মাল্টিভিটামিন বৃক্ষ সজিনা

মাল্টিভিটামিন বৃক্ষ সজিনা
মাল্টিভিটামিন বৃক্ষ সজিনা

নিউজ ডেস্ক: পুষ্টি ও ওষুধী গুনাগুণের কারণে অত্যাশ্চার্য বৃক্ষ হিসেবে পরিচিত সজিনার আবাদ বেড়েছে নাটোরে, বেড়েছে সজিনা গাছের সংখ্যা। সাম্প্রতিক সময়ে ঝড়-বৃষ্টি না থাকার কারণে এখন গাছে গাছে সজিনা ফুলের প্রাচুর্য। তাই এবার সজিনার ফলন বাড়বে। অল্প ক’দিন পরে বাজারে উঠতে শুরু করবে কাংখিত সজিনা।

চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, সজিনার পুষ্টিগুণ ব্যতিক্রমধর্মী। সজিনা পাতায় ৩৮ রকম অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিড সহ ৩৮ শতাংশ আমিষ রয়েছে। সজিনার পাতা পুষ্টিগুণের আঁধার। পরিমাণের ভিত্তিতে তুলনা করলে একই ওজনের সজিনা পাতায় কমলা লেবুর সাতগুণ ভিটামিন সি, দুধের চারগুণ ক্যালসিয়াম এবং দুইগুণ আমিষ, গাজরের চারগুণ ভিটামিন ‘এ’ কলার তিনগুণ পটাসিয়াম, পালংশাকের তিনগুণ লৌহ বিদ্যমান। পুষ্টি ও ওষুধী গুণ বিবেচনায় এ গাছকে অত্যাশ্চার্য বৃক্ষ বলা হয়। বাড়ির আঙ্গিনায় এটি একটি মাল্টিভিটামিন বৃক্ষ।

সজিনার ফলন শেষ হলে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে গাছ থেকে ডাল সংগ্রহ করে কার্টিং রোপণ করা হয়। বসতবাড়ি, রাস্তার ধারসহ যে কোন স্থানের মাটিতে ৩ মিটার দূরত্বে কার্টিং রোপণ করা যায়। ৪০ ডিগ্রি এঙ্গেলে ডাল কাটলে ও একইভাবে রোপণ করলে শেঁকড় গজানো ও ঝড়ের প্রভাবমুক্ত থাকা সম্ভব বলে কৃষিবিদদের ধারণা। রোপণকালে গোবর সার এবং দ্রুত শিকড় গজানোর জন্য সামান্য ফরফরাস সার ও ছাই ব্যবহার করা উত্তম। আর গাছের উচ্চতা এক মিটার হলে ডগা কেটে এর আকৃতি ঝোপালো করা হলে ফলন বৃদ্ধি পায় এবং সজিনা সংগ্রহে সুবিধা হয় বলে জানান কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ।

নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় আড়াইশ’ হেক্টর আবাদি এলাকা থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার টন সজিনা উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির ফলে সজিনার আবাদ বাড়ছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বিগত বছরের চেয়ে ফলন অনেকটা বাড়বে। বিগত বছরে ২৩১ হেক্টর আবাদ এলাকা থেকে চার হাজার নয় টন সজিনা উৎপাদন হয়।

বসতবাড়ি ছাড়াও রাস্তার দু’ধারে সজিনার গাছ চোখে পড়ে। নাটোর সদর উপজেলার বড়হরিশপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া, ফতেঙ্গাপাড়া এলাকায় সজিনা গাছের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। শহরতলীর বলারিপাড়া, হাজরা নাটোর এলাকার রাস্তার দু’ধারে শোভিত অর্ধ শত গাছ নজর কাড়ে।

নাটোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, গাছে গাছে ফুল আর সজিনার প্রাচুর্য। ঝড়-বৃষ্টিমুক্ত আবহাওয়া থাকায় এবার ফলন হবে আশাতীত। একটি গাছ থেকে দুই মণ সজিনা সংগ্রহ করা সম্ভব। আগামী সপ্তাহে আগাম সজিনা বাজারে উঠতে শুরু করবে। সজিনার আবাদ বাড়াতে নতুন কার্টিং রোপণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে ব্লক কর্মকর্তাবৃন্দ প্রতি বছরের মত এবারও ভূমিকা রাখবেন বলে জানান এ কর্মকর্তা।

নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক বলেন, নাটোরে অত্যাশ্চার্য বৃক্ষ সজিনার আবাদ ও উৎপাদন ক্রমশঃ বাড়ছে। সজিনা চাষ বৃদ্ধি পাওয়াতে বাজারে বিক্রির মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক সংগতিও বেড়েছে। সজিনার সকল উপাদান অর্থাৎ সজিনাসহ এর ফুল ও পাতার যথাযথ এবং বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সুফল প্রাপ্তির পরিধি আরো বাড়বে।