সার্কাস শিল্পীদের দূর্দিন স্বপ্ন বুঁনছেন বিজয় মেলাকে ঘিরে

সার্কাস শিল্পীদের দূর্দিন স্বপ্ন বুঁনছেন বিজয় মেলাকে ঘিরে
সার্কাস শিল্পীদের দূর্দিন স্বপ্ন বুঁনছেন বিজয় মেলাকে ঘিরে

জাকারিয়া মিঞা, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা :  পৃষ্ঠপোষকতার অভাবসহ নানাবিধ কারণে সমৃদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতির ধারাগুলো আজ বিলুপ্তির পথে। পরিণামে বিপথগামী হচ্ছে আমাদের প্রজন্ম। তাই বতর্মান প্রজন্মকে সুস্থ বিনোদনের সুযোগ করে দিতে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা মহাবিদ্যালয় মাঠে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আয়োজন করতে যাচ্ছে বিজয় মেলার। মেলায় প্রধান আকর্ষণ আবহমান বাংলার সুস্থধারার বিনোদন মাধ্যম সার্কাস। বড়ভিটায় মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে আশায় বুক বাঁধছে দীর্ঘদিন মানবেতর জীবনযাপন করা সার্কাস শিল্পীরা।

কথা হয় দি ইলেভেন স্টার সার্কাসের দীর্ঘদিনের সারথি নলনি কান্ত, জসিম ও শহিদুলের সাথে। তারা বলেন, বাপ দাদার আমল থেকে আমরা সার্কাসের সাথে যুক্ত। সার্কাসে খেলা দেখিয়ে চলে আমাদের জীবন জীবিকা। দীর্ঘদিন সার্কাস বন্ধ থাকায় আমরা দুর্বিসহ জীবনযাপন করছি। এদিকে মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন হতে বিনোদন বঞ্চিত উপজেলাবাসীর মধ্যে বিজয় মেলা আয়োজনের খবরে উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। সব বয়সের ও শ্রেণি পেশার মানুষ সার্কাস উপভোগের প্রহর গুনছেন। উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে চায়ের দোকানে প্রবীণরা শোনাচ্ছেন ঐতিহ্যবাহী সার্কাসের সোনালী অতীতের গল্প।

বড়ভিটা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মেলার পৃষ্ঠপোষক বেলাল হোসেন প্রামানিক বলেন, উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের বিনোদনের ক্ষেত্রেও বর্তমান সরকার যথেষ্ট আন্তরিক। তারই অংশ হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সৌজন্যে আমরা বিজয় মেলার আয়োজন করেছি।

দি ইলেভেন স্টার সার্কাসের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঐতিহ্যবাহী ও গণমানুষের বিনোদনের খোরাক মেটানোর অন্যতম মাধ্যম সার্কাস বর্তমানে বিলীনের পথে। বৈরী আবহাওয়া, বিভিন্ন পরীক্ষা ও রমজান মাস বাদ দিয়ে বছরে সার্কাস প্রদর্শনের জন্য সময় পাই মাত্র দু’মাস। এ দু’মাসেও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আমাদের হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হয়। ফলে নিজের সর্বস্ব খুইয়েও আমরা দুবেলা-দুমুঠো খাবার জোগাতে পারিনা। সার্কাসের পিছনে সর্বস্ব বিনিয়োগের ফলে আমরা অন্য পেশাতেও যেতে পারছিনা। সার্কাস টিকিয়ে রাখতে নেই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও ব্যাংক লোনের সুবিধা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমরা আপনার কাছে অনুদান চাইনা, চাই সুস্থধারার বিনোদনের জনপ্রিয় মাধ্যম সার্কাস আয়োজনের অনুমতি ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। আমাদের দিকে একটু মানবতার নজরে তাকান। আমরা আর পারছি না।

বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খয়বর আলী মিয়া বলেন, মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক চর্চা আজ বিলীনের পথে। ফলে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা। সুস্থ সংস্কৃতির ধারাকে ফিরিয়ে আনতে আমরা বিজয় মেলার আয়োজন করেছি। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিজয় মেলায় সকলের অংশগ্রহণ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

গীতিকার, শিশু সাহিত্যিক ও শিক্ষক তৌহিদ-উল ইসলাম বলেন, বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম অংশ সার্কাস। অশ্লিলতার অজুহাতে আজকাল সার্কাস শো দৃশ্যমান হয় না। বর্তমান প্রজন্মের সার্কাস শোর সাথে পরিচয় নেই বললেই চলে। সার্কাস দল এবং এর সাথে জড়িত কলাকুশলীকে বাঁচাতে হলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আশু প্রয়োজন। সরকার নজরদারীর মাধ্যমে সার্কাস প্রদর্শনের সুযোগ করে দিলে বাঙালি সংস্কৃতির এ অন্যতম ধারা বাঁচবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

কুড়িগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রাশেদুজ্জামান বাবু বলেন, সুস্থ সমাজ ও মননশীল জাতি গঠনে সার্কাসসহ বাঙালি সংস্কৃতির ধারাগুলোকে টিকিয়ে রাখা জরুরী। এজন্য সুস্থ চিন্তার মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সুস্থ ধারার রাজনৈতিক কমিটমেন্ট ছাড়া এগুলো টিকে থাকবে না। তাই সমাজ বাস্তবতায় সামাজিক সংগঠন ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা আজ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা শিল্পী সমিতির উপদেষ্টা ফুলবাড়ী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম রিজু জানান, সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে অপরিহার্য। যুবারা এক্ষেত্রে অগ্রণি ভুমিকা পালন করে। যুবদের সঠিক তদারকি ও সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান এবং সমাজভিত্তিক ক্রীড়া সংস্কৃতি চর্চার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। সার্কাস সুস্থধারার একটি বিনোদন মাধ্যম হিসেবে যুবদের সামাজিক ভুমিকা পালনে সহায়ক বলে মনে করি।