ব্রাহ্মণবাড়িয়া কি বিচ্ছিন্ন কোনও দ্বীপ?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কি বিচ্ছিন্ন কোনও দ্বীপ?
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কি বিচ্ছিন্ন কোনও দ্বীপ?

রেজানুর রহমান

একজন সংবাদকর্মী কেঁদে ফেললেন। তাকে শুধু সংবাদকর্মী বললে ভুল হবে। তিনি সংবাদকর্মীদের নেতা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। নাম জাবেদ রহিম বিজন। তার পাশেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে বসে আছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দীন জামী। তার মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা। অসহায় চেহারা। মুখের হাসি মিলিয়ে গেছে। দেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আনন্দে গোটা দেশের মানুষ যেদিন আনন্দ-উৎসবে বিভোর সেদিনই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘটেছে ইতিহাসের আরেক নির্দয়, নিষ্ঠুরতম সন্ত্রাসী ঘটনা। যে ঘটনার সঙ্গে মহান ৭১’এর ২৫ মার্চের কালরাত্রির অনেকটাই মিল খুঁজে পাওয়া যায়, এমনই মন্তব্য করলেন জাবেদ রহিম বিজন।

আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে বললেন, ঘটনার দিন ওরা শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে হামলা করেনি, ওরা ‘গান পাউডার’ দিয়ে প্রেসক্লাব উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। ওরা শহরের এমন কোনও স্থাপনা নাই যার ওপর হামলা করেনি। ওরা বিদ্যুৎ অফিসে হামলা করেছে। দমকল অফিসে ভাঙচুর করেছে। ভূমি অফিস শুধু ভাঙচুরই করেনি, অফিসের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এবং আগুনে সবকিছু পুড়ে যাওয়া নিশ্চিত করার জন্য ভূমি অফিসের সামনে সতর্ক প্রহরা বসিয়েছিল। পাশেই সুর সম্রাট আলাউদ্দীন সংগীতাঙ্গনে আগুন দিয়ে উল্লাস করেছে। জেলার শিল্পকলা একাডেমি ভবনে আগুন দিয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো– ওরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি প্রকাশ্যে পুড়িয়ে দিয়েছে। জাবেদ রহিম বিজন আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে একের পর এক নারকীয় তাণ্ডবের বর্ণনা দিয়ে যাচ্ছিলেন।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কি বিচ্ছিন্ন কোনও দ্বীপ?
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কি বিচ্ছিন্ন কোনও দ্বীপ?

তার কথা শুনে বারবার একটি প্রশ্নই মনের ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছিলো– ব্রাহ্মণবাড়িয়া কি কোনও বিচ্ছিন্ন দ্বীপ? স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীরই দিনে স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিতে যারা আগুন দিলো, শহরটাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করলো তাদের মূল উদ্দেশ্য কী? অবশ্য প্রকাশ্যে উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমন ঠেকাতে হেফাজতে ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বিক্ষোভ-সমাবেশের আয়োজন করে। গণতান্ত্রিক একটি দেশে বিক্ষোভ-সমাবেশ হতেই পারে। কিন্তু বিক্ষোভের নামে, রেল-স্টেশনে আগুন দেওয়া, প্রেসক্লাবে হামলা করা, ভূমি অফিস পুড়িয়ে দেওয়া, বিদ্যুৎ অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা করা, ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেওয়া কীসের আলামত? তাও আবার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আনন্দ দিনে! উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় সগৌরবে এগিয়ে যাওয়া স্বাধীন বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীতে বিক্ষোভ প্রদর্শনের নামে যা করা হলো তা প্রকাশ্যে রাষ্ট্রদ্রোহের ইঙ্গিত বহন করে। অথচ ঘটনার এক সপ্তাহ কেটে গেলেও এ ব্যাপারে কার্যত কোনও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ক্ষতস্থানগুলো অসহায় চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শহরের পরিবেশ অনেকটাই স্বাভাবিক। স্থানীয় সাংবাদিকদের অসহায় প্রতিবাদ ছাড়া আর তেমন কিছুই চোখে পড়লো না। ঘটনার দিন একজন আওয়ামী লীগ নেতা ও ছাত্রলীগের সভাপতির বাসভবনেও হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবেই সাধারণ সম্পাদকের মুখে শুনলাম শহরের বিভিন্ন স্থানে নির্দয়, নিষ্ঠুরতম সন্ত্রাসী ঘটনার জন্য  আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদেরকেও দায়ী করা হয়েছে। এটাও বা কীসের আলামত? অনুপ্রবেশ কারী কারা? শহরে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখলাম।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সফর করেছে গত পরশু। আমিও ছিলাম সেই দলে। দেশের প্রচার মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা জেনেছি। কত যে প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আনন্দ দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদে কেন আগুন সন্ত্রাস হলো? কেন একটা শহর পুড়ে দেওয়া হলো? জাতির জনকের ছবিতে যারা আগুন দিলো তাদের তো প্রকাশ্যেই দেখা গেছে। কেন তারা গ্রেফতার হলো না? এরকম অনেক প্রশ্ন মাথায় নিয়ে গত শুক্রবার সকালে যখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ঢুকলাম তখন চোখের দেখাও যেন বিশ্বাস হচ্ছিলো না।

