শনিবার ঊনবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু

শনিবার ঊনবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুরু

নিউজ ডেস্ক :    মুজিব শতবর্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি উৎসর্গকৃত রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ-এর উদ্যোগে ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ এই শ্লোগানে আগামী শনিবার ১৬ থেকে ২৪ জানুয়ারি ২০২১ ঊনবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বরাবরের মতো এবারের উৎসবেও থাকছে এশিয়ান ফিল্ম প্রতিযোগিতা বিভাগ, রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগ, বাংলাদেশ প্যানারোমা, সিনেমা অফ দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেন ফিল্মস্, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস, শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম এবং উইমেন্স ফিল্ম মেকার বিভাগ। তবে উৎসবে এবারই প্রথম সংযুক্ত হচ্ছে ‘লিজেন্ডারি লিডারস হু চেঞ্জ দি ওয়ার্ল্ড’ এবং ‘ট্রিবিউট’ নামে আরও দুটি নতুন বিভাগ। যা এবারের উৎসবকে আরও উচ্চতর মাত্রা দেবে। এবারেরর উৎসবে মোট ৭৩টি দেশের ২২৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল বলেন, এবারের উৎসবে মিলনায়তনের পাশাপাশি অনলাইনেও চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ রয়েছে। লাকভেলকি অনলাইন প্লাটফরমে উৎসব চলাকালীন সময়ে নির্বাচিত চলচ্চিত্রগুলো দেখতে পারবেন। তবে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে চলচ্চিত্র উৎসব উপভোগ করতে পারবে।

তিনি জানান, রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ ১৯৭৭ সাল থেকে বাংলাদেশে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও আন্তর্জাতিক পরিবেশনার কাজ করে আসছে। আগামী ঊনবিংশ উৎসবে বাংলাদেশসহ ৭৩টি দেশের ২২৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে পূর্ণদৈর্ঘ্য (৭০ মিনিটের বেশি) চলচ্চিত্রের সংখ্যা ১০৭টি, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন চলচ্চিত্রের সংখ্যা ১২০টি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আছে ৪১টি। যার মধ্যে ৩৩টি স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন এবং ৮টি পূর্ণদৈর্ঘ্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হোসেন এবং বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনার মি. বিক্রম কে দোরাইস্বমী। এছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

উৎসবে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর স্থানসমূহ- জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন ও কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ও নৃত্যশালা মিলনায়তন, শিল্পকলার নন্দন থিয়েটার (মুক্তমঞ্চ), বসুন্ধরার স্টার সিনেপ্লেক্স এবং সীমান্ত স্কয়ার সিনেপ্লেক্স।

চলচ্চিত্র দেখার নিয়মাবলী

১. জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তন: সকাল ১০টা, দুপুর ১টা ও বিকাল ৩টার প্রদর্শনী শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে দেখতে পারবেন। সেক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে। এর বাইরে, সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য টিকেটমূল্য ৫০ টাকা।

২. কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তন: এখানে সকাল ১০টা থেকে শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। যেখানে অভিভাবকরাও শিশুদের সঙ্গে এই চলচ্চিত্রগুলো বিনামূল্যে উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া, সকাল ১০টা, দুপুর ১টা ও বিকাল ৩টার প্রদর্শনী শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে দেখতে পারবেন। সেক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে। এর বাইরে, সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য টিকেটমূল্য ৫০ টাকা।

৩. জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তন: এই মিলনায়তনের সব প্রদর্শনী সবাই বিনামূল্যে উপভোগ করতে পারবেন। আসন সংখ্যা সীমিত থাকায় আগে আসলে দেখবেন ভিত্তিতে আসন বণ্টন করা হবে।

৪. শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ও নৃত্যশালা: এখানকার প্রদর্শনীগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত। আসন সংখ্যা সীমিত থাকায় আগে আসলে দেখবেন ভিত্তিতে আসন বণ্টন করা হবে।

৫. শিল্পকলার নন্দনমঞ্চ: এখানকার প্রদর্শনীগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত।

এছাড়াও সত্যজিৎ রায়ের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আগামী ২০ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। ‘সত্যজিৎ রায়: জাতীয় ও বৈশ্বিক’ শিরোনামের মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মফিদুল হক। এই সেমিনারে আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান অভিনেত্রী শর্মীলা ঠাকুর, ধৃতমান চ্যাটার্জী, বিচারপতি রিফাত আহমেদ এবং চলচ্চিত্র সমালোচক মঈনুদ্দীন খালেদ।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, উৎসবের চেয়ারপারসন কিশোয়ার কামাল, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ, মহিউদ্দিন খালেদ, ম হামিদ, রফিকুজ্জামান প্রমুখ।