দশম শ্রেণির ছাত্রী বিথির হত্যাকারীদের বিচার চায় পরিবার

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বিরি মা রওশন আরা ছবিতে ডানে বসা
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বিথির মা রওশন আরা ছবিতে ডানে বসা

সুমন দত্ত: ধলপুর কিন্ডার গার্ডেন হাইস্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহমুদা আক্তার বিথির হত্যাকারীদের বিচার চায় তার পরিবার। বিথিকে মাদক খাইয়ে শারীরিক নির্যাতনে গুরুতর আহত করে হত্যাকারীরা। এরপর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বিথিকে মেডিকেলে নিয়ে যায় তারা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সেগুন বাগিচার ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক ছোট কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন নিহত বিথির মা রওশন আরা। কলিজার টুকরা মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন তিনি। এজন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সকল মানবাধিকার সংগঠনের সাহায্য চান।

রওশন আরা বলেন, আমার মেয়ে তার বান্ধবী চৈতির ডাকে ২০২০ সালের ১৪ আগস্ট বিকালে ঘুরতে বেরিয়েছিল। যাবার আগে আমার বড় মেয়েকে বলে গিয়েছিল। মেয়ে ঘরে ফিরতে দেরি করায় তার মোবাইলে ফোন দিতে থাকি। ফোনে কোনো সাড়া না পেয়ে উদ্বিগ্ন হই।

তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট রাত সাড়ে ১২ টায় মেয়ের মোবাইল থেকে রাসেল নামে একটি ছেলে কল দিয়ে জানায় বিথি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি আছে।

আমি এই খবর শুনে জ্ঞান হারাই। আমার আত্মীয় স্বজনসহ পরিবারের অন্যরা ঢাকা মেডিকেলে যায়। সেখানে বিথিকে অজ্ঞান অবস্থায় পায়। মাথায় সে চোট পেয়েছে। তার পায়ের নখগুলো উপরে ফেলা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলে তার মাথার সিটি স্ক্যান হয়েছে, ব্যাথা নাশক ইনজেকশন দিয়েছে। এসব করার কথা জানায় রাসেল। পরে আমার পরিবার জানতে পারে এসব মিথ্যা। সিটি স্ক্যান রিপোর্টও মিথ্যা। ভুয়া বানানো।

বিথির পরিবারের সদস্যরা রাসেলের কাছে দুর্ঘটনার কারণ জানতে চাইলে সে বলে, মুগদা থেকে বিথি রিকশা দিয়ে একলা আসার সময় পিছন থেকে সিএনজি ধাক্কা দেয়। এতে বিথি আহত হয়। এরপর তার বান্ধবী চৈতিকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় বিথি ও সে মোটর সাইকেলে করে হাতির ঝিলে ঘুরতে গিয়েছিল। চৈতি ছিল তার এক বন্ধুর মোটর সাইকেলে, আর বিথি ছিল নাঈম নামের একটি ছেলের মোটর সাইকেলে।

নাঈম বিথিকে মোটর সাইকেল থেকে ফেলে দেয়। এতে গুরুতর আহত হয় বিথি।  নাঈম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

দুজনের কথার গরমিল দেখা দিলে পরিবারের সন্দেহ হয় এখানে অন্য কিছু আছে।

ঢাকা মেডিকেল থেকে বিথিকে ইসলামিয়া হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর সেখান থেকে মিটফোর্ড হাসপাতালে। কোথাও চিকিৎসা না পেয়ে ১৬ আগস্ট রাত ১টা বিথি মারা যায়। তবে মারা যাবার আগে তার সঙ্গে কি হয়েছিল, তা পরিবারের বাকী সদস্যদের বলে গিয়েছে বিথি।

বিথি তাদের জানিয়েছে নাঈম তাকে ধাক্কা দিয়ে মোটর সাইকেল থেকে ফেলে দেয়। এরপর তাকে রাস্তায় মারধর করে। এর আগে তাকে কৌশলে বিয়ার খাওনো হয়েছিল। কেন তাকে নাঈম মারধর করল। এই প্রশ্নের জবাবে বিথি সেদিন বলেছিল, নাঈমের কু প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার ওপর ক্ষেপে গিয়ে সে তাকে মারধর করে।

মারা যাবার পর বিথির পরিবারের লোকজন থানায় বিথিকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে। থানা তাদের এই কথা না লিখে আসামি পক্ষ যা বলেছে তাকে সত্য অনুমান করে একে দুর্ঘটনা বলে এজাহারে উল্লেখ করে।

অভিযোগ আদালতে গেলে আসামিরা এই মামলা থেকে জামিনে বের হয়ে যায়। এরপর বিথির মাকে মামলা তুলে নিতে নানা ভাবে হুমকি দিতে থাকে। এখন এক অজানা ভয়ে দিন কাটছে বিথির পরিবারের। বিথির পরিবার মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চায়। প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায়।