বাংলাদেশের মসলিন পেল জিআই পণ্য স্বীকৃতি

নিউজ ডেস্ক:   ঢাকার ঐতিহ্যের কথা উঠলেই সবার আগে নাম আসে মসলিন কাপড়ের। মসলিনের প্রায় হাজার বছরের ইতিহাস। মোগল আমলে এর কদর ছিল বিশ্বজুড়ে। ঐতিহ্যবাহী এ মসলিন নিয়ে অনেক গল্প আছে। এটি হালকা, সূক্ষ্ণ এবং পরতে আরামদায়ক। প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় এই মসলিন আবার ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য ‘বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য : মসলিন সুতা ও কাপড়ের প্রযুক্তি পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

জামদানি ও ইলিশের মতো ঢাকাই মসলিন এখন বাংলাদেশের। দেশের ঐতিহ্যবাহী ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে বিশেষ এ বস্ত্র। মসলিন নামক বস্ত্রের আদিভূমি যে এই দেশ, এটি হচ্ছে তার পাকাপাকি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ববিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল প্রোপার্টি রাইটস অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউআইপিও) নিয়ম মেনে ঢাকাই মসলিনকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেশন-জিআই) পণ্য হিসেবে ঘোষণার ধাপগুলো শেষ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডকে (বাতাঁবো) এই জিআই স্বত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরে বাতাঁবোর সুপারিশ বা প্রত্যয়নের মাধ্যমে ঢাকাই মসলিন উৎপাদনকারীদের আলাদা নিবন্ধন দেওয়া হবে।

সর্বশেষ ঢাকাই মসলিনকে বাংলাদেশের জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দিতে গত ৬ জানুয়ারি জার্নাল প্রকাশ করা হয়। এ জার্নাল প্রকাশের দুই মাস পর স্বাভাবিক নিয়মে এটি স্বীকৃতি পায়। এর মধ্যে আপত্তি এলে তা নিষ্পত্তি করে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আগামী ৬ মার্চ আপত্তি দেওয়ার সময় শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে এ বিষয়ে অন্য কোনো দেশ থেকে আপত্তি আসেনি। ফলে ঢাকাই মসলিনের পুনর্জন্ম হতে যাচ্ছে।

ডব্লিউআইপিওর নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশে জিআই নিবন্ধন সনদ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরকে (ডিপিডিটি)। সংস্থাটির নিবন্ধক আবদুস সাত্তার সমকালকে বলেন, ২৬ এপ্রিল বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বীকৃত পণ্য হিসেবে ঢাকাই মসলিনের জিআই সনদ হস্তান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে ৬ মার্চ জার্নাল প্রকাশের দুই মাস পূর্ণ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এ পণ্য জিআই স্বীকৃত হবে। জার্নাল প্রকাশের পর থেকে বিশ্বের অন্য কোনো দেশ বা কোথাও থেকে আপত্তি আসেনি। ফলে সনদ দিতে আর কোনো বাধা থাকবে না। এই স্বীকৃতি পেলে দেশের এ পণ্যের নতুন করে বিশ্ববাজারে ব্র্যান্ডিং করার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি বলেন, হারিয়ে যাওয়া এ পণ্য পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তাঁত বোর্ডের মাধ্যমে নতুন করে এই পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। ফলে আইন অনুযায়ী এ পণ্যের স্বত্ব পাচ্ছে আবেদনকারী সংস্থা বাতাঁবো।

বর্তমানে জিআই পণ্য পদ্মার রুপালি ইলিশ আর ঢাকাই জামদানি সারাবিশ্বে বাংলাদেশকে এক অনন্য স্থান দিয়েছে। আগে মিহি সুতিবস্ত্র হিসেবে বিশ্বে সমাদৃত ছিল ঢাকাই মসলিন। এটি শুধু একটি কাপড়ই নয়। আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করতে বিশেষ এক ভূমিকা রেখেছে মসলিন কাপড়। মসলিনের দাপট এক সময় ইউরোপের বাজারে থাকলেও, ইংল্যান্ডের শিল্পবিপ্লবের পরে এটি আর টিকে থাকতে পারেনি। কারণ ইউরোপজুড়ে তখন বস্ত্রশিল্প প্রসার লাভ করায় মসলিন বাজার হারায়।