বিনামূল্যে টিকা পাবে দেশের সব মানুষ

দেশে করোনার টিকা দেওয়া শুরু ২৭ জানুয়ারি
দেশে করোনার টিকা দেওয়া শুরু ২৭ জানুয়ারি

নিউজ ডেস্ক:   বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা ব্যবহারের তালিকায় প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে একের পর এক দেশের নাম। অধীর অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশের মানুষও। প্রস্তুতি চলছে দেশের সব মানুষকে টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আনার। শুধু তাই নয়, দেশের পুরো জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে টিকা নিশ্চিত করতে কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। বাড়তি টিকা আমদানির জন্য সংশ্নিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। 

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা দ্রুততম সময়ে টিকা নিশ্চিত করার কাজ শুরু করেছেন। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার পাশাপাশি সম্ভাব্য আরও কয়েকটি টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট শুরুতে বাংলাদেশকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার তিন কোটি ডোজের বেশি দিতে রাজি হয়েছেন । একই সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে যোগাযোগ হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র বলছে, চীনের চংকিং জিফেই বায়োলজিক্যাল প্রডাক্টস লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আনুই জিফেই লংকম বায়োফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের (ট্রায়াল) প্রস্তাব দিয়েছে। টিকার ট্রায়ালের সব খরচ বহন করবে প্রতিষ্ঠানটি। ট্রায়াল সফল হলে বাংলাদেশে টিকার গবেষণার পাশাপাশি টিকা উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের উদ্যোগও নেবে প্রতিষ্ঠানটি। চীনের আরেক প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বাংলাদেশে টিকার ট্রায়ালের প্রস্তাব দিয়েছিল। বাংলাদেশ ওই টিকা ট্রায়ালে প্রস্তুতিও নিয়েছিল। কিন্তু শেষ সময়ে ট্রায়ালের জন্য বাংলাদেশের কাছে অর্থ দাবি করা হয়। সরকার ওই অর্থায়নে রাজি না হওয়ায় দেশে সিনোভ্যাকের টিকার ট্রায়াল আর হয়নি।

উল্লেখ্য, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার তিন কোটি ডোজ কিনতে গত ৫ নভেম্বর ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি করে সরকার। ভারত থেকে টিকা এনে বাংলাদেশে সরবরাহের জন্য সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে টিকার ৫০ লাখ ডোজ পাবে বাংলাদেশ। প্রতি ডোজ টিকার দাম পড়বে চার ডলার। ভ্যাট, ট্যাক্স ও টিকার বণ্টনসহ ব্যয় পড়বে পাঁচ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই টিকার দাম হবে ৪২৫ টাকা।

টিকাদানের প্রস্তুতি: টিকা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি গাইডলাইন তৈরি করেছে। প্রথমে করোনা চিকিৎসায় সরাসরি যুক্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকা পাবেন। পরে ধাপে ধাপে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী টিকার আওতায় আসবে। টিকা বণ্টনের জন্য সারাদেশে তিন স্তরে কমিটি গঠন করা হয়েছে। টিকা পেতে অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানে টিকা বিতরণের জন্য ১৫ ধরনের প্রায় ছয় হাজার ৩০০টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ১০ ও ২০ শয্যার হাসপাতাল, মা ও শিশু হাসপাতাল, পুলিশ হাসপাতাল, জাতীয় সংসদ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সচিবালয় ক্লিনিক ও সিটি করপোরেশন হাসপাতাল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও লাইন ডিরেক্টর ডা. হাবিবুর রহমান জানান, টিকা প্রদানের প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তুতি দ্রুতই শেষ হবে।