কোরীয় নারীদের যৌনদাসী করে রাখার অভিযোগে জাপানকে অর্থদণ্ড

কোরীয় নারীদের যৌনদাসী করে রাখার অভিযোগে জাপানকে অর্থদণ্ড

নিউজ ডেস্ক:   যুদ্ধকালে কোরীয় নারীদের জোর করে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগে জাপানকে অর্থদণ্ড করেছেন দক্ষিণ কোরীয় আদালত। শুক্রবার এক যুগান্তকারী রায়ে আদালত দক্ষিণ কোরিয়ার ১২ জন নারীকে ৯১ হাজার ডলার করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার ওই ১২ নারীকে কোরিয়ায় জাপানের ঔপনিবেশিক শাসনকালে দেশটির পতিতালয়ে যৌনদাসী হিসেবে আটক করে রাখা হয়েছিল। খবর আল জাজিরার

দক্ষিণ কোরিয়ার আদালতের এই রায় জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সিউলের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট আদালতে যৌন নিগ্রহের শিকার ওই নারীদের প্রত্যেককে ১০০ মিলিয়ন ওন দেওয়ার আদেশ হয়।

আদালত তার রায়ে বলেন, সব দলিল-দস্তাবেজ, প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, ভিকটিমরা চরমভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দেওয়া হলেও এটা নিশ্চিত করে বলা যায়, কোনো ক্ষতিপূরণই তাদের মানসিক যন্ত্রণার অবসান ঘটাতে পারবেন না।

১৯৬৫ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে একটি চুক্তি হয়। এছাড়া জাপানের যুদ্ধাপরাধ নিয়ে এটাই প্রথম কোনো বেসামরিক আদালতের দেওয়া রায়।

জাপান বলছে, ২০১৫ সালের চুক্তিপত্রে দু’দেশ তাদের অতীত তিক্ততা মিটিয়ে নতুন করে সবকিছু শুরু করেছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ায় যে জাপানিরা যুদ্ধাপরাধ করেছে, ভুক্তভোগী দক্ষিণ কোরীয় নারীরা তা ভুলতে পারছেন না।

শুক্রবারের রায়ে বিচারক কিম জিওং গন বলেন, এটা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। জাপানি বাহিনী এ অপরাধ করেছে সজ্ঞানে পরিকল্পিতভাবে। তাদের কাজ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি।

এদিকে, জাপানের প্রধান কেবিনেট সেক্রেটারি এই রায়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, এটা অপ্রত্যাশিত রায়। টোকিওতে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত গুয়ানকে ডেকে পাঠানো হয়।