বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ানশিপের ফাইনালে টিম ইন্ডিয়া

নিউজ ডেস্ক: সিরিজের শুরুটা খারাপ করেও ট্রফি জয় অভ্যাসে পরিণত করেছে ভারতীয় দল। অস্ট্রেলিয়া সফরের পুনরাবৃত্তি ঘটল ঘরের মাঠে। এবার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। টিম পেইনদের কাছে প্রথম টেস্টে লজ্জাজনক হারের ধাক্কা কাটিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল টিম ইন্ডিয়া। তবে তার কয়েকদিনের মধ্যেই উৎসবের তাল কেটেছিল চেন্নাইয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জো রুটদের কাছে শোচনীয় পরাজয়। সেই সঙ্গে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠা ঘিরে তৈরি হয়েছিল উদ্বেগ। কিন্তু ফের একবার দুরন্ত কামব্যাকের চিত্রনাট্য রচনা করে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ দখল করল ভারত। নিশ্চিত হল লর্ডসে আগামী জুনে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে খেলাও। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের অন্তিম টেস্ট ড্র করলেই চলত। সে জায়গায় ইংরেজ বাহিনীকে দুরমুশ করে বিরাট কোহলিরা তুলে নিলেন ইনিংস ও ২৫ রানের জয়।

অক্ষর প্যাটেল ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের স্পিন ভেল্কিতে যথারীতি চোখে সর্ষে ফুল দেখল সফরকারী দল। এই জুটি গোটা সিরিজেই ভূত হয়ে তাড়া করেছে ইংরেজদের। অবস্থা বেগতিক বুঝে ‘অযোগ্য পিচের’ জিগিরও তুলেছে তারা। তাতে হয়তো সাময়িক গোল বাঁধানো যায়, কিন্তু নিজেদের ব্যর্থতা লুকানো সম্ভব নয়। মোতেরার যে পিচে ভারত এক ইনিংসে ৩৬৫ করেছে, সেই বাইশ গজে দু’বার ব্যাট করেও তা তুলতে পারেনি ইংল্যান্ড। ইনিংস হারের লজ্জা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে রুটদের। এরপরেও কি পিচ নিয়ে নিন্দামন্দ চালিয়ে যাবেন মাইকেল ভনরা? বোধহয় সেই সুযোগ তাঁরা আর পাবেন না। ঋষভ পন্থের সেঞ্চুরি, ওয়াশিংটনের সুন্দর অপরাজিত ৯৬ রানের ইনিংস যে তাঁদের মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছে।

২৯৪-৭ নিয়ে তৃতীয়দিনের খেলা শুরু করেছিল ভারত। স্কোরবোর্ডে আরও ৭১ রান যোগ হওয়ার পর ভারতের প্রথম ইনিংসে যবনিকা নামে। দ্বিতীয়দিন ৬০ রানে অপরাজিত থাকা সুন্দর সঙ্গীর অভাবে সেঞ্চুরি পাননি। ৯৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। অক্ষর প্যাটেল ৪৩ করে রান আউট হওয়ার পর খাতা না খুলেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন ইশান্ত শর্মা ও মহম্মদ সিরাজ। তাঁরা একটু সঙ্গ দিতে পারলে টেস্ট কেরিয়ারে প্রথম শতরানের স্বাদ পেতে পারতেন উদীয়মান এই অলরাউন্ডার। যদিও সুন্দরের আক্ষেপ অনেকটাই ভুলিয়ে দিয়েছে দলের বড় জয়।

সবমিলিয়ে ১৬০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই হোঁচট খেতে থাকে ইংল্যান্ড। অক্ষর-অশ্বিনের বিষাক্ত ঘূর্ণিতে রীতিমতো দিশেহারা দেখিয়েছে সফরকারী দলের ব্যাটসম্যানদের। ১০ রানে প্রথম উইকেট খোয়ানোর পর তাসের ঘরের মতো ধস নেমেছে তাদের ইনিংসে। চা পানের বিরতির আগে ৯১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে তৃতীয়ে দিনেই ইনিংস হার কার্যত নিশ্চিত করে ফেলে তারা। কিছুটা লড়াই চালিয়ে ছিলেন জো রুট ও ড্যান লরেন্স। কিন্তু ৩০ রানের মাথায় অশ্বিনের বলে লেগবিফোর হয়ে ফেরেন ইংরেজ অধিনায়ক। এরপর ইনিংস হার এড়ানোর দায়িত্ব গিয়ে পড়ে লরেন্সের (৫০) উপর। শেষ অবধি অর্ধশতরান পূর্ণ করে তিনি ফিরতেই ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে যবনিকা নেমে আসে। অক্ষর-অশ্বিন জুটির কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে মাত্র ১৩৫ রানে গুটিয়ে যায় ইংরেজরা। ৫টি করে উইকেট ভাগ করে নেন অক্ষর ও অশ্বিন। সিরিজের সেরা প্লেয়ারের পুরস্কার পেয়েছেন অশ্বিন। তবে জীবনের প্রথম তিন টেস্টের সবক’টিতেই ইনিংসে পাঁচ উইকেট দখলের যে কীর্তি স্থাপন করেছেন অক্ষর, তার উজ্জ্বলতাও কোনও অংশে কম নয়।

সূত্র. দৈনিক বর্তমান (কলকাতা)

ঢাকানিউজ২৪ডটকম