হজ্ব ও ওমরাহ্‌ আইন সংশোধন দাবি হাব গণতান্ত্রিক ঐক্যফ্রন্টের

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন হাব গণতান্ত্রিক ঐক্যফ্রন্টের নেতারা
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন হাব গণতান্ত্রিক ঐক্যফ্রন্টের নেতারা

সুমন দত্ত: নতুন হজ্ব ও ওমরাহ্‌ আইনকে সংবিধান বিরোধী ও অগণতান্ত্রিক বলে মন্তব্য করেছে শতাধিক হজ্ব ও ওমরাহ্‌ এজেন্সি নিয়ে গঠিত হাব গণতান্ত্রিক ঐক্য ফ্রন্ট। রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন সংগঠনের নেতারা। তাদের দাবি, অবিলম্বে হজ্ব ও ওমরাহ্ আইন ২০২০ বাতিল করে তাদের দেয়া প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে নতুন হজ্ব ও ওমরাহ্ আইন সংশোধিত আকারে তৈরি করতে হবে। আর তা না হলে, আগামীতে এ নিয়ে বৃহৎ কর্মসূচি দেবে সংগঠন।

এদিন সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মূল বক্তব্য পড়ে শোনান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ. তাজুল ইসলাম। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সংগঠনের নেতা আসলাম খান ও ড. আবদুল্লাহ আল নাসের। এছাড়া সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আবদুস সালাম আরেফি, রুহুল আমিন মিন্টু, মো. মানিক।

বক্তারা বলেন, বর্তমান হজ ও ওমরাহ্ আইন ২০২০ যে খসড়া ক্যাবিনেটে পাস হয়েছে তাতে তাদের প্রস্তাবগুলো আমলে নেয়া হয়নি। আমরা সরকারের সব পর্যায়ে কথা বলেছি। আমাদের পরামর্শ গুলো বিবেচনায় নেয়া হবে। এমন আশ্বাস মন্ত্রী দিয়েছিলেন। আমরা আইন প্রণনয়ন সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছি।

তারপরও পাস হওয়া খসড়া আইনে এর কোনো প্রতিফলন আমরা দেখি নাই। প্রয়াত ধর্ম মন্ত্রী সচিবদের নিয়ে যে আইন করে গিয়েছিলেন, সেটাই ক্যাবিনেটে পাস হয়েছে। যা অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক। আইনের ১৫ ধারা, ১৭ ধারা, ১৮,২০,২৩ এর ধারা ও তার উপধারাগুলো নিয়ে আমরা আপত্তি প্রকাশ করেছিলাম। সেগুলোর কোনো কথাই বিবেচনায় নেয়া হয়নি। যে কারণে, আমরা আজ সংবাদ সম্মেলন ডাকতে বাধ্য হলাম।

তারা আরো বলেন, এই ধারা গুলো এতটাই অগণতান্ত্রিক যে আদালতে বিচার চাওয়ার এখতিয়ার আইন করে কেড়ে নেয়া হয়েছে। যেমন ধারা ১৭ এর ৩ উপধারা যেখানে বলা আছে কোনো হজ ও ওমরাহ এজেন্সিকে প্রশাসন জরিমানা করলে ওই এজেন্সি এর বিরুদ্ধে আদালতে যেতে পারবে না। বিষয়টি পরিষ্কার করে সংগঠনের নেতা আসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ১৭ ধারায় বলা আছে কোনো এজেন্সিকে প্রশাসন যদি জরিমানা করে তবে, সে ওই জরিমানা পরিশোধ করে তারপর আপীল করবেন। যে প্রশাসন তাদের জরিমানা করেছে তাদের কাছেই আপীল করতে হবে। সেই আপীল নিষ্পত্তি হওয়ার পর তারা আদালতে যেতে পারেন। অর্থাৎ এই ধারার মাধ্যমে হজ ও ওমরাহ এজেন্সিগুলোকে কয়েক বছর বিচারের প্যাচে ঝুলিয়ে দেয়া হলো। তারা এই আইনের সংশোধন দাবি করেন।

সংগঠনের অন্য নেতা ড. আবদুল্লাহ আল নাসের বলেন, সরকার হজ এজেন্সিকে ৫০ লাখ টাকার জরিমানার অংক ঘোষণা করেছে। এটা অত্যন্ত বেশি। এটা বাস্তবায়ন হলে কোনো এজেন্সি একবার জরিমানার কোপে পড়লে, তার মালিকের বাড়ি ঘর বিক্রি করেও এই টাকা পরিশোধ করতে পারবে না। জরিমানার এই অংক কমানোর দাবি জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, এখানে বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সরকারের মাধ্যমে যারা হজ ও ওমরাহ করতে যায় তারা কোনো অনিয়ম করলে এই আইন তাদের ওপর সমানভাবে প্রয়োগ করা হবে কিনা সেটা এখানে পরিষ্কার করে বলা নেই।

আইনটি অসম্পূর্ণ ও অসম বিধায় ইহা সংবিধান পরিপন্থী। এই আইনের সকল ধারা হজ্ব ব্যবস্থাপনাকারী সরকারি ও বেসরকারি সকল পক্ষের উপর সমান ভাবে কার্যকর করার জোর দাবি জানায় তারা।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম