মুজিব নগর সরকারের সুবর্ণজয়ন্তীতে স্মারক ডাকটিকেট

মুজিব নগর সরকারের সুবর্ণজয়ন্তীতে স্মারক ডাকটিকেট
মুজিব নগর সরকারের সুবর্ণজয়ন্তীতে স্মারক ডাকটিকেট

নিউজ ডেস্ক : মুজিব নগর সরকারের শপথ গ্রহণের সুবর্ণজয়ন্তী বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল মুজিব নগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহণ করে এবং মুজিব নগর সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নাম করণ করা হয় মুজিবনগর।

মুজিব নগর সরকারের শপথ গ্রহণের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ডাক অধিদপ্তর স্মারক ডাকটিকেট, উদ্বোধনী খাম, ডাটা কার্ড এবং বিশেষ সীলমোহর প্রকাশ করেছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার শনিবার ঢাকায় তার দপ্তরে দশ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকেট, দশ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনিী খাম অবমুক্ত করেন এবং পাঁচ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটাকার্ড ও একটি বিশেষ সীলমোহর প্রকাশ করেন। মন্ত্রী দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিবৃতি দিয়েছেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বিবৃতিতে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ তেইশ বছরের সংগ্রামের পথ বেয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ইতিহাসে ১৭ এপ্রিল একটি ঐতিহাসিক মাইল ফলক। তিনি মুজিব নগর সরকার প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক করে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা করা হয়। ১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।

এই সরকার সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্র প্রধান এবং বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে তাকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর অস্থায়ী সর্বাধিনায়ক নির্বাচিত করে। তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীকে অর্থমন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক আহমেদকে পররাষ্ট্র, আইন এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী, এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্র, কৃষি, ত্রাণ এবং পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হয়। চার জন মন্ত্রীকে ১২টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়। ১৯৭১ সালের মুজিব নগর সরকার ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে।

মন্ত্রী বলেন, মুজিব নগর সরকার গঠিত না হলে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী অথবা বিদ্রোহী হয়ে পড়তাম। ফলে মুজিব নগর সরকারের বিভিন্ন কার্যাবলী পর্যালোচনা করলেই বোঝা যাবে কত ব্যাপক এবং সুসংগঠিত ছিল এই সরকারের কর্মসূচি এবং গঠন কাঠামো।

স্মারক ডাকটিকেট, উদ্বোধনী খাম ও ডাটাকার্ড আজ থেকে ঢাকা জিপিও’র ফিলাটেলিক ব্যুরো এবং পরে দেশের অন্যান্য জিপিও এবং প্রধান ডাকঘর থেকে সংগ্রহ করা যাবে।