আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২১ উপলক্ষে সভা

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২১ উপলক্ষে সভা
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২১ উপলক্ষে সভা

নিউজ ডেস্ক:  দেশের প্রায় ১৭ লক্ষ গৃহকর্মীর অধিকার সুরক্ষা এবং তাদের শ্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকারসহ সকল পক্ষকে একসাথে কাজ করতে হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এটি নিশ্চিত করতে হলে যত দ্রুত সম্ভব গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি, ২০১৫ বাস্তবায়ন জরুরী। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় আনতে হলে সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সংগঠন ও অন্যান্য পক্ষগুলোকে এ নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস- ২০২১ উপলক্ষ্যে বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের গৃহকর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ: নীতি বাস্তবায়নে সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। গণসাক্ষরতা অভিযান ও অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ এর যৌথ আয়োজনে সিকিউরিং রাইটস ফর উইমেন ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স (সুনীতি) প্রকল্পের আওতায় মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কে. এম. আবদুস সালাম, সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, রাশেদা কে চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক, গণসাক্ষরতা অভিযান, শাহীন আকতার ডলি, নির্বাহী পরিচালক, নারী মৈত্রী ও সদস্য, কনসালটেটিভ ফোরাম, সিকিউরিং রাইটস প্রজেক্ট, আবুল হোসাইন, ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী, গৃহকর্মী অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক সহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা গৃহকর্মীবৃন্দ।

সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন পিনাস আক্তার, সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার, অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ২০১৬ – ২০১৭ সালের শ্রম শক্তি জরিপ এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের কর্মজীবি নারীদের একটি বড় অংশ (১.৬৯ মিলিয়ন মানুষ) গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োজিত যাদের প্রায় ৯০% নারী। 

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার ষ্টাডিজ -বিল্স পরিচালিত একটি জরিপে দেখা যায়, ২০২০ সালে (জানুয়ারী- ডিসেম্বর) মোট ৪৪ জন গৃহকর্মী নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং ১২ জনের রহস্যজনক মৃত্যুসহ মোট ১৬ জন নিহত হয়েছেন। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ১২ জন। এছাড়া শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে চরমভাবে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ১২ জন, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন ৪ জন। 

অনুষ্ঠানে কে. এম. আবদুস সালাম বলেন, সরকারী পর্যায়ে গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি, ২০১৫ নিয়ে যথেষ্ট কাজ হচ্ছে। বর্তমানে এ বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য সরকারের মনিটরিং সেল আছে। নীতিটির আওতায় শিশুশ্রমের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, করোনাকালে সরকার ২৩টি খাতে সহায়তা দিয়েছে এবং তার মধ্যে সর্বপ্রথম হল শ্রমজীবী মানুষের জন্য সহায়তা। তবে গৃহকর্মী সুরক্ষা কল্যাণ নীতিটি বাস্তবায়নে এখনও কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। বিষয়টিকে সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় আনার বিষয়ে তার মন্ত্রণালয় কাজ করে যাবে বলে জানান শ্রম সচিব।

অনুষ্ঠানে রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, গৃহকর্মে নিয়োজিত রয়েছে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী। তাদের কথা আমাদের ভাবতে হবে এবং আমাদের প্রত্যেকের ঘর থেকেই সেটি আমাদের শুরু করতে হবে।

শাহীন আকতার ডলি বলেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নেতিবাচক মানসিকতার কারনে গৃহকর্মীরা স্বীকৃতি পান নি। এ মানসিকতা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। গৃহকর্মের মর্যাদা দিতে হবে। জনগন ও সরকার সহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ যদি গৃহশ্রমিককে মর্যাদা দেয় তাহলেই তার মর্যাদার জায়গাটি পরিবর্তন সম্ভব। 

আবুল হোসাইন বলেন, নীতিমালাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন চ্যালেঞ্জ নেই, প্রতিবন্ধকতা রয়েছে নীতিটি বাস্তবায়নের মানসিকতায়। ২০১৫ সালে ট্রেড ইউনিয়নের সুপারিশের ভিত্তিতেই নীতিটি তৈরী হয়। 

উপস্থিত অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, মো: আলতাফ হোসেন, উপসচিব, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ; নাজমা ইয়াসমিন, পরিচালক বিল্স; শরীফুল হক, উপ-পরিচালক, এনএসডিএ, দিদারুল আলম চৌধুরী, পরিচালক, ইউসেপ বাংলাদেশ প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায়  কয়েকজন গৃহকর্মী তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। বাড্ডা থেকে আসা গৃহকর্মী আয়েশা বলেন, অনলাইনে কাজ করে তিনি এখন বেশ ভাল আয় করেন ও ভাল আছেন। 

অনুষ্ঠানের সভাপতি অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর দীপংকর দত্ত বলেন, গৃহশ্রমিকের কাছ থেকে যথেষ্ট সেবা আমরা গ্রহণ করেও আমরা তাদের অধিকার নিয়ে চিন্তা করি না। তিনি মন্তব্য করেন, গৃহশ্রমিকদের নিয়ে যথাযথ তথ্য পাওয়া  খুব প্রয়োজন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য গৃহশ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য অনুরোধ করেন। গৃহকর্মী সংক্রান্ত যেসব নীতিমালা রয়েছে সেগুলো নিয়ে কাজ করার আহবান জানান।

সিকিউরিং রাইটস ফর ওমেন ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স (সুনীতি) প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের নারী গৃহকর্মীর সার্বিক কল্যাণ সাধন করা। প্রকল্পটি নারী গৃহকর্মীদেরকে তাদের অধিকার আদায় ও প্রতিষ্ঠায় সংগঠিত করে তাদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়াস চালাবেন।