সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশের ২১ দফা দাবী

সুমন দত্ত: পরিবেশ প্রকৃতি রক্ষায় সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা উপলক্ষে বুধবার বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।

এতে বক্তব্য রাখেন সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশের সভাপতি মো. জামসেদুলহক জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবদুল হক হিরণসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও সদস্যরা। এদিন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত সংগঠনের অন্য সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে ২০২১ থেকে ২০২৬ সালে নির্বাচিত সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। মুহাম্মদ আবদুল হক হিরণ এই নাম ঘোষণা করেন।

বাংলাদেশের প্রকৃতি পরিবেশ জলবায়ু ও জীববৈচিত্র রক্ষায় সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ২১ দফা দাবী পেশ করা হয়।

দাবিগুলো হচ্ছে,

১. পাহাড় গাছপালা ও বনভূমি সংরক্ষণে ও নিধন রোধে জনসচেতনতা সহ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

২. বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট নিরসনে প্রয়োজনে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, পানি ও মাটির স্তর বিধ্বংসী যত্র তত্র গভীর নলকূপ স্থাপন বন্ধ করা।

৩. বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন ও নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ও ড্রেজিং সিস্টেমের আধুনিকায়ন করণ।

৪. নদী দূষণ রোধে একমাত্র সমাধান শিল্প বর্জ্য পরিশোধনে ইটিপি স্থাপনে কঠোর আইন প্রণয়ন ও ইটিপি স্থাপনে বাধ্যতামূলক করা। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী নয় বরং মালিক কে গ্রেফতার ও শাস্তির আওতায় আনা।

৫. নাদী নালা খাল বিল জলভূমি ও জলাশয় সংরক্ষণ করার পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ন পরিবেশ দূষণের মূল কারণ। তাই অপরিকল্পিত নগরায়ন বন্ধ করা।

৬. পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

৭. শুধু জরিমানা করে পরিবেশ রক্ষা নয় বরং চাই পরিবেশ আইনের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন, তাই দেশের প্রতিটি জেলায় পরিবেশ আদালত স্থাপন করা হোক।

৮.যত্রতত্র ইটভাটা ও করাত কল স্থাপনে নিরুৎসাহিত করা,, বনের পাশে ইটভাটা ও করাত কল স্থাপন নিষিদ্ধ করুন।

৯. গভীর সমুদ্রে আমাদের জলসীমায় বিদেশি জাহাজ কর্তৃক বর্জ্য অপসারণ ও মাছ ধরা এবং জল দস্যুতা বন্ধ করে মৎস্য ক্ষেত্র রক্ষায় নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

১০. দেশের প্রতিটি জেলায় সরকারিভাবে শিশু পার্ক, ইকো পার্ক, খেলার মাঠ, পাঠাগার, ব্যায়ামাগার ও আইসিটি জোন করতে হবে।

১১. ভূমি দস্যুতা বা দখলের ঝুঁকিতে আছে এমন পাহাড় বনভূমি ও নদীর পাড়াকে ঘিরে পর্যটন স্থাপনের দাবী।

১২. পরিবেশ প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র রক্ষার স্বার্থে বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও মোবাইল কোর্ট কে শক্তিশালী করতে হবে।

১৩. স্কুল কলেজের পাঠ্যসূচিতে পরিবেশ সংক্রান্ত অধ্যায় যোগ করে উপযোগী তথ্য সংযোজন করতে হবে।

১৪ দেশের প্রতিটি জেলায় ভূমি দস্যু,নদী নালা, খাল বিল ও পাহাড় দখলকারী এবং বনভূমি ধ্বংসকারীদের জেলায় জেলায় তালিকা প্রণয়নের দাবি।

১৫. আবাসিক এলাকায় মোবাইলর টাওয়ার স্থাপন নিষিদ্ধ করা ও জনসাধারণকে মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন থেকে বাঁচাতে স্থাপিত মোবাইল টাওয়ার অপসারণ ও মোবাইলের কল টাইম প্রতি মিনিট ৬০ সেকেন্ড নিশ্চিত করতে হবে।

১৬. সমুদ্র সৈকত সহ উপকূলীয় এলাকায় ঝাউ গাছের বদলে নারিকেলে ও খেজুর লাগানো বাধ্যতামূলক করতে হবে।

১৭.ফলমূলে , শাকসবজিতে,তরি তরকারিতে ফরমালিন ও কার্বাইডসহ বিষাক্ত রাসায়নিক ক্যামিকেল ব্যবহার বন্ধে স্থায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে।

১৮. পলিথিনই বিপণন, আমদানি ও উৎপাদন বন্ধে স্থায়ী পরিকল্পনা এবং পলিথিনরে বিকল্প উদ্ধাভাবন সহজলভ্য করতে হবে।

১৯. মাদক ও মানব পাচারকারীদের নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর হাতে দমন এবং আইনের সংশোধন করে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আসামির জামিন প্রদান বন্ধ রাখা।

২০. পরিবেশ ও বন আইনের মামলা সমূহ উচ্চ আদালতে ৩০ দিনের অধিক স্থগিত করা ও জামিন প্রদান রহিত করা পদক্ষেপ নিতে হবে।

২১. নবায়ন যোগ্য জ্বালানী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সমূহকে বিশেষ ঋণদান ও প্রতিষ্ঠানকে কর আওতামূক্ত বিশেষত বায়োগ্যাস প্লান্ট, বায়ুকল, সোলার প্যানেল উৎপাদক ও সৌর শক্তি নির্ভর বিদ্যুৎ প্রকল্প নবায়নযোগ্য সকল প্রতিষ্ঠান ।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম