মেহেরপুরের শিক্ষক খালিদ মোশারফের ইংরেজি পাঠের ভিন্ন আসর

মেহেরপুরের শিক্ষক খালিদ মোশারফের ইংরেজি পাঠের ভিন্ন আসর
ইংরেজি পাঠদান রত অবস্থায় শিক্ষক খালিদ মোশারফ

নিউজ ডেস্ক:  ঝরে পড়া রোধে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের নিজ খরচায় ইংরেজি শিক্ষা দিচ্ছেন জেলার শালিকা গ্রামের এক শিক্ষক খালিদ মোশারফ। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নিজ খরচায় তিনি ইংরেজি পড়ান এবং দুস্থ শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন খাতা-কলম। তার শিক্ষার্থীরা এখন ইংরেজিতে কথা বলেন স্বাচ্ছন্দে।

সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে তার শিক্ষার্থীরা এই প্রতিবেদকে বলেন- ‘ ম্যাম, আপনি আমাদের ইংরেজিতে যেকোন প্রশ্ন করেন। আমরা ইংরেজিতে উত্তর দেবার চেষ্টা করবো।

খালিদ মোশারফ মেহেরপুর সদর উপজেলার শুভরাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। বর্তমানে জেলা শহরের স্টেডিয়াম পাড়ায় তার বাড়ি। সেখানেই সকালে ও বিকেলে ইংরেজি ভাষা শেখান। শহরের বিভিন্ন প্রান্তের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ভাষা শিখতে আসেন।

বর্তমানে তিনি ইংরেজিতে পিছিয়ে থাকা ৩০ জন শিক্ষার্থীকে ইংরেজি শিক্ষা, উচ্চারণ, নৈতিকতা জ্ঞানদান করছেন। তার সাথে গলা মিলিয়ে ইংরেজি উচ্চারণ রপ্ত করছে ছাত্র-ছাত্রীরা। প্রতি বেঞ্চে একজন করে শিক্ষার্থী। করোনাকালীন সময়ে তাদের সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে প্রতি দলে ১০ জন করে শিক্ষার্থী ইংরেজি ভাষা শিখছেন।

সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রি তাসনিহা জান্নাত সিফা বলেন- ইংরেজি বিষয়ে সে খুব দুর্বল ছিলেন। তিনি বলেন, স্যার খুব ভালোভাবে পড়ান। স্যারের কাছে ইংরেজির পাশাপাশি নৈতিক জ্ঞান পাচ্ছি।

অপর শিক্ষার্থী লামিয়া খাতুন জানান- পড়া না বুঝলে তিনি ভালোভাবে পড়া বুঝিয়ে দেন। স্কুলে যেভাবে ইংরেজি পড়ান স্যাররা সেই গতানুগতিক পড়া স্যার পড়ান না। কিন্তু স্যার কোন আর্থিক সুবিধা নেন না। টাকা দিলে সেই টাকা আমাদের হাত দিয়েই দুস্থদের দান করান। এমন নৈতিকতাসহ আবার ভালোভাবেও পড়ান।

শিক্ষক বাবা আওলাদ হোসেন, গৃহিনী মাতা মনিরা বেগমের সন্তান খালিদ মোশারফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয আই ই আর বিভাগ থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স করেছেন। খালিদ বলেন, অনেক ছাত্র-ছাত্রী ঝরে পড়ে শুধুমাত্র পড়া বুঝতে না পারার কারণে। তাই তারা যাতে স্কুল থেকে ঝরে না পড়ে সে কারণে তিনি নিজ উদ্যোগে বাড়িতে নিখরচায় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা দিচ্ছি।

আগামীতে দুস্থদের জন্য সকল বিষয়ের ক্লাস নিতে চাই। তিনি আরও বলেন, পিছিয়ে পড়া দরিদ্র ঘরের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রাইভেট পড়ার কোন সুযোগ পায় না। স্কুলে ঠিকমতো ইংরেজি বুঝতে পারে না বলে এই বিষয়ে পরীক্ষার ফলাফল খুব ভালো হয় না তাদের। এর প্রভাব পড়ে হাই স্কুল ও কলেজে গিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায় না।

মেহেরপুর সরকারি কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল আমিন ধূমকেতু বলেন, খালিদ মোশারফের উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়।

তার কাছে বিনা বেতনে পড়ে গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের উপকার হচ্ছে। তার মতো আমাদের প্রত্যেকের উদ্যোগী হওয়া উচিৎ। এ রকম সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত থাকলে আমাদের ছেলে-মেয়েরা দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হবে এবং সমাজের উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে পারবে। আমাদেরও উচিৎ তার নৈতিকতার মূল্যায়ন করার।