বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে কৃষিবিদদের অবদান সর্বজন স্বীকৃত : ড. আব্দুর রাজ্জাক

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ:  বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে উৎসবমূখর পরিবেশে কৃষিবিদ দিবস পালিত হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের সালের ১৩ ফেব্রæয়ারি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা প্রদান করেন। এজন্য ১৩ ফেব্রæয়ারিতে কৃষিবিদ দিবস হিসেবে পালন করেন কৃষিবিদরা। তাই এই দিনটিকে ঘিরে কৃষি শিক্ষার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) সাজানো হয় রঙিন ও বর্ণিল আলোয়।

কৃষিমন্ত্রী শনিবার ১৩ ফেব্রæয়ারি ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে কৃষিবিদ দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে অবদান কৃষিবিদদের অবদান সর্বজন স্বীকৃত। তিনি বলেন কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ত্বরান্বিত করতে ইতোমধ্যে কৃষি প্রকৌশলীর ২৮৪টি পদ সৃজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কৃষিকে আধুনিকীকরণ ও লাভজনক করতে সচেষ্ট রয়েছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে নেয়া হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে মাঠ পর্যায়ে কৃষি প্রকৌশলী নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে ২৮৪টি কৃষি প্রকৌশলীর পদ সৃজন করা হয়েছে।

কৃষিবিদ ড. রাজ্জাক আরও বলেন, দেশের কৃষি শিক্ষা, কৃষি গবেষণা ও কৃষি সম্প্রসারণে কৃষিবিদদের ভূমিকা আজ সর্বজন স্বীকৃত। কৃষি গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি ও কলাকৌশল উদ্ভাবন করে কৃষি উন্নয়নে অবদান রেখে যাচ্ছেন কৃষিবিদরা। ফলে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যতে ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর খাদ্যের যোগান অব্যাহত রাখতে কৃষিবিদদেরকে আরও কার্যকর ও জোরাল ভূমিকা পালন করতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে সময়োপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও তা সম্প্রসারণ করতে হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির পদ মর্যাদা দেয়া ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সিদ্ধান্ত। এর ফলেই মেধাবীরা কৃষি পেশায় আগ্রহী ও উৎসাহিত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নের যে সাফল্য সারা বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে- তার পিছনে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা।

কৃষিবিদ দিবস-২০২১ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসানের সভাপতিত্বে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে. এম খালিদ এমপি, বগুড়ার সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান এমপি, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ, বাকৃবি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের নির্বাহী সভাপতি মো: হামিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বাদশা, বাকৃবির সাবেক ভিপি নজিবুর রহমান, সাবেক ভিপি মো: রহমত উল্লাহ, বাকৃবি ছাত্রলীগের প্রথম সভাপতি আবুল ফয়েজ কুতুবী, পূর্ব পাকিস্তান আমলের বাকৃবি ভিপি মো: ইয়াছিন আলী, বাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ জয়নাল আবেদীন, বাকৃবি অফিসার্স পরিষদের সভাপতি খায়রুল আলম নান্নু প্রমূখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাকৃবির ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. একেএম জাকির হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাকৃবির রেজিস্ট্রার মো: ছাইফুল ইসলাম।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি তাঁর বক্তব্যে জাতীয় উন্নয়নে কৃষিবিদদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংংসা করেন এবং দিবসের সফলতা কামনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ময়মনসিংহ সিটির মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষুধা ও দারিদ্রমূক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে দেশের কৃষি ও কৃষিবিদ পর্যাদা দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিবিদের উচ্চাসনে বসিয়েছেন। আর দেশের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে কৃষিবিদদের অবদান মাইলফলক হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান সকল ভেদাভেদ ভুলে সকল কৃষিবিদদের এক প্ল্যাটফর্মে এসে কাজ করার আহবান জানান।

বাকৃবিতে ১৩ ফেব্রæয়ারি দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয় এবারের কৃষিবিদ দিবস। দিনের শুরুতেই অতিথিবৃন্দ ও কৃষিবিদগণ বাকৃবির বঙ্গবন্ধু চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর নবীনপ্রবীণ কৃষিবিদদের অংশগ্রহণে এক আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। এছাড়া, বিকালে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সন্ধ্যায় আতসবাজি অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিস্মরণীয় শত উক্তি সংবলিত পুস্তিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

তাছাড়া, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ন ম নাজমুল আহসান (মরণোত্তর), একুশে পদকপ্রাপ্ত অ্যালামনাই অধ্যাপক ড. শামসুল আলম এবং ড. মো: জাহাঙ্গীর আলম খানকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের পক্ষে মহাপরিচালক ড.ইয়াহিয়া মাহমুদ এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের পক্ষ থেকে মহাপরিচালক ড. মোফাজ্জল ইসলামকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।