বিজেপি আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে: মমতা

মমতার দাবী নির্বাচনে আমি একাই ১০১
মমতার দাবী নির্বাচনে আমি একাই ১০১

নিউজ ডেস্ক:   জনসভা করার জন্য মানুষ জোগাড় করতে না পেরে অমিত শাহ হতাশ হয়ে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রধান কর্মকর্তাকে নির্বাচন কমিশনের সরিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের শামিল। অমিত শাহকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি দেশের পরিস্থিতি সামলাবেন, নাকি পশ্চিমবঙ্গে আমাদের হয়রানি করবেন? বিজেপি কি আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আট ধাপের ভোট গ্রহণ শুরু হচ্ছে ২৭ মার্চ থেকে। ইতোমধ্যে আগাম ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। পুরো রাজ্যে ভোটের উত্তপ্ত হাওয়া বইছে। ভোটের প্রচার এখন তুঙ্গে। সেই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী জনসভা করার কথা ছিল অমিত শাহর। তবে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারে ত্রুটির কারণ দেখিয়ে সেটি বাতিল করা হয়। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় এক নির্বাচনী সভায় মমতা বলেন, মানুষ তার জনসভার ডাকে সাড়া দেয়নি দেখেই সভা বাতিল করেছেন অমিত শাহ।

হুইলচেয়ারে বসেই বাঁকুড়ার নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দেন মমতা। এ সময় তিনি বলেন, কয়েকজন গুণ্ডা ও মীরজাফর বিজেপি নিয়েছে। তারা পাঁচশ, হাজার টাকায় ভোট কিনবে। আমাদের দলে এমন যারা ছিল, তাদের বিদায় করে দিয়েছি। তৃণমূল কংগ্রেস এখন মানুষের দল।

আগাম ভোট গ্রহণ: করোনা পরিস্থিতির কারণে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে আগাম ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। গত সোমবার থেকে পূর্ব মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে আগাম ভোট নেওয়া হচ্ছে। এ দুই জায়গার মতো অন্যান্য আসনেও ৮০ বছরের বেশি বয়সী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভোটারদের তালিকা ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে চলছে পোস্টাল ভোট। প্রতিটি দলে নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর দুই সদস্য, রাজ্য পুলিশের দুই সদস্য ও একজন ফটোগ্রাফার থাকছেন। একই সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে পোস্টাল ভোটও চলছে।

প্রার্থী নিয়ে বিজেপির নেতাকর্মীদের অসন্তোষ: পশ্চিমবঙ্গে অমিত শাহ অবস্থান করার মধ্যেই গত সোমবার প্রার্থী বাছাই নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়েন বিজেপির নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবারও বিজেপির হেস্টিং কার্যালয়ের সামনের এলাকা মূলত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিক্ষোভ দমনে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয় পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় বিজেপির আট নেতাকর্মীকে।

এ পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের দিল্লিতে ডেকেছেন অমিত শাহ। সেখানে নির্বাচনী রণকৌশল নতুন করে সাজানো হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে এবার যে কোনো মূল্যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডাসহ দলটির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।