প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জন কেরির সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জন কেরির সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জন কেরির সাক্ষাৎ

নিউজ ডেস্ক:     জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বছরে ১০০ কোটি ডলারের তহবিল গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিশেষ দূত জন কেরির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। শুক্রবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় কেরির সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় কেরি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে চায়।

শুক্রবার চার ঘণ্টার সফরে ঢাকায় আসেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু-সংক্রান্ত বিশেষ দূত জন কেরি। সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং তার স্ত্রী সেলিনা মোমেন। সংক্ষিপ্ত সফরে জন কেরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক এবং যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

কেরি বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক যে যুক্তরাষ্ট্রের আগের প্রেসিডেন্ট প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র আবারও জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কার্যক্রমে ফিরে এসেছে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ভিন্ন পথে হাঁটছে। এ সংকট সমাধানে বাইডেন প্রশাসন বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে যাবে।

ড. মোমেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলার জন্য বছরে ১০০ কোটি ডলারের তহবিল গঠন করার কথা উন্নত বিশ্বের। কিন্তু এ বিষয়ে অগ্রগতি সামান্য।

তিনি বলেন, জন কেরি এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হয়ে যখনই যে দায়িত্ব নিয়েছেন তার প্রতিটিতেই সফল হয়েছেন। এ জন্য দৃঢ় আশা থাকবে তিনি ১০০ কোটি ডলারের জলবায়ু তহবিল গঠনেও সফল হবেন।

আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ড. মোমেন বলেন, জন কেরিকে জানানো হয়েছে রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের বনায়ন ধ্বংস করছে। কক্সবাজার এলাকায় পরিবেশ, প্রতিবেশ এবং আর্থসামাজিক ব্যবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে সম্মানজনক ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে এ সংকটের সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা দরকার বলেও কেরিকে অবহিত করা হয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মোমেন।

সংবাদ সম্মেলনে কেরি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য সব দেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়ে কাজ করতে হবে। কোনো দেশের একার পক্ষে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয়। এ জন্যই মার্কিন প্রেসিডেন্ট চলতি মাসেই জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান করেছেন। এই সম্মেলনে ধনী ও বড় দেশগুলোর পাশাপাশি স্বল্পোন্নত এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতির মুখোমুখি দেশগুলোরও কথা বলার সুযোগ থাকবে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানাতেই তিনি ঢাকা সফরে এসেছেন। তিনি বলেন, এখন দায়িত্ব হচ্ছে এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য উপযোগী সবুজ ও সচল রাখা। এই দায়িত্ব পালনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।