ঝটিকা অভিযান শেষে কর্ণফুলীর চরকে জুয়া ও মাদকের আস্তানামুক্ত করার ঘোষণা এএসপি’র

এস আর অনি চৌধুরী :: চট্টগ্রামে জুয়াখেলার সরঞ্জাম ও জুয়া বোর্ডের টাকাসহ ৪ জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি বিকেলে জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলাধীন মরম সাহেবের ঘাট সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীর চরাঞ্চলে পরিচালিত এ অভিযান শেষে এলাকাটিকে স্থায়ীভাবে জুয়াড়ি ও মাদকসেবীদের আস্তানামুক্ত করার ঘোষণা দেন চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার (রাউজান- রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মো. আনোয়ার হোসেন শামীম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,মরিয়ম নগর সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীর চর এলাকাটি ঝোপজঙ্গলে ভরপুর হওয়ায় দীর্ঘদিন যাবৎ জুয়াড়িদের নিরাপদ আড্ডাখানা হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছিলো। জুয়া ছাড়াও মাদক সেবনের কেন্দ্র ও বখাটে যুবকদের অভয়ারণ্য হিসেবে এলাকাটির পরিচিতি ছিল সর্বজনবিদিত। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি জুয়াড়ি ও মাদকসেবীদের আনাগোনার কারণে স্থানীয় গৃহবধূরা কর্ণফুলী নদীতে গোসল করতে পর্যন্ত যেতে পারতেন না। এ প্রেক্ষিতে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন যাবৎ পুলিশ প্রশাসনের নিকট স্থানটিকে জুয়া ও মাদকমুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৩০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সার্কেল এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীম এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব মিল্কীসহ রাঙ্গুনিয়া মডেল থানা পুলিশ কর্ণফুলী নদীর নিকটবর্তী জঙ্গলাকীর্ণ এ স্থানটিতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ৪ জুয়াড়িকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আটককৃত জুয়াড়িরা হলেন- রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আমির কুলালপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের পুত্র আরিফ হোসেন (২২), একই এলাকার মো. জাফরের পুত্র মো. জুয়েল (২৪), সওদাগরপাড়া গ্রামের মৃত নুরুল আলমের পুত্র মো. দিদারুল ইসলাম (৪০) এবং উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডেবার হাট গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র মো. নুরে আলম (৩০)। এ সময় তাদের নিকট হতে নগদ টাকা, তাসসহ জুয়া খেলার সরঞ্জামাদিও জব্দ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় মরিয়ম নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুল হক হিরু বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ চেষ্টা করেও তাদেরকে এই এলাকা থেকে হটাতে পারিনি। এএসপি মহোদয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ যে, তিনি স্থানীয় জনসাধারণের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের উদ্যোগ নিয়েছেন। আমি কথা দিয়েছি, গ্রাম পুলিশ এবং সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে আমিও এই উদ্যোগে পুলিশের সাথে থাকব। কোন অসামাজিক কার্যকলাপের স্থান মরিয়মনগরে হবে না।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সার্কেল এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম ঢাকানিউজ২৪কে জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এই এলাকাকে জুয়া ও মাদকমুক্ত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করি। এরই অংশ হিসেবে আজ আকষ্মিক অভিযান চালিয়ে ৪ জুয়ারিকে আটক করা হয়। জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে এই এলাকাকে স্থায়ীভাবে জুয়া ও মাদকের অভিশাপমুক্ত করা হবে।

দেরিতে হলেও পুলিশের এই অভিযান এবং এলাকাকে স্থায়ীভাবে জুয়া ও মাদকের আস্তানামুক্ত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা।