চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনেও মাঠে থাকেনি বিএনপি: তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিকরা উন্নত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে: ড. হাছান
সাংবাদিকরা উন্নত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে: ড. হাছান

নিউজ ডেস্ক:    তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি আগেও যেমন বিভিন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে কিন্তু মাঠে ছিলোনা, একইভাবে চট্টগ্রামের নির্বাচনেও তারা মাঠে থাকেনি।

কিন্তু বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও রিজভী আহমেদের সংবাদ সম্মেলনে যা বলেছেন, হেরে যাবার পর মুখ রক্ষার জন্যই এগুলো তারা বলছেন এবং বরাবরের মতোই নির্বচনে হেরে গেলে বিএনপির অভ্যাসটা হচ্ছে ‘নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা’, বলেন মন্ত্রী।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটায় চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিজ বাসভবনে সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচন চলাকালীন বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করেছে, নির্বাচন শেষ হওয়ার আগ মুহুর্তে আমীর খসরু মাহমুদ চট্টগ্রামে ও রিজভী আহমেদ ঢাকায় বসে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, এবং নানা ধরণের প্রশ্ন তুলেছেন, আমরা আগে থেকেই জানতাম এই সমস্ত প্রশ্ন তোলার জন্যই তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। তারা সব নির্বাচনেই এই সমস্ত গদবাঁধা প্রশ্ন উপস্থাপন করেন এবং অভিযোগের বাক্স খুলে সবসময় বসে থাকেন।’

চট্টগ্রাম শহরের পূর্বের নির্বাচনী উপাত্ত তুলে ধরে ড. হাছান বলেন, ‘১৯৯৪ সালের পর থেকে কার্যত এখানে বিএনপি কোন ভোটে জেতেনি। মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু সাহেব একবার বিএনপির পক্ষ হয়ে নির্বাচন করেছিলেন। আসলে মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু তো আওয়ামী লীগের মানুষ, বিএনপির কাছে তিনি ভাড়ায় খেলতে গিয়েছিলেন। যেহেতু তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ করেছেন সেকারণে আওয়ামী লীগের অনেক লোক তার পক্ষে কাজ করেছে, সেই কারণে তিনি জয়লাভ করেছিলেন। 

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের বৈষম্যমূলক বিধান আশপাশের কোন দেশে নেই উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশে এমন একটি বিধি করেছে, যার ফলে কোনো এমপি কোনো প্রচারণা চালাতে পারছেন না, কিছুই করতে পারছেন না। অথচ এই শহরে আমার জন্ম, বেড়ে উঠা, এবং এই শহর থেকেই আমার রাজনীতি শুরু, এই শহরের জামাল খান ওয়ার্ড ছাত্রলীগের মিছিলের কর্মী হিসেবে আমার রাজনীতির জীবন শুরু, আমি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদকও ছিলাম। দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও কিন্তু এই নির্বাচনে আমরা কোন ভূমিকাই রাখতে পারিনি দলের পক্ষে। এইরকম বৈষম্যমূলক বিধান ভারতসহ আশপাশের কোন দেশে নেই। ইংল্যান্ড ও কন্টিনেন্টাল ইউরোপসহ অন্যান্য দেশেও এমপিবৃন্দ নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে পারেনা। 

‘বিএনপি প্রার্থী ডা. শাহাদাত বলেছেন ওনারা আওয়ামী লীগের সাথে নির্বাচন করেননি, নির্বাচন করেছেন পুলিশের সাথে’- সাংবাদিকরা এবিষয়ে তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, কেউ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালালে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে সেখানে পুলিশ দলমত নির্বিশেষে সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, লালখাঁন বাজার আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকসহ আওয়ামী লীগের অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে, লাঠিচার্জ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যেখানে বিএনপি হাঙ্গামা করেছে সেখানেও ব্যবস্থা নিয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগ করেছে সেখানেও ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।

নির্বাচনের নামে তামাশা হয়েছে রিজভী আহমেদের এমন বক্তব্যের ব্যাপারে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তিনি একথা বলেছেন দুপুরবেলা, তখন নির্বাচন শেষ হয়নি, আসলে তারা যে হেরে যাচ্ছিলেন, তাদের নেতাকর্মীদৈর যে নির্বাচনের মাঠে খুঁজে পাওয়া 

আমি বিএনপিকে অনুরোধ জানাবো অজুহাত দাঁড় করানোর অপচেষ্ঠা না চালিয়ে তাদের দূর্বলতাটুকু কোথায় সেটি খুঁযে বের করার জন্য।’