এনআইডি ছাড়া ভোটকেন্দ্রের দরজা বন্ধ: সিএমপি কমিশনার

নিউজ ডেস্ক:    জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ছাড়া ভোটকেন্দ্রের দরজা বন্ধ থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। তবে এর জন্য বয়স্ক ভোটারদের আটকানো হবে না বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার বিকেলে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি। নির্বাচনে বহিরাগত ঠেকাতে এ পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে বলেও দাবি তার। তবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রে এনআইডি নিয়ে আসা বাধ্যতামূলক নয়।

সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘যাদের সঙ্গে ন্যাশনাল আইডি কার্ড থাকবে, তাদের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিবেশ অবশ্যই আনন্দমুখর হবে। যারা ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে আসবে না, তাদের জন্য বা বহিরাগতদের জন্য দ্বার বন্ধ। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি বাইরে থেকে কেউ এসে নির্বাচনকে যাতে প্রভাবিত করতে না পারে।’

এনআইডি বাধ্যতামূলক করা হলে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বহিরাগত ঠেকানোর একটা পথ হচ্ছে এনআইডি কার্ড। একজন ভোটারকে শনাক্ত করা যাবে তার এনআইডির মাধ্যমে। এনআইডি কার্ড যার কাছে থাকবে, তিনি এখানকার সম্মানিত ভোটার। তবে বয়স্ক নারী কিংবা বৃদ্ধ লোককে আমরা এজন্য আটকাবো না। আপনারা জানেন নির্বাচনে সাধারণত কারা শক্তি প্রদর্শন করে থাকে, তাদের জন্য এ বার্তা।’ ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে আজ কর্মদিবসে কর্মস্থলে যাওয়া লোকজনকেও এনআইডি কার্ড সঙ্গে রাখার অনুরোধ জানান তিনি।

সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা কোনো রকম সমাবেশ-মিছিল করার সুযোগ নেই। নির্বাচনে যারাই জয়ী হোক, তাদের কঠোর বার্তা দিতে চাই- কোনো রকমের তথাকথিত বিজয় মিছিল বা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার মতো কিছু করলে আমরা সোজা পথে তাদের দেখব। ডানে-বামে তাকাব না। যারাই আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হবে, তাদের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিএনপির নির্বাচনী এজেন্টদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে- এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নামের ভুলের কারণে একজনকে আটক করা হয়েছিল। তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে যাদের আটক করা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো না কোনো মামলা বা ওয়ারেন্ট রয়েছে। এ সংখ্যাটা খুব বেশি নয়। এ ছাড়া কারও বাসায় গিয়ে মারধর করে নিয়ে এসে কোনো গায়েবি মামলা দেখিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে- এমন ঘটনা এখানে ঘটেনি। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এম মোস্তাক আহমেদ, উপ-কমিশনার আমীর জাফর, আব্দুল ওয়ারীশ, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ।