লকডাউন আরও বাড়তে পারে

বাড়তে পারে লকডাউন
বাড়তে পারে লকডাউন

নিউজ ডেস্ক : সরকার চলমান ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর চিন্তা করছে। বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতি পর্যালোচনার বিষয়ে আগামী সোমবার সভা ডাকা হয়েছে। লকডাউনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে জানানো হয়।

শনিবার মন্ত্রিপরিষদের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, করোনার সংক্রমণ এখনো বেশি। লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়তে পারে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে ১৯ এপ্রিলের সভায়।

সরকার ৮ মার্চ গত বছর দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের তথ্য জানায় । ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যু হয় । সরকার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল। কয়েক দফায় বাড়িয়ে টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ছিল। করোনার সংক্রমণ কমেও গিয়েছিল। সম্প্রতি গত মার্চ মাস থেকে করোনার সংক্রমণ আবারও বাড়ছে। পরপর দুদিন করোনায় সংক্রমিত হয়ে ১০১ জন করে মারা গেছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত আরও কঠোর বিধিনিষেধ দিয়ে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ শুরু হয়। বর্তমানে লকডাউনে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কিন্তু বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থলবন্দর এবং এ-সংক্রান্ত অফিসগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। প্রথম ব্যাংক বন্ধের ঘোষণা দিলেও পরে তা আবার খোলার সিদ্ধান্ত হয়। শিল্পকারখানাগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু আছে।

এই লকডাউন আরও বাড়বে কি না, সেটি নিয়ে মানুষের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিকল্পনা হলো, চলমান লকডাউন আরও সাত দিন বাড়িয়ে এরপর আবার শর্তসাপেক্ষে বিভিন্ন বিধিনিষেধ দিয়ে চলা। এভাবে পবিত্র ঈদুল ফিতর পর্যন্ত চলা। পরে পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া। লকডাউন সাত দিন যদি বাড়ে, তাহলে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত হয়। পরের দিন ২৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার।

পরের দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি। সববিষয় মাথায় রেখেই লকডাউনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সরকার করোনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিও সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় টানা দুই সপ্তাহের লকডাউন দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, লকডাউন বাড়ানোর পরামর্শ আছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯ এপ্রিলের সভার পর ওই দিন বা ২০ এপ্রিল কী হবে, তা জানিয়ে দেওয়া হবে।