্সিজেন, ওষুধ, মেডিকেল যন্ত্রপাতির ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক, অগ্রিম আয়কর, মূসক প্রভৃতি প্রত্যাহার করার দাবি জানান ডা. জাফরুল্লাহ। আইসিইউ পরিচালনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক, নার্স, প্যারামেডিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করারও কথা বলেছেন তিনি। সব ওষুধের মূল্য এবং রোগ পরীক্ষার চার্জ নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবি করেন তিনি।

চিঠিতে কারাগারে অবরুদ্ধ সব ব্যক্তিকে দ্রুত টিকা দেওয়া এবং খুনের দায়ে ও দুর্নীতির কারণে দণ্ডিত অভিযুক্ত ছাড়া অন্য সবাইকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

চিঠিতে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোয় প্রতিবছর ২০ হাজার ছাত্র ভর্তি করা এবং এমবিবিএস পাসের পর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে এক বছর বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ করানো। অতীতে এ নিয়ম চালু করে দুই সপ্তাহ পর তা প্রত্যাহার করা হয়। এ নিয়ম আবারও চালু করার পরামর্শ দেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

চিঠিতে জাফরুল্লাহ চৌধুরী লিখেছেন, লাইসেন্সের মাধ্যমে টিকা উৎপাদন সুবিধা সৃষ্টির জন্য ড. ইউনূসকে আপনার বিশেষ দূত করে ইউরোপে পাঠান।

চিঠিতে প্রস্তাব করা হয়, লকডাউন কার্যকর করার জন্য দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে সরাসরি আর্থিক প্রণোদনার পরিবর্তে বিনামূল্যে মাসিক রেশনে চাল, ডাল, আটা, আলু, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন প্রভৃতি দিতে হবে। রেশন বিতরণের জন্য সামরিক বাহিনী, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং এনজিও কর্মীদের ব্যবহার সুফল দেবে।

টিকায় বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি জানান জাফরুল্লাহ চৌধুরী। টিকা উৎপাদনের জন্য ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করার প্রস্তাব করেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর দ্রুত চীনের সিনোভ্যাক টিকার ট্রায়াল অনুমোদন না দিয়ে যে ভুল করা হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি কাম্য নয়।

গণস্বাস্থ্যের চিকিৎসক বিজন কুমার শীল বাংলাদেশে ফিরতে পারছেন না অভিযোগ করে চিঠিতে তিনি বলেন, গণস্বাস্থ্য উদ্ভাবিত অ্যান্টিবডি-এন্টিজেন অনুমোদন এক বছরেও হয়নি। ড. বিজন কুমার শীলের ভিসা না হওয়ায় বাংলাদেশে ফিরতে পারছেন না। ছয় মাস আগে চার বিজ্ঞানীর তত্ত্বাবধানে রিয়েল টাইম পিসিআর ল্যাবরেটরি স্থাপিত হলেও ব্যবহার শুরু করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর এখনও অনুমতি দেয়নি। ক্ষতি হচ্ছে দেশের, বিষয়টি আপনাকে পুনরায় অবগত করলাম।

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে জাফরুল্লাহ চৌধুরী লিখেছেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে জাতির কঠিন সমস্যা থেকে মুক্তির সম্ভাবনা সমধিক। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও নববর্ষের শুভ কামনা করেন তিনি।