বাংলাদেশ ভূমি আইন ২০২০ খসড়া প্রত্যাখ্যান ঐক্য পরিষদের

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত

সুমন দত্ত: জাতীয় সংসদের প্রতিটি অধিবেশনের শুরুতে সব ধর্মের প্রার্থনার দাবি জানিয়ে ও বাংলাদেশ ভূমি আইন ২০২০ এর খসড়াকে ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত এক প্রেস বিবৃতিতে এসব কথা জানায়। তিনি যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর জাতীয় সংসদে চালু করা মোনাজাতের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মাননীয় স্পিকারকে এই প্রস্তাব করেন।

রানাদাশগুপ্ত বলেন, আগে জাতীয় সংসদে কেউ মারা গেলে কিংবা দেশের বিশিষ্ট কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করে তাকে শ্রদ্ধা জানানো হতো। যেদিন থেকে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোন, সেদিন থেকে দেখা যায় মুসলিম কেউ মারা গেলে তার জন্য সংসদে মোনাজাত করা হয়। অন্যদিকে হিন্দু খ্রিস্টান বৌদ্ধ মারা গেলে তাদের জন্য ধর্ম অনুসারে সংসদে কোনো প্রার্থনা করা হয় না। এটা ধর্মনিরেপক্ষ চেতনার পরিপন্থী কাজ। তাই আমাদের আবেদন জাতীয় সংসদে অন্য ধর্মের কেউ মারা গেলে তাদের ধর্ম অনুসারে প্রার্থনার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া সংসদ অধিবেশনের প্রতিটির শুরুতে যেন সব ধর্মের প্রার্থনা করা হয়। এই সংসদে সব ধর্মের প্রতিনিধি আছে। এ কারণে এ দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ১৯ জন হিন্দু সদস্য আছে। তারা থাকতে আপনারা কেন এ দাবি স্পিকারের কাছে করছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে জবাবে রানা দাশ গুপ্ত বলেন, যেসব হিন্দু সংসদ সদস্য আছেন তাদের কখনও হিন্দুদের পক্ষে কথা বলতে শোনেনি। তারা হিন্দুদের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তাই আমাদেরকে এসব বলতে হয়।

রানাদাশ গুপ্ত বলেন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন উচ্চ আদালতের রায় অনুসারে সমাধান করতে হবে। নতুন করে আর কোনো অর্পিত সম্পত্তি ঘোষণা করা যাবে না। বাংলাদেশ ভূমি আইন ২০২০ এর যে খসড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সবার মতামতে জন্য ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছিল। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মনে করে ওই আইন দেওয়ানী আদালতের ক্ষমতা খর্বকারী। খসড়া এই আইন দেশে অন্যান্য প্রচলিত আইন সংবিধান মানুষের জমির ন্যায্য অধিকার সাথে সাংঘর্ষিক ও বিবেচনায় নেয়ারও সম্পূর্ণ অযোগ্য।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ২০০১ এবং সর্বশেষ সংশোধনী রহিতকরণের সুপারিশ হাস্যকর অবিবেচনা প্রসূত ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের প্রতিধ্বনি প্রতিফলিত হয়েছে বলে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মনে করে। উচ্চ আদালত রায় দিয়েছিল আর কোনো সম্পত্তি অর্পিত ঘোষণা করা যাবে না। আর ভূমি কমিশন নতুন করে অর্পিত সম্পত্তি ঘোষণার মাধ্যমে উক্ত সম্পত্তিকে খাস করার সুপারিশ জানিয়েছে। যা অসংখ্য রায়ের পরিপন্থী ও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এদিন রানা দাশ গুপ্তের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সভাপতি ড.নিম চন্দ্র ভৌমিক, বাসু দেব ধর, মঞ্জু শ্রী ধর, কাজল দেবনাথ,, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।