কর্মসংস্থানের জন্য মানসম্মত শিক্ষা প্রয়োজন: এ. কে. আজাদ

নিউজ ডেস্ক:    কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য মানসম্মত শিক্ষার প্রয়োজনের কথা তুলে ধরে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ. কে. আজাদ বলেছেন, গতানুগতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে অনেকেই কর্মক্ষেত্রে গিয়ে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। এজন্য অভিভাবকের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাঠদানে অধিক মনোযোগী হতে হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে মঙ্গলবার চতুর্থ দিনের মতো জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ফরিদপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে শীতবস্ত্র বিতরণকালে এসব কথা বলেন তিনি।

ফরিদপুর সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে পৌর এলাকার শোভারামপুর, রাজবাড়ী রাস্তার মোড়, পশ্চিম খাবাসপুর, ভাজনডাঙ্গা ও ঝিলটুলীতে পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২৭টি ওয়ার্ডের শীতার্তদের হাতে কম্বল তুলে দেন প্রধান অতিথি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ. কে. আজাদ।

এসব অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে, তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সোনার বাংলা গড়ে তুলতে। তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে সেই স্বপ্নের অনেকটাই পূর্ণ হয়েছে। পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ পূর্ণতা পেতে চলেছে।’

এ. কে. আজাদ বলেন, ‘পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর এতদঞ্চলে শিল্প কারখানা স্থাপিত হবে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।’

এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন, যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঝর্ণা হাসান, কোতোয়ালি আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা, জেলা আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি মাসুদ, হা-মীম গ্রুপের পরিচালক বেলাল হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম নিরু, শাহ আলম মুকুল, মনিরুল হাসান মিঠু, মিয়া মঞ্জুর এলাহি পিরু, জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পদক নজরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল ফয়েজ শাহনেওয়াজ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম সেলিম, অ্যাডভোকেট বদিউজ্জামান বাবুল, অ্যাডভোকেট অনিমেষ রায়, কোতোয়ালি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামচুল আলম চৌধুরী, দিপক মজুমদার, মনির হোসেন, অ্যাডভোকেট জাহিদ ব্যাপারী, আবুল বাতিন, শওকত আলী জাহিদ, সোহেল রেজা বিপ্লব, আবু নাঈম, সাংবাদিক রাজিব খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুরাদ খন্দকার, মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন চৌধুরী মন্টু, সামসুল বারী সান প্রমুখ।

এ. কে. আজাদ আরও বলেন, ‘শুধু কম্বল দিয়ে মানুষের অবস্থার পরিবর্তন করা যাবে না, সে জন্য আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি করতে হবে। পদ্মা সেতু এই অঞ্চলের মানুষের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ; সেতু উদ্বোধনের আগেই আমরা এই অঞ্চলে কলকারখানা স্থাপন করে মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনতে চেষ্টা করব।’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা বলেন, ‘ফরিদপুরের আওয়ামী লীগ আজ ঐক্যবদ্ধ। আর সেটি সম্ভব হয়েছে আমাদের সহ-সভাপতি এ. কে. আজাদের এই শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। আমরা যারা জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা তাকে (এ. কে. আজাদ) নিয়ে ফরিদপুর সদরের প্রত্যেকটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার সব ওয়ার্ডে শীতবস্ত্র বিতরণ করলাম, তারাই আওয়ামী লীগের প্রকৃত কাণ্ডারি, আওয়ামী লীগ করতে হলে আমাদের নির্দেশ মেনে চলতে হবে।’

আওয়ামী যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা এ. কে. আজাদকে পাঠিয়েছেন ফরিদপুরের মানুষের উন্নয়ন ও তাদের সমস্যার সমাধানে কাজ করার জন্য। দলীয় প্রধানের এই সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন ও শ্রদ্ধা জানিয়ে জেলা আওয়ামী লীগসহ সব সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার পাশে আছি।’

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঝর্ণা হাসান বলেন, ‘ফরিদপুরে আওয়ামী রাজনীতির নেতৃত্ব শূন্যতা দূর করে অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে হাল ধরেছেন এ. কে. আজাদ। তার এই কর্মতৎপরতায় ফরিদপুর আওয়ামী লীগের সব অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণসঞ্চার হয়েছে।’