শেরপুরে ৯১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ

শেরপুরে ৯১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ

জাহিদুুল হক মনির, শেরপুর প্রতিনিধি:  শেরপুরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমনের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি আমন মৌসুমে জেলা সদরসহ ৫টি উপজেলায় ৯২ হাজার ৪৯৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিতও হয়। কিন্তু অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

জেলা কৃষি অধিদপ্তরের হিসাবমতে, প্রাকৃতিক দূর্যোগে জেলার কৃষকদের প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের আমন ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়। আর এ ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা হিসাবে বীজ ও সার দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বোরো আবাদে উৎসাহিত করা হচ্ছে কৃষকদের। ফলে আমন ধান কাটা ও মাড়াই শেষ হতে না হতেই আমনের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে কোমর বেধে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। তারা এখন বোরো ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঘনকুয়াশা আর কনকনে শীত উপেক্ষা করে চারদিকে মাঠে মাঠে চলছে এখন বোরো ধানের চারা রোপণের ধুম।

চলতি বোরো মৌসুমে জেলা সদরসহ ৫টি উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করে ৯০ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে। তন্মধ্যে শেরপুর সদর উপজেলায় ২৪ হাজার ৩৩৫ হেক্টর, শ্রীবরদীতে ২৬ হাজার ৮০৭ হেক্টর, ঝিনাইগাতীতে ২৩ হাজার ১৬২ হেক্টর, নালিতাবাড়ীতে ২২ হাজার ৭৫১ হেক্টর ও নকলায় ১৩ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমি রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর বোরো আবাদের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছে।

জানাগেছে, বোরো আবাদে সেচ সংকট দূরীকরণের লক্ষ্যে ৪টি রাবারড্যাম প্রস্তুত রয়েছে। রয়েছে ৩০৫টি গভীর নলকূপ। তন্মধ্যে ডিজেল চালিত ৪১টি, আর বিদ্যুৎ চালিত ২৬৪টি। অগভীর নলকূপ রয়েছে ১৮ হাজার ৫৯৫টি, তন্মধ্যে ডিজেল চালিত ১২ হাজার ৩৩৭টি, বিদ্যুৎ চালিত ৬ হাজার ২৫৮টি। এলএলপি ২৭৭টি, তন্মধ্যে ডিজেল চালিত ১৬৬টি, বিদ্যুৎ চালিত ১১১টি। কৃষকদের সার, বীজ ও কীটনাশকের যোগান দিতে বিসিআইসি’র ডিলার রয়েছে ৫৯ জন। বিএডিসি’র ১২৫জন। খুচরা বিক্রেতা ৪৫৭ জন। বিএডিসি বীজ ডিলার ১৫৮জন। কীটনাশক ডিলার পাইকারী ২৮ জন ও খুচরা ৯৯২ জন। এছাড়া পাওয়ার টিলারসহ অন্যান্য পর্যাপ্ত কৃষি যন্ত্রপাতি রয়েছে। খাদ্যে উদ্বিত্ত¡ এ জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব মতে খাদ্য গ্রহণকারির সংখ্যা ২৫ লাখ। চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যের প্রয়োজন ২ লাখ ৪৮ হাজার ২৬৪ মেট্রিকটন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকে প্রায় ৩ লাখ মেট্রিকটন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক ড. মোহিত কুমার দে বলেন, টেকসই ও লাভজনক ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি ও ফলপ্রসু বিকেন্দ্রীকৃত এলাকা নির্ভর চাহিদাভিত্তিক ও সমন্বিত কৃষি সেবা প্রদানের মাধ্যমে সকল কৃষকদের প্রযুক্তি জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিকরণে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ১৩৬ জন উপ-সহকারী কৃষি অফিসার নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষকদের।

তিনি আরও বলেন প্রস্তুতি অনুযায়ী বোরো আবাদ হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ কাটিয়ে উঠতে পারলে বোরো মৌসুমে আশানুরূপ ফলন ঘরে তুলতে পারবে কৃষকরা।