দুর্গাপুরে কালবৈশাখীর গরম হাওয়া কৃষকের মাথায় হাত

দুর্গাপুরে কৃষকের মাথায় হাত
দুর্গাপুরে কৃষকের মাথায় হাত

সাহাদাত হোসেন কাজল, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:  সোনালী স্বপ্নে কৃষক যখন বিভোর, সেই স্বপ্নে আচমকা হানা দিয়েছে কালবৈশাখীর গরম ঝড়ো হাওয়া। মুহুর্তেই শেষ করে দিয়েছে নেএকোনা জেলার দুগার্পুর উপজেলার হাজারো কৃষকের স্বপ্ন। আচমকা গরম বাতাস ও বৈশাখী ঝড়ো হাওয়ায় বোরো ধানে ব্যাপক ক্ষতি দেখা দিয়েছে।

রোববার (৪এপ্রিল) উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বৈশাখী ঝড় ও গরম বাতাসে হাজারো কৃষকের ঘরে কান্নার আহাজারী চলছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার গাওকান্দিয়া, কুল্লাগড়া,
দুর্গাপুর, কাকৈরগড়া, চন্ডিগড়, বাকলজোড়া, বিরিশিরি, ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভবনা থাকলেও গরম ঝড়ো হাওয়ায় মাঠের ধানের শীষগুলো সাদা হয়ে মাটিতে মিশে গেছে। এতে ২৮ জাত ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকেরা।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, ধানের পরাগায়ণ পর্যায়ে ৩০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় ধানের পূর্ণতাপ্রাপ্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ের সময় ৩৫ ডিগ্রির তাপমাত্রায় প্রচন্ড বেগে বাতাস বয়ে যাওয়ায় এ উপজেলায় ধানের এই ক্ষতি হয়েছে।

দুর্গাপুর ইউনিয়নের চারিয়া মাসকান্দা গ্রামের কৃষক ইলিয়াস মিয়া জানান , করোনায় ১ বছর ধরে ব্যবসা বাণিজ্যের মন্দাভাব । ধারদেনা করে ২০ কাঠা জমিতে ধান রোপন করেছি । কিন্ত বৈশাখী ঝড় ও গরম বাতাস একমাত্র ফসল জমির সব ধান নষ্ট করে দিয়েছে । এখন কীভাবে ধারদেনা পরিশোধ করবো এ দুশ্চিতায় দিন পার করছি ।

বাকলজোড়া ইউনিয়নের পাবিয়াখালী গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ জানান, আমি অন্যের বাড়িতে কাজ কর্ম করে ১৩ কাটা জমিতে ইরি বোরো ধান বিআর ২৮ ও বিআর ৫৮ চাষ করেছিলাম। গরম বাতাস আমার সোনালী ফসলকে কাল করে দিল। ওই গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদির জানান, আমি চৌদ্দ কাটা জমিতে হাইব্রিড জিরাশাইল ধান করেছিলাম। গরম বাতাস
সবটুকু জমির ধান ক্ষতি করে দিল । ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতা চান উপজেলার কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, চলতি বছর উপজেলায় ১৭ হাজার ৬শত হেক্টর জমি আবাদ হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১হাজার ৫শত হেক্টরের মতো ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি হবে বলে দাবি করেন কৃষি অফিসার । পৌরসভাসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন মাঠে জরিপ কাজ অব্যাহত রেখেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাজীব উল আহসান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি নিরুপনের জন্য জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় কৃষি অফিসের মাধ্যমে ক্ষতি
নিরুপন করা হচ্ছে। । কৃষি জমিতে বেশি করে পানি ধরে রাখতে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে কৃষি অফিসকে মাইকিং করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরী করা হবে ।