ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই কোহলিদের

নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় দল নাকি চাপে পড়লে ভালো খেলে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরেও তার প্রমাণ মিলেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি টেস্ট সিরিজে কোহলিরা কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন? তার উত্তর পেতে শনিবার থেকে চিপকে চোখ থাকবে ক্রিকেট জনতার। দ্বিতীয় টেস্ট দুই দলের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। তবে চাপ ও তাগিদ বেশি ভারতেরই। কারণ, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলা এই মুহূর্তে বিরাট কোহলিদের অনিশ্চয়তায় ভরা।

বাকি তিনটি ম্যাচের মধ্যে একটিতেও হারলে চলবে না। জিততেই হবে দু’টি ম্যাচে। ইংল্যান্ড আবার প্রথম ম্যাচে কোহলি বাহিনীকে ২২৭ রানে পর্যুদস্ত করে দারুণ উদ্দীপ্ত। তাঁদের সামনেও ফাইনালে ওঠার সুযোগ রয়েছে। তাই রুট বাহিনীও সাফল্য ধরে রাখতে মরিয়া।

এই ম্যাচের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে চিপকের বাইশ গজ। প্রথম ম্যাচের পর দুই দলের বোলাররা, বিশেষ করে পেসাররা পিচ নিয়ে হতাশা চেপে রাখেননি। তাই তড়িঘড়ি উইকেটের চরিত্র বদল করা হয়েছে। প্রথম দিন থেকেই বল ঘুরবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেক্ষেত্রে স্পিনারদের হাতেই থাকবে ম্যাচের চাবিকাঠি।

ঘরের মাঠে টিম ইন্ডিয়া বরাবরই স্পিন সহায়ক পিচে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। কিন্তু এই সিরিজে সব হিসেব উল্টে দিয়েছে রবীন্দ্র জাদেজার চোট। ফিট না হওয়ায় গত ম্যাচে খেলতে পারেননি অক্ষর প্যাটেলও। কিন্তু তিন স্পিনার নামিয়েও ভারতের কোনও লাভ হয়নি। আসলে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট পিচ পরখ করতেই ভুল করেছিলেন। তার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে ব্যাপারে সচেষ্ট হেড কোচ রবি শাস্ত্রী। স্পিন বিভাগে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের সঙ্গী হতে চলেছেন অক্ষর প্যাটেল। তৃতীয় স্পিনার হিসেবে খেলানো হতে পারে ওয়াশিংটন সুন্দরকেই। কারণ, তিনি ব্যাটও করতে পারেন। তবে কুলদীপ যাদবকে স্কোয়াডে রেখেও কোণঠাসা করার প্রয়াস মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি যদি অক্ষর, সুন্দরদের চেয়ে যোগ্যতামানে পিছিয়ে, তাহলে অহেতুক দলে রাখারই বা কী দরকার। এরকম স্পিন সহায়ক পিচে কুলদীপকে অবশ্যই খেলানো উচিত বলে মত কিছু প্রাক্তন ক্রিকেটারের।

উল্লেখ্য, প্রথম টেস্টে ব্যাটিং ব্যর্থতাও ডুবিয়েছিল ভারতকে। বিশেষ করে ওপেনার রোহিত শর্মা, চেতেশ্বর পূজারা, অজিঙ্কা রাহানে একেবারেই ধারাবাহিকতা দেখাতে পারছেন না। তাতে চাপ বাড়ছে ক্যাপ্টেন কোহলির উপর। তুলনায় শুভমান গিল আশার আলো জ্বালাতে সফল। এই ম্যাচে ভারতকে জিততে হলে স্কোরবোর্ডে বড় রান রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে রোহিত শর্মার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। গিলের সঙ্গে তিনি যদি ওপেনিং জুটিতে লম্বা পার্টনারশিপ গড়তে পারেন, তাহলে চাপমুক্ত হয়ে খেলতে পারবেন বাকিরা। আরও দায়িত্বশীল হতে হবে পূজারাকেও। সহ-অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানের উচিত, অস্ট্রেলিয়া সফরের সাফল্য ভুলে নতুন করে শুরু করা। অধিনায়ক হিসেবে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে কোহলিকেই। তাই সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দল পরিচালনার ক্ষেত্রে বাকি সিনিয়রদের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত তাঁর। ঋষভ পন্থের বোঝা উচিত, এটা টেস্ট ক্রিকেট। দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি দলের কথাটাও তাঁর ভাবা উচিত।

ঘূর্ণি পিচেই ঘুরে দাঁড়ানোর কৌশল নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু সেটা ব্যুমেরাং হয়ে ফিরবে না তো, সেই প্রশ্নও উঁকি দিচ্ছে সমর্থকদের মনে। জেমস অ্যান্ডারসন, জোফ্রা আর্চারের মতো তারকা পেসার দ্বিতীয় টেস্টে নেই। তাঁদের জায়গায় খেলবেন স্টুয়ার্ট ব্রড, ক্রিস ওকস কিংবা ওলি স্টোন। অভিজ্ঞ স্পিনার মঈন আলিকে ফেরানো হয়েছে। বাদ পড়েছেন ডম বেস। তবে একটা ব্যাপার স্পষ্ট, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাতে হলে টার্গেট করতে হবে জো রুটকেই। দুরন্ত ফর্মে আছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তিনিই মূলত বিপক্ষ দলের ব্যাটিংয়ের প্রাণভ্রমরা। তাই নতুন বলে যশপ্রীত বুমরাহ ও ইশান্ত শর্মার দায়িত্বও কম নয়।

সূত্র দৈনিক বর্তমান (কলকাতা)
ঢাকানিউজ২৪ডটকম