৫০ বছরেও কার্যকর নির্বাচন ব্যবস্থা তৈরি হয়নি: রেহমান সোবহান

৫০ বছরেও কার্যকর নির্বাচন ব্যবস্থা তৈরি হয়নি: রেহমান সোবহান
৫০ বছরেও কার্যকর নির্বাচন ব্যবস্থা তৈরি হয়নি: রেহমান সোবহান

নিউজ ডেস্ক:   বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরেও কার্যকর নির্বাচন ব্যবস্থা তৈরি করা যায়নি। ১৯৯১ সালে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল বড় অর্জন। কিন্তু সেখানে যে আশাবাদ ছিল, দুঃখজনক হলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউট ও মিত্তাল ফাউন্ডেশনের ‘৫০ বছরে বাংলাদেশ: ফিরে দেখা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সম্মেলনের প্রথম দিনের আলোচনায় বুধবার তিনি এমন মন্তব্য করেন।

সব ধরনের প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও দেশে চারটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে বলে মনে করেন রেহমান সোবহান। তিনি বলেন, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচন এবং ২০০৮ সালের সেনাসমর্থিত সরকারের অধীন নির্বাচন ছিল সর্বশেষ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। এরপর যেসব নির্বাচন হয়, সেগুলোকে বলা যায়, নন-ইলেকশন। কারণ, এগুলো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছিল না এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। তার মতে, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নির্ভর করে রাজনৈতিক নীতিনির্ধারকদের ওপর।

রেহমান সোবহান বলেন, গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় বাংলাদেশ শুরু থেকে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে আছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চেয়েছিলেন যাতে এলিট শ্রেণি দরিদ্রদের শোষণ করতে না পারে। কিন্তু যেদিন জাতির পিতাকে হত্যা করা হলো, সেদিন থেকেই সমাজতন্ত্রের অবসান হয়েছে।

সংসদও অকার্যকর, যেখানে কারও জবাবদিহির ব্যাপার নেই উল্লেখ করে সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা বিশাল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন রেহমান সোবহান। তিনি বলেন, প্রধান দুই রাজনৈতিক দল যে ধরনের মুখোমুখি অবস্থানে পৌঁছেছে। এটা সংসদীয় ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং একটা গুরুতর চ্যালেঞ্জ। তার মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে। নতুন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।

সংবিধানের চার মূলনীতিকেন্দ্রিক প্রথম পর্বের আলোচনায় রেহমান সোবহান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো রওনক জাহানের উদ্দেশে সঞ্চালক প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির গ্যারি বাসের প্রশ্ন ছিল, বাংলাদেশের সংবিধানের চার মূলনীতি কীভাবে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পেল। এর উত্তরে রওনক জাহান বলেন, স্বাধীনতার সময় দেশের স্থিতিশীলতা নিয়ে অনেকের মনে সন্দেহ ছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে কয়েক মাসের মধ্যে দেশ স্থিতিশীলতা অর্জন করে। সেই সঙ্গে দেশ স্বাধীন হওয়ার এক বছরের মধ্যে দেশের সংবিধান রচিত হয় এবং চারটি রাষ্ট্রীয় মূলনীতিকে সামনে নিয়ে এগোতে থাকে।

আরেক প্রসঙ্গের আলোচনায় রওনক জাহান মনে করেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো আইন দিয়ে সংবাদমাধ্যমকে শৃঙ্খলিত করার ঘটনা উদ্বেগজনক এবং এমন আইন প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, সবার আগে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় অনেকে উদ্বিগ্ন বলে উল্লেখ করে রওনক জাহান মানবাধিকার কমিশনকে সক্রিয় করার সুপারিশ করেন।

সম্মেলনে অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা সরকারি হওয়ায় নজরদারি রয়েছে। কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব থাকে, যা শিক্ষার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

পিপিআরসির চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশকে এক সময় দুর্যোগের শিকার ভুক্তভোগী মনে করা হতো। দেশ এখন দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম হয়েছে।