পীরগঞ্জের করতোয়া নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন 

পীরগঞ্জের করতোয়া নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন 
পীরগঞ্জের করতোয়া নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন 

বখতিয়ার রহমান, পীরগঞ্জ প্রতিনিধি, রংপুর:  রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছেই না । প্রতিনিয়ত বাড়ছে বালু উত্তোলনকারীদের সংখ্যা । আর এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের অভাবে ।

বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জে করতোয়া নদী সংলগ্ন টুকুরিয়া, বড় আলমপুর, চতরা, কাবিলপুর ও চৈত্রকোল ইউনিয়নের প্রায় ৩৫ স্থানে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন চলছে । জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যেগে বালু উত্তোলন বন্ধে একাধিকবার ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও মাইকিং করা হলেও বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না । এখনও নদী থেকে যেন বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে ।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমাঞ্চল ও দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার পুর্বাঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত এ করতোয়া নদীতে পানি কমে যাওয়ায় এ বালু উত্তোলনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে । এ সুযোগে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের অভাবে উপজেলার করতোয়া নদীর কুয়েতপুর, হামিদপুরের নেংড়ার ঘাট , বদনাপাড়ার টোংরারদহ, চকভেকা, নুনদহ ঘাট ও কুমারপুর , জয়ন্তীপুর ঘাট, সুজারকুটি, মোনাইল, কাঁচদহঘাট, নাওডোবা, পীরেরহাট ও বাঁশপুকুরিয়া সহ প্রায় ৩৫টি স্থানে শ্যালো ও বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে । 

প্রতিদিন উত্তোলিত বালু শতাধিক মাহিন্দ্র ও ১০ চাকা বিশিষ্ট (ড্রাম) ট্রাকের মাধ্যমে অবাধে বিক্রি হচ্ছে । এ পরিস্থিতিতে অত্যধিক ওজনের বালু পরিবহনকারী ট্রাক গুলির কারনে গ্রামীণ রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ও ট্রাকের ধুলো বালিতে রাস্তা সংলগ্ন গ্রাম গুলির পরিবেশ দুষিত হচ্ছে । সে সঙ্গে অবৈধ ও অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারনে নদীটির গতিপথ পরিবর্তনের আশংকার পাশাপাশি গ্রাম গুলিও কোন এক সময় নদীগর্ভে বিলিনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে ।

গত ১৫ নভেম্বর পীরগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভ’মি) আফতাবুজামান আল ইমরান ও রংপুরের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রায়হানুর ইসলাম পীরগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগীতায় উপজেলার করতোয়া নদী সংলগ্ন পারবোয়াল মারী ও মোনাইলে ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বালু উত্তোলনকারীদের প্রায় ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও বালু উত্তোলনের সরঞ্জামাদী জব্দ করেছিলেন । ক’দিন বালু উত্তোলন বন্ধ ছিল । তার পরে আবারও বালু উত্তোলন শুরু হলে প্রশাসন আর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেননি । 

এলাকাবাসী মনে করেন নদী থেকে সরকারী ভাবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বালু উত্তোলন ও বিক্রির ব্যবস্থা গৃহীত হলে সরকারের মোটা অংকের রাজস্ব আয় সম্ভব হত । তাই এলাকাবাসী এ ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ।