গ্রাম বাংলার খেলা

গ্রাম বাংলার খেলা
গ্রাম বাংলার খেলা

অধ্যাপক মুর্শেদ আলম খান
গ্রাম বাংলার খেলা: জীবনের সৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকেই মানুষ তার খেয়াল খুশিতে দৈহিক কসরৎ দেখিয়ে অন্যকে মজা দিয়ে থাকে। একজনের দেখাদেখি দৈহিক কসরত শেখা ও নতুন কিছু বের করার মধ্য দিয়েই খেলাধূলার প্রাথমিক পর্যায় শুরু হয়। প্লেটোর মতে খেলাধূলার সূচনা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি ও প্রয়োজন থেকে। খেলা বা ক্রীড়া জীবমাত্রেরই সহজাত প্রবৃত্তি। মানুষ প্রকৃতি ও প্রাণীর সহ অবস্খানে পৃথিবীর আদিম ক্রীড়ার সূত্রপাত। ঐতিহাসিককালে খাদ্য ও যুদ্ধের প্রয়োজনেই ক্রীড়া কসরতের সৃষ্টি।

খেলাধূলাসম্পর্কে জার্মানীর কবি ও দার্শনিক জে সিভন শিলার ও দার্শনিক হাবার্ট স্পন্সর এর মতে শিশুদের মধ্যে অতিরিক্ত জীবনী শক্তিকে নিষ্কাশিত করাই খেলার মূল প্রেরণা। সুইস মনোবিঙ্গানী কাল গ্রুস এর মতে ভবিষ্যৎ জীবন সংগ্রামে অংশ গ্রহনের প্রস্তুতিই হচ্ছে খেলা।তার এই বিষয়টি অ্যানটি সিপেটরি থিওরি নামে পরিচিত। পরবর্তীতে স্যানলি হল বিপরীত একটি তত্ব দেন। তার এই তত্বটি থিওরি অব রিক্যাপিচুলেশন বা পুনরানুষ্ঠানের তত্ব নামে পরিচিত। তাঁর মতে হাজার হাজার বছরের ফেলে আসা জীবনকে মানুষ তার খেলার মধ্য দিয়ে পুনরানুষ্ঠান করে থাকে।

                                 

খেলার বিষয়ে সিগমুন্ড, ফ্রয়েড বলেন, খেলাকে আপাতত দৃষ্টিতে যতই অর্থহীন মনে হোক না কেন, মূলত খেলার মধ্য দিয়ে মানব জীবনের অবদমিত াকাঙ্খার মুক্তি ঘটায়। খেলাধূলা চিত্তবিনোদনের এক অন্যতম মাধ্যম। একটি জাতির উৎসাহ, উদ্দিপনা, শৌষও সাহসিকতার প্রতিফলন ঘটে তাদের বিচিত্র খেলাধূলার মধ্য দিয়ে। আধুনিক খেলাধূলা প্রাচীন দৈহিক কসরত ও অনুশীলনের মার্জিতরুপ।সমাজ বিকাশের বিভিন্ন স্তরে নৃত্য, গীত, ছন্দ, প্রভৃতির কলা সৌন্দর্যের ব্যন্ঞ্চনা আসে,তার মূলে রয়েছে এই ক্রীড়া। আর এভাবেই ক্রীড়া থেকে সংস্কৃতির জন্ম।কবে কোন স্মরণাতীত কালে অলিম্পিয়া শহরে পৃথিবীর দেবতা জিউস এর আরাধনাকালে পাঁচ দিনের দৈহিক কসরত ও কৃচ্ছতা সাধনের প্রাক্কালে শিখা প্রজ্জলিত করার রীতি প্রচলন হয়।

যা আজও অলিম্পিক বা খেলাধূলাশুরুর প্রাক্কালে শিখা প্রজ্জলনের প্রথা রয়ে গেছে। আনন্দের আয়োজনে অনেক পূর্বে কবুতর উড়ানোর প্রচলন ছিল। যা আজও প্রচলন রয়ে গেছে। আমাদের মূল শেকড় হচ্ছে গ্রাম, আর সেই গ্রামবাংলার মানুষের সভ্যতাই আমাদের বাস্তব সভ্যতা। এই গ্রামগুলো ঘিরেই কেটেছে শৈশব, কৈশর ও যৌবন। আর একে ঘিরেই রয়েছে নানা খেলা।এই খেলাধূলাগুলো গ্রামের মানুষের মতই সহজ, সরল ও অনাড়ম্বর। এসব খেলাধূলাগুলো একান্তই দেশীয় ওআন্ঞ্চলিক বিনোদনের উপাদান। প্রাত্যহিক জীবনের ব্যবহার্য উপকরণ থেকেই সংগ্রহ করে নেয়া হয় খেলার উপকরনগুলো।

                                   

সব খেলাতেই একটি নিদিষ্ট জায়গার প্রয়োজন হয়, তবে এইসব লৌকিক খেলাগুলো সেদিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। কোন নির্জন সড়কে, কিংবা কোন গাছের নীচে মাটিতে দাগ কেটে খেলার উপকরন সংগ্রহ করে, মাটিতে দাগ কেটে কাটিয়ে দিচ্ছে অবসর সময়। এইসব খেলাধূলাতে বাধাধরা কোন নিয়ম নেই। এসব লোকজ খেলাধূলাগুলো অর্থহীন মনে হলেও খেলাধূলাতে নির্দোষ আনন্দ রয়েছে। রয়েছে শিশুদের অবদমিত আকাঙ্খা ও মন: বিকাশের পথ।

গ্রামিণ থেলা বই থেকে লেখা : মুর্শেদ আলম খান ও এম ইদ্রিস আলী