শহরে ঢোকার মুখে একটি পুলিশ ফাঁড়ি ধ্বংসস্তূপের মতো দাঁড়িয়ে আছে। ঘটনার দিন সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা করেছে। ফাঁড়িতে আগুন দিয়েছে। পথে যেতে যেতে দেখলাম কালো বোরখা পরা মেয়েদের সারি। ওরা মাদ্রাসার ছাত্রী। জানা গেলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরেই নাকি ছোট বড় ৫৭৪টি মাদ্রাসা আছে। ঘটনার দিন পুরো শহর ছিল মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দখলে। তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় নারকীয় কায়দায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে প্রথমে ইটপাটকেল ছোড়ে সন্ত্রাসীরা। প্রেসক্লাবের সামনে সভাপতি রিয়াজ উদ্দীন জামীকে দেখামাত্রই ধর ধর বলে ধাওয়া করে এবং তার ওপর হামলা চালায়। রাস্তার পাশেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের অবস্থান। দোতলায় প্রেসক্লাবের কর্মকর্তাদের অফিস কক্ষ ও ছোট্ট মিলনায়তন। ঢুকেই মনে হলো একটা ধ্বংসস্তূপের মুখোমুখি আমরা। সন্ত্রাসীদের ইটপাটকেলের আঘাতে প্রেসক্লাব ভবনের মেঝেতে ভাঙা কাচের স্তূপ পড়ে আছে।

দেখেই বোঝা গেলো সন্ত্রাসীরা সেদিন এই প্রেসক্লাবটির ওপর কতটা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিল। সিঁড়ি দিয়ে একটাই ওঠা ও নামার সরু রাস্তা। প্রেসক্লাবে উঠতে ও নামতে ওই একটাই পথ ব্যবহার করতে হয়। ঘটনার সময় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ সকলেই প্রাণভয়ে প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের রুমসহ মিলনায়তনে আশ্রয় নেন। সন্ত্রাসীরা নাকি গানপাউডার দিয়ে প্রেসক্লাব ভবন উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। রিয়াজ উদ্দিন জামী বললেন, ‘ওরা শেষ পর্যন্ত গানপাউডার ব্যবহার করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিকরা সেদিন একসাথেই মারা যেতো।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব থেকে একটু হাঁটলেই সুর সম্রাট আলাউদ্দীন সংগীতাঙ্গন। সুর সম্রাট আলাউদ্দীন প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের গর্ব। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যের কথা উঠলেই প্রথমেই শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয় সুর সম্রাট আলাউদ্দীনের নাম। অথচ আলাউদ্দীন সংগীত অ্যাকাডেমি নির্দয়, নিষ্ঠুর হামলার শিকার হয়েছে সেদিন।

আন্তর্জাতিক খ্যাত এই সংগীত প্রতিষ্ঠানের কোনও কিছুই আর অবশিষ্ট নাই। জানা গেলো সন্ত্রাসীরা সেদিন প্রথমে আলাউদ্দীন সংগীতাঙ্গনে নির্দয়, নিষ্ঠুর কায়দায় ভাঙচুর শুরু করে। পরে সংগীতাঙ্গনে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রতিষ্ঠানটি যেন লজ্জা ও অপমানে মুখ তুলে তাকাতে সাহস পাচ্ছে না। অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে। ঢোকার মুখে দেখলাম মেঝেতে ভাঙা কাচের স্তূপ।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর সুযোগ্য কন্যা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুটি ছবি একটি ভাঙা টেবিলের ওপর পড়ে আছে। গোটা সংগীতাঙ্গনজুড়ে শুধুই পোড়া গন্ধ। আর অসহায় কান্নার সুর ভেসে বেড়াচ্ছে। দেখেই বোঝা যায় সন্ত্রাসীরা কতটা মারমুখী হয়ে উঠেছিল এই বিশ্বজয়ী সংগীত প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। কিন্তু কেন এই আক্রোশ? এর আগেও এই সংগীত প্রতিষ্ঠানটি একাধিকবার মৌলবাদীদের আক্রোশের শিকার হয়েছিল।

সুর সম্রাট আলাউদ্দীন সংগীতাঙ্গনের পাশেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া ভূমি অফিসের অবস্থান। সন্ত্রাসীরা বীরদর্পে এই প্রতিষ্ঠানটিতেও আগুন দিয়েছে। কথায় কথায় অনেকে বললেন, সন্ত্রাসীরা রাস্তার পাশে সরকারি স্থাপনা যা পেয়েছে তাতেই আগুন দিয়েছে অথবা ভাঙচুর করেছে। এখন প্রশ্ন হলো সরকারি স্থাপনার ওপরই বা তাদের এত আক্রোশ কেন? ভূমি অফিস তো একটি শহরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সেখানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ কেন করা হলো? এমন তথ্যও পাওয়া গেলো সন্ত্রাসীরা ভূমি অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করার পর যাতে কেউ পানি দিয়ে আগুন নেভাতে না পারে সে জন্য কড়া পাহারার ব্যবস্থাও করেছিল। ভূমি অফিস পুড়ছে। আর সন্ত্রাসীরা বীরদর্পে ভবনটির পুড়ে যাওয়া দৃশ্য দেখছে। এটাই বা কীসের আলামত?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েকজন অধিবাসী বললেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরজুড়ে হামলার ঘটনা অবশ্যই পরিকল্পিত। মৌলবাদী শক্তি তাদের শক্তি প্রয়োগ করে একটি বিশেষ বার্তা দিতে চেয়েছে। এই সুযোগে শহরে নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রদর্শনের জন্য অন্যরাও যার যার মতো করে ফায়দা লুটেছে। সেদিন গোটা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর দখলে রেখেছিল পায়জামা, পাঞ্জাবি ও টুপি পরা হাজার হাজার মানুষ। যাদের মধ্যে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাই ছিল সামনের সারিতে। প্যান্ট শার্ট পরা বিক্ষোভকারীদেরও বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করতে দেখা গেছে। এরা কারা? বিভিন্ন সূত্রের মতে, এদের অনেকেই ছিল বিরোধী দলের কর্মী। আবার নাকি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরই প্যান্ট শার্ট পরিয়ে বিক্ষোভে নামানো হয়েছিল– এমন অভিযোগও শোনা গেলো।

এখন প্রশ্ন হলো– ব্রাহ্মণবাড়িয়া কি বিচ্ছিন্ন কোনও দ্বীপ? ২৬ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ প্রকাশ্য দিবালোকে একটি শহরজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হলো। রেল স্টেশন, দমকলের অফিস, পৌরসভা, পৌর মার্কেট, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, প্রেসক্লাব, ডাকবাংলো, থানা, ফাঁড়ি, বিদ্যুৎ অফিস, শিল্পকলা একাডেমিসহ শহরের প্রায় ৪০টি স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে এক যোগে হামলা করা হলো। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আব্দুল কুদ্দুস মাখন মুক্তমঞ্চ এবং মঞ্চের পাশেই বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালেও হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা। ফেসবুকে দেখলাম টুপি, পায়জামা, পাঞ্জাবি পরা কয়েকজন লোক প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শাবল দিয়ে আঘাত করছে। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে এই সাহস তারা পেল কীভাবে? কার কাছ থেকে?

মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর আগুনে পুড়লো। অথচ অদ্যাবধি এ ব্যাপারে দৃষ্টান্তমূলক কোনও পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি। এটাই বা কীসের আলামত? প্রকাশ্য দিবালোকে একটি শহর পুড়িয়ে দিলো সন্ত্রাসীরা। এ যেন ’৭১-এর মতোই। মহান ৭১ সালে এভাবেই গ্রাম শহর, জনপদে আগুন দিয়েছে পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আলবদরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা দেখে তো মনে হচ্ছে সেই ষড়যন্ত্র এখনও শেষ হয়নি।

সেদিন বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ছেড়ে যখন ঢাকার দিকে ফিরছিলাম তখন শুধুই শহরটার অসহায় ছবি চোখের সামনে ভাসছিল। একটি স্বাধীন দেশের গুরুত্বপূর্ণ জনপদে বিক্ষোভের নামে যেভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে তাকে কি আমরা শেষ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন ঘটনাই বলবো? যদি তা-ই না হয় তাহলে একটি শহর ধ্বংস করার ঘটনায় কেন এখনও দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হলো না? দুর্বলতা কোথায়? আবারও ওই একই প্রশ্ন করি– ব্রাহ্মণবাড়িয়া কি কোনও বিচ্ছিন্ন দ্বীপ?

লেখক: কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, সম্পাদক: আনন্দ আলো